kalerkantho

বুধবার । ২৫ জানুয়ারি ২০১৭ । ১২ মাঘ ১৪২৩। ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৮।


কোহলির সঙ্গে তুলনা চান না টেন্ডুলকার

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কোহলির সঙ্গে তুলনা চান না টেন্ডুলকার

তেইশ বছরের সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে কতবারই তো কত তুলনার মুখে পড়তে হয়েছে শচীন টেন্ডুলকারকে। ক্যারিয়ারের ঊষালগ্নে তুলনা চলত সুনীল গাভাস্কারের সঙ্গে।

মাঝামাঝি পর্যায়ে এসে ব্রায়ান লারার সঙ্গে একটা দ্বৈরথ আর এখন অবসরে চলে যাওয়ার পর তুলনা টানা হচ্ছে বিরাট কোহলির সঙ্গে। অর্জুন এবং সারার বাবা অবশ্য এই তুলনা করা ব্যাপারটারই ঘোর বিরোধী। ভারতীয় একটি পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন সে কথা, একই সঙ্গে জানালেন কোহলিকে নিয়ে তাঁর মুগ্ধতার কথাও।

মুম্বাইয়ের বাসিন্দা হয়েও আজ মাঠে আসাটা অনিশ্চিত টেন্ডুলকারের, কারণ জরুরি কাজ আছে দিল্লিতে। সেটা সেরে কোহলি বনাম ক্রিস গেইল দ্বৈরথ দেখতে যদি চলে আসেন, তাহলে ম্যাচ শেষে কোহলির আরেক দফা কুর্নিশ পেয়েও যেতে পারেন মাস্টার ব্লাস্টার। ইডেনে পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ জিতিয়ে তাই তো করেছিলেন কোহলি, টেন্ডুলকারের কাছে যা ছিল খুব ‘টাচি’।

ইংল্যান্ড সফরে রান না পাওয়া কোহলি ছুটে এসেছিলেন টেন্ডুলকারের কাছেই, অনুশীলন মাঠে নিয়ে গিয়ে কী টিপস দিয়েছিলেন শত অনুরোধেও সেটা বলতে রাজি হননি। শুধু কোহলির ব্যাটিং নিয়ে এটুকু বলেছেন, ‘তুখোড় একটা সতর্ক মন আছে কোহলির, অনেকটা ইন্দ্রিয়ের মতো। ম্যাচের কোন পরিস্থিতিতে কোন বোলারের ওপর চড়াও হবে, কাকে দেখে খেলবে এই হিসাবটা নিখুঁতভাবে করে ফেলতে পারে। ’ একই সঙ্গে দিল্লির এই তরুণের ব্যাটের ধারাবাহিকতাও মুগ্ধ করেছে টেন্ডুলকারকে, ‘দায়িত্ব নিয়ে খেলছে এ তো বোঝাই যাচ্ছে, তবে যেটা মুগ্ধ হওয়ার মতো সেটা হচ্ছে ধারাবাহিকতা। ওর সম্পর্কে সবচেয়ে বড় বিশেষণ হচ্ছে ধারাবাহিকতা আর দায়বদ্ধতা। ’

এমন ধারাবাহিকতা ও দায়বদ্ধতা তো দুই যুগের বেশি দেখিয়েছেন টেন্ডুলকার। তবে কোহলির সঙ্গে কোনো তুলনায় যেতে রাজি নন টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে একশ সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটিং জিনিয়াস, ‘আমি কোনো তুলনায় যেতে চাই না। তুলনা আমার পছন্দ নয়। বিভিন্ন সময়কে মেলানো সত্যিই সম্ভব নয়। ক্রিকেটের নিয়ম বদলে যায়, বোলিং অ্যাটাক বদলে যায়, এক সমতলে ফেলবেন কী করে? বিচারটাই তো করা যাবে না। ’ তুলনায় না গেলেও কোহলিই যে এখন বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান, সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচের দিন শেন ওয়ার্নের সঙ্গে আমার ক্রমাগত এসএমএস আদান-প্রদান হচ্ছিল। ওয়ার্ন বলছিল ভারত পারবে বলে মনে হয় না আর যদি পারে তাহলে শেষ ওভারে ১০-এর মতো রান করতে হবে, যেটা সহজ নয়। আমি লিখেছিলাম, শেষ ওভারের জন্য বিরাট কখনোই এত রান ফেলে রাখবে না। তাই তো হলো!’

২০১১ বিশ্বকাপে একসঙ্গে খেলেছেন টেন্ডুলকার-কোহলি। বিশ্বকাপ জেতার পর কোহলি টেন্ডুলকারকে কাঁধে করে নিয়ে দিয়েছেন ভিক্টরি ল্যাপ। এমন অনুজ সম্পর্কে টেন্ডুলকারের একটাই পরামর্শ, ‘মনোযোগটা ধরে রেখে ক্রিকেটটা উপভোগ করতে বলব। ’ আনন্দবাজার


মন্তব্য