kalerkantho


মেসিতে আর্জেন্টিনার জয়, ড্র ব্রাজিলের

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মেসিতে আর্জেন্টিনার জয়, ড্র ব্রাজিলের

ঘরের মাঠ বলেই দুশ্চিন্তা বেশি ছিল আর্জেন্টিনার। চলতি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে একটি ম্যাচও যে জেতেনি নিজেদের মাঠে। তার ওপর এমন এক মাঠে খেলা ছিল, যেটা কনর্সাট আর বৃষ্টিতে ঘাস উঠে পরিণত হয়েছিল হাল চাষ করা জমিতে! ভয় ছড়ানো কর্দোবার সেই স্তাদিও মারিও আলবার্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে নান্দনিক ফুটবলের ফুল ফোটালেন লিওনেল মেসি। তাঁর পেনাল্টি গোলের সঙ্গে গাব্রিয়েল মেরকাদোর লক্ষ্যভেদে সব ভয় উড়িয়ে বলিভিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা।

অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ব্রাজিল। নেইমার না থাকায় প্যারাগুয়ের মাঠে মোটেও সুবিধা করতে পারেনি সেলেসাওরা। তবু যে শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র করে ফিরতে পেরেছে, সেটার জন্য অবশ্যই প্রশংসা পাবেন দানি আলভেস। ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে তাঁর অসাধারণ গোলে জয়ের সমান ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিল। তাদের সঙ্গে আগের ম্যাচে ড্র করা উরুগুয়ে ফিরেছে জয়ের পথে। ঘরের মাঠে লুই সুয়ারেসরা ১-০ গোলে হারিয়েছে পেরুকে। হারের ধাক্কা কাটিয়ে ভেনিজুয়েলার মাঠ থেকে ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে ফিরেছে চিলি।

আর ইকুয়েডরকে চলতি বাছাই পর্বে প্রথমবার হারের হতাশায় ডুবিয়ে কলম্বিয়া পেয়েছে ৩-১ গোলের সহজ জয়।

কর্দোবার ম্যাচে পাওয়া গেছে ছন্দময় আর্জেন্টিনাকে। পুরো ৯০ মিনিট ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল জেরার্দো মার্তিনোর শিষ্যদের অধীনে। বিশেষ করে দলের সেরা অস্ত্র মেসির পারফরম্যান্স ছিল দেখার মতো। ‘বার্সেলোনার মেসিকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে পাওয়া যায় না’—এমন মন্তব্য করা সমালোচকদের উঁচু গলা সম্ভবত এখন কিছুটা হলেও নীরব হবে গতকাল ভোরের জাদুকরী ফুটবলে। বলিভিয়ার তিন-চার খেলোয়াড়কে কাটিয়ে কখনো ঢুকে পড়েছেন ডি বক্সে। কখনো আবার প্রতিপক্ষের তিন খেলোয়াড়ের মধ্যে থেকে বল বের করে নিয়ে এসেছেন নিজের স্বভাবসুলভ ফুটবলে।

এই মেসির বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি কিকেই তৈরি হয় আর্জেন্টিনার প্রথম গোলের পথ। বলিভিয়ার বক্সের মধ্যে বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডের ফ্রি কিক থেকে পাওয়া বল গনসালো হিগুয়েইন মেরেছিলেন গোলমুখে। কিন্তু প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডার কোনোমতে দিলেন ঠেকিয়ে। তাতে অবশ্য শেষরক্ষা হলো না, বলটা আবার এসে পড়ে হিগুয়েইনের সামনে। নাপোলি স্ট্রাইকারের পাসে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন আগের ম্যাচেও গোল পাওয়া মেরকাদো। মিনিট আটেক পর আবার গোলোৎসবে মাতে স্বাগতিক সমর্থকরা। এভার বানেগাকে বক্সের মধ্যে ফাউল করে পেনাল্টি ‘উপহার’ দেন রোনালদ এগুইনো। স্পট কিক থেকে লক্ষ্যভেদ করে আর্জেন্টিনাকে দুই গোলের লিড এনে দেওয়ার সঙ্গে জাতীয় দলের জার্সিতে গোলের হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন মেসি।

এই জয়ে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা। যেখানে এবারের রাউন্ড শুরু করেছিল সেরা পাঁচের বাইরে থেকে। দুই ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারায় স্বভাবতই খুশি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী, ‘বলিভিয়া ও চিলিকে হারানো—আমাদের চাওয়া এটাই ছিল। অনেক নিচ থেকে ওপরে উঠে এসেছি। তাই বলে এখানেই শেষ নয়, যেতে হবে আরো অনেক দূর। ’

ব্রাজিল তো পাঁচের মধ্যেও নেই। ৯ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। এই জায়াগাতেও যে আছে, সেটা আসলে অনেকটা ভাগ্যের জোরে। ইনজুরি টাইমে আলভেসের গোলটা না হলে তো প্যারাগুয়ের মাঠ থেকে ফিরতে হতো হার নিয়ে! নিষেধাজ্ঞার কারণে নেইমার না থাকায় আক্রমণভাগ ছিল নড়বড়ে। রক্ষণটাও ছিল অগোছালো। ৪০ মিনিটে দারিয়ো লেসকানো ও ৪৯ মিনিটে এদগার বেনিতেসের দুটি গোলই হয়েছে ‘শিশুসুলভ’ রক্ষণের কারণে। ২ গোলে এগিয়ে থাকা প্যারাগুয়ে সমর্থকদের ৭৯ মিনিটে রিকার্দো অলিভেইরা লক্ষ্যভেদের পরও জয়ের স্বপ্ন দেখাটা বাড়াবাড়ি ছিল না। কিন্তু আলভেস-বীরত্বে শেষ হয়ে যায় সব। বিপরীতে ড্র করেও দুঙ্গার উচ্ছ্বাস ছিল জয়ের সমান। অন্তত ১ পয়েন্ট নিয়ে তো ফেরা গেল দেশে! এমন হতাশাজনক ড্রয়ের পরও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট প্যারাগুয়ে কোচ রামন দিয়াস, ‘এতে প্রমাণ হলো আমরা বড় দলের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা রাখি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার আমরা একটা দল হিসেবে বেড়ে উঠছি। ’

ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উরুগুয়ে। তাদের সমান ১৩ পয়েন্ট ইকুয়েডরেরও, তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে। ১০ পয়েন্ট নিয়ে চিলি উঠে এসেছে চতুর্থ স্থানে। সমান পয়েন্ট নিয়ে কলম্বিয়া পাঁচ নম্বরে। এএফপি


মন্তব্য