kalerkantho


দু প্লেসিস বলছেন দুঃস্বপ্ন

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দু প্লেসিস বলছেন দুঃস্বপ্ন

‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা আমাদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে’—বলেছেন ফাফ দু প্লেসিস। এক বছরের ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্ভাগ্য বয়ানের ‘মুখপাত্রই’ শুধু বদলেছে, আর কিছু নয়। গত মার্চেই অকল্যান্ডে এক দিনের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল হেরে অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সের কণ্ঠেও ছিল একই হাহাকার। আসলে ক্রিকেটের বড় কোনো আসরে প্রোটিয়াদের শেষ পর্যন্ত এ-ই পরিণতি। শেষ পর্যন্ত বিচার-বিশ্লেষণ ‘কেন হলো না’—তাই নিয়ে।

এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যে ম্যাচ হেরে সেমিফাইনালের স্বপ্ন মলিন হয়ে গেল প্রোটিয়াদের, সেই ম্যাচ শেষে ব্যাটসম্যানদের দুষেছিলেন দু প্লেসিস। তাহলে প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কী হয়েছিল? ২২৯ করেও যে তারা ম্যাচটা জিততে পারেনি। দু প্লেসিসের কাছে এখন সেই ম্যাচটাই দুর্ভাগ্যের মূলে, ‘২২৯ করে আমাদের জেতা উচিত ছিল। এ স্কোর করে টানা ১০ ম্যাচের একটি হয়তো হারা যায়। সেদিন আমাদের জেতাই উচিত ছিল। এ জন্য শুধু আমাদের নিজেদেরই দোষ দেওয়া যায়। ’ প্রোটিয়ারা সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পর একেবারে শেষ ম্যাচে যথার্থ খেলাটা খেলল। টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে মাত্র ১২০ রানে গুটিয়ে দিল, এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটের অনায়াস জয়। তৃপ্তির একটি ম্যাচই হওয়ার কথা সেটি। ২৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচে দারুণ ভূমিকা রাখা অ্যারন ফাঙ্গিসোর কথায় সেই তৃপ্তির চেয়ে দীর্ঘশ্বাসই বেশি, ‘এমন মরা একটা ম্যাচে পারফর্ম করা সত্যিই কঠিন। তবে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলছি, এটাই সবচেয়ে গৌরবের। ’ অনেক প্রতিভা, অনেক সম্ভাবনা নিয়েও সেই গৌরবটাকে আনন্দময় করে তোলা আর তাদের হচ্ছে না। এ বিশ্বকাপের আগেও তাদের শক্তিমত্তা কি প্রস্তুতির ঘাটতির কথা কিছু শোনা যায়নি। কিন্তু টুর্নামেন্টে দেখা গেল প্রতিটা ম্যাচে তারা ধুঁকছে। বিশ্লেষণে এখন অবশ্য অনেক ভুল আর অসামঞ্জস্যই বেরিয়েই আসছে। যেমন—দলটির আইকন ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্সের পজিশনই ঠিক করতে পারেনি তারা পুরো টুর্নামেন্টে। ফাস্ট বোলার ডেল স্টেইনকে দলে নেওয়াটাও এখন প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছে। যেহেতু টুর্নামেন্টের আগে প্রায় দুই মাস ইনজুরির কারণে তিনি কোনো ক্রিকেটই খেলতে পারেননি। আর ভারতের উইকেটগুলোতে সব দল স্পিনারদের ব্যবহার করে যেখানে বাজিমাৎ করে দিল, সেখানে প্রোটিয়া স্পিনারদের ঠিকঠাক ব্যবহার হয়নি বলেও সমালোচনা হচ্ছে। গত আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ইমরান তাহিরকে পর্যন্ত শুরুর পাওয়ার প্লেতে আনার সাহস করেননি দু প্লেসিস। যে কারণে এখন ‘রক্ষণশীল অধিনায়ক’ অধিনায়ক হিসেবেও তাঁর বেশ সমালোচনা হচ্ছে।

যদিও দু প্লেসিস নিজে এখনো ভেঙে পড়ছেন না। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলার সম্ভাবনা দেখেন—এমন প্রশ্নে এখনো তিনি ইতিবাচক, ‘চার বছর পর কী হবে কেউ জানে না। কিন্তু এই বিশ্বকাপ জেতাটা আমাদের কাছে আর সব কিছুর ঊর্ধ্বে। সেই স্বপ্ন সফল করতে আমি যেকোনো কিছুর জন্যই প্রস্তুত। ’ ক্রিকইনফো


মন্তব্য