kalerkantho


ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ হবে তো?

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ হবে তো?

আলোচনা আর যা কিছু নিয়েই হোক, শেষ হতে চলা মৌসুমের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ নিয়ে কিছুতেই নয়। ২০১৪ সালের ২২ এপ্রিল ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশের (সিসিডিএম) সভা এমন এক অলিখিত শর্ত জুড়ে দিয়েই হয়েছিল। ব্যাপক নিন্দিত সেই সভার পর সিসিডিএমের তখনকার প্রধান আ জ ম নাছির উদ্দিনও তাঁর বক্তব্যের জন্য কম সমালোচিত হননি। পরের মৌসুমের ক্রিকেট ক্যালেন্ডার নিয়ে আলোচনা করতে বসে তাঁরা ২০১৩-১৪ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ ‘গায়েব’ই করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ওভাবে একটি মৌসুম হারিয়ে যাওয়া নিয়ে জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি পাল্টা বলেছিলেন, ‘মৌসুমটা কী? মৌসুম বলতে কোনো শব্দ নেই। ’

দুই বছর পর এর প্রায় কাছাকাছি সময়ই চলছে এখন। আগের মতোই ক্রিকেট মৌসুম শেষ হওয়ার পথে, কিন্তু প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ নিয়ে আশ্বস্ত হওয়ার মতো খবর এখন পর্যন্ত নেই। তাই এমন শঙ্কা জাগাও অমূলক নয় যে ২০১৫-১৬ মৌসুমের লিগও আবার হারিয়ে যাবে না তো? এই প্রশ্নের জবাব যিনি সবচেয়ে ভালো দিতে পারতেন, সেই সিসিডিএমের বর্তমান প্রধান গাজী গোলাম মর্তুজা নিজেও পাকা কিছু বলতে পারছেন না। কাল শুধু এটুকুই বললেন, ‘৩১ মার্চের আগে আমি কিছুই বলতে পারছি না। ’

মৌসুমের শেষের দিকে এসে প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে এ অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়াটা আসলে শপথ ভঙ্গেরই শামিল। কারণ গত বছরের ২৪ আগস্ট ঘরোয়া ক্রিকেটকে আর বাধাগ্রস্ত না করারই শপথ নিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই সভার পর ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির তখনকার প্রধান নাঈমুর রহমানের মুখেই উচ্চারিত হয়েছিল সেই শপথ, ‘‘ঘরোয়া ক্রিকেটকে ‘ডিসটার্ব’ করে আমরা আর কিছুই করব না। ’’

বিশেষ করে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর প্রিমিয়ার লিগ সব সময়ই নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে এসেছে। কখনো কখনো ক্লাবগুলোর লিগ পেছানোর দাবির মূল যুক্তি হয়ে থাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচের ব্যস্ততা। জাতীয় তারকাদের ছাড়া তাঁরা খেলতে চান না। গত বছরের সভায় এটি নিয়ে বিশদ আলোচনার পর কঠোর এক নীতিমালাও ঠিক করার কথা জানিয়েছিলেন নাঈমুর, ‘‘আমরা চাইছি প্রত্যেক বছর যেন ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেন্ডার ওলটপালট না হয়ে যায়। যদিও ক্লাব বা ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক আসরে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের চাহিদা থাকেই। তবু বাস্তব কারণে এখন আমাদের একটি সিদ্ধান্তে আসতেই হয়েছে। এখন থেকে জাতীয় ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নির্ভর করবে শুধুমাত্র তাঁদের পাওয়ার ওপরে। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেট একটা জায়গায় থাকবেই। চারটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টকে ‘ফিক্সড’ রেখে বাকিগুলো করা হবে। ’’

কিন্তু বাকিগুলো হয়ে গেলেও প্রিমিয়ার লিগটা হচ্ছেই, সে নিশ্চয়তা নেই। যদিও গত বছরের সভাতেই ১১ মার্চ এটি শুরুর তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু এই সময়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ব্যস্ত থাকবেন বলে ক্লাবগুলো ঠিকই আপত্তি জানিয়ে বসে থাকে। এখন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ফিরেছেন, তবু অন্য ছুতোয় লিগ ঠিকই ঝুলে আছে। সিসিডিএম প্রধান যে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় নিচ্ছেন, তার কারণ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের অপেক্ষা। একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি দেশে ফিরলেই ক্লাবগুলোর আর্থিক দাবি-দাওয়া পেশ করা হবে নাজমুলের কাছে। সেই দাবি পূরণ করা হলেই কেবল ক্লাবগুলো প্রিমিয়ার লিগ খেলবে, তাদের এমন অবস্থানের কথাও এখন আর অজানা নেই।

সিসিডিএমের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব আমিন খান যেমন ‘রেইনি সিজন’-এর দোহাই দিয়ে ক্লাবগুলোর অদ্ভুত দাবির কথা স্বীকারও করেছেন, ‘বৃষ্টির মৌসুমও এসে গেল প্রায়। এই সময়ে রিজার্ভ ডে রাখাও খুব জরুরি। সেটি রাখতে গেলে আবার ক্লাবগুলোর শিবির চালানোর খরচ বেড়ে যায়। সে জন্যই ক্লাবগুলো বিসিবির কাছে বিপিএলের লভ্যাংশ থেকে অনুদান চাইছে। প্রথম বিপিএলের লভ্যাংশ থেকেও কিন্তু বোর্ড টাকা দিয়েছিল। সুপার লিগের দলগুলো পেয়েছিল ৩৫ লাখ আর অন্যরা ২৫ লাখ করে। ’ আশ্চর্যের বিষয়, ক্লাবগুলোর বিপিএলের লাভের গুড় খাওয়ার পিঁপড়ে হয়ে যাওয়াকে সংগঠকদের অনেকে অনৈতিকও বলছেন না। তবে সবাই একরকম নন, ব্যতিক্রমও আছেন। তবে মোহামেডানের ক্রিকেট কমিটির সম্পাদক মাসুদুজ্জামানের বক্তব্যের সঙ্গে ক্লাবের ডিরেক্টর ইন চার্জ ও বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূইয়া কতটা একমত হবেন, তা নিয়ে ঘোরতর সংশয়ও আছে। মাসুদ বলছিলেন, ‘ঢাকা লিগের এই দারিদ্র্যসুলভ মানসিকতা দূর করতে হবে। একসময় তো ঢাকার ক্লাবগুলোই বাংলাদেশের ক্রিকেট চালাত। ক্লাব সংগঠকরাই নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে ক্রিকেটকে আজ এখানে নিয়ে এসেছেন। আর ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের খেলোয়াড় বের করতে লিগও দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করা জরুরি। ’

ক্লাব স্বার্থের ক্রিকেটে তিনি ব্যতিক্রমই!


মন্তব্য