kalerkantho


প্লে-অফ না জিতলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই!

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্লে-অফ না জিতলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এএফসির নতুন ফরম্যাটের এমন মহিমা যে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ভরাডুবি হলেও সব শেষ হয়ে যায় না। খোলা থাকে এশিয়ান কাপের দুয়ার।

মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ বাছাই শেষ করা বাংলাদেশের জন্যও এই দুয়ার খোলা। এ সুযোগ নিতে পারলে ভালো, নইলে ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত এএফসি-ফিফার কোনো টুর্নামেন্ট কিংবা ম্যাচ খেলতে পারবে না বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সর্বশেষ ম্যাচে জর্দানের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। ৮-০ গোলের এই হারে আরেক দফা প্রকাশ পেয়েছে দেশের ছন্নছাড়া ফুটবলের ছবি। গোলের হিসাব করলে ‘বি’ গ্রুপের বাছাইয়ে খেয়েছে ৩২ গোল, দিয়েছে মাত্র ২টি। তার মধ্যে একটি ম্যাচে ১-১ গোলে ড্রয়ের অবদান আছে, ওই গোলের জোরে দেশের মাটিতে তাজিকিস্তানের সঙ্গে ড্র করে ১ পয়েন্ট অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের। পাঁচ দলের গ্রুপে পঞ্চম হয়েছে। বাছাই পর্বের প্রত্যেক গ্রুপের পঞ্চম দল এবং গ্রুপের শেষের দিকের চার দল (চার সেরা চতুর্থ দলের পরে) নিয়ে হবে নতুন ফরম্যাটে এশিয়ান কাপ বাছাই। মোট আট গ্রুপে খেলা হলেও একটি গ্রুপে চারটি দল তাই সাত গ্রুপের সাত পঞ্চম দল এবং তার সঙ্গে গ্রুপের পেছনের দিকে থাকা চার চতুর্থ দল মিলিয়ে মোট ১১ দলের প্লে-অফ শুরু হবে আগামী জুনে।

ড্র হবে ৭ এপ্রিল। এএফসির ফরম্যাটে প্লে-অফ উতরানো আট দল এশিয়ান কাপের বাছাই খেলা শুরু করবে তৃতীয় রাউন্ড থেকে।

প্লে-অফ পর্বে এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলো থাকবে না বলে এখানে সম্ভাবনার জায়গা আছে। প্রশ্ন হলো বাফুফে কি এই সম্ভাবনাটা দেখছে? বাফুফের জাতীয় দল কমিটির সদস্য বাদল রায় যেন হতাশার অন্ধকারে ডুবে আছেন, তিনি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ব্যর্থতার জায়গাগুলো আগে চিহ্নিত করতে চান, ‘বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আমরা কী করেছি, এটারই একটা বিশ্লেষণ হওয়া দরকার আগে। আমি বলব, খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে তৈরি করা হয়নি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের জন্য। যখন যে কোচ পাওয়া গেছে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে জাতীয় দল। তাদের পারফরম্যান্সের কোনো বিচার-বিশ্লেষণ নেই। কী দেখে কোচ নিয়োগ দেওয়া হয়, সে নিয়েও প্রশ্ন আছে। খেলোয়াড়দের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা তো আছেই। ’ এ দেশের ফুটবলারদের সামর্থ্য যে উপমহাদেশীয় টুর্নামেন্টে শ্রেষ্ঠত্বের অনেক নিচে, সেটা প্রমাণিত সত্য। প্রশ্ন আছে কোচদের সামর্থ্য নিয়েও, গত জুন থেকে এ পর্যন্ত দশ মাসের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাফুফে কোচ বদলেছে তিনবার। ডাচ কোচ লোডউইক ডি ক্রুইফকে পালটে নেওয়া হয়েছিল ‘পাগলাটে’ ইতালিয়ান ফাবিও লোপেজকে। দুই ম্যাচের পর তাঁর জায়গা নেন স্প্যানিশ গঞ্জালো সানচেজ মরেনো। খেলোয়াড় হিসেবে বার্সেলোনার একাডেমিতে কয়েক বছর কাটিয়েছেন, এটাই তাঁর বড় যোগ্যতা!

এই স্প্যানিশ কোচের হাতেই পেয়েছে জর্দানের বিপক্ষে ৮-০ গোলের বড় পরাজয়। দলনেতা হিসেবে বাদল রায় আম্মানে মাঠে বসে খেলা দেখে সন্তুষ্ট হতে পারেননি, ‘আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে আমরা ৬-১ গোলে হেরেছিলাম, তুলনা করলে জর্দানের চেয়ে ওরা অনেক কঠিন প্রতিপক্ষ। ওই ম্যাচে আমরা বলই ধরতে পারিনি। আর জর্দানের সঙ্গে আমাদের কৌশলগত ভুলেই ৮ গোলে হেরেছি। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জামাল ভুঁইয়া খুব বাজে খেলেছে। মাঝখান দিয়ে তারা যেসব অ্যাটাক করেছে সবগুলোই গোল পেয়েছে। আমাদের দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার কাউকে আটকাতে পারেনি। এরকম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে আমরা চার ডিফেন্ডার নিয়ে নেমে ভুল করেছি। ’ এই দলনেতার রিপোর্টে কোচের ইস্যুটা উল্লেখ থাকবে। কোচ-খেলোয়াড়দের এমন অবস্থার মধ্যে বাদল রায়ও এশিয়ান কাপ বাছাই নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারেন না, ‘দুই বছরে যেখানে জাতীয় দলের কোনো পারফরম্যান্স নেই সেখানে হঠাৎ করে কিছু বলাও কঠিন। তবে এরকম মিশনে নামার আগে অবশ্যই ফুটবল ফেডারেশনে অন্তত সাত দিন একনাগাড়ে আলোচনা হওয়া দরকার এ নিয়ে। একটা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দরকার। ’ সেটা করতেই হবে। প্লে-অফ নিয়ে পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। মাঠের ফলের জন্য সবই করতে হবে। প্লে-অফ উতরাতে না পারলে আগামী তিন বছর এএফসি-ফিফার কোনো ম্যাচ কিংবা টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পাবে না বাংলাদেশ।


মন্তব্য