kalerkantho


যে কারণে উপেক্ষিত নাসির

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



যে কারণে উপেক্ষিত নাসির

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দেশে ফেরার পর বেশ কয়েকবারই মাশরাফি বিন মর্তুজার মুখে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেন পর্বের দুটি ম্যাচ ‘ফিনিশ’ করে আসতে না পারার দুঃখের কথা শোনা গেল। গতকাল সকালে এর সমান্তরালেই অধিনায়ককে পড়তে হলো একসময়ের ‘দ্য ফিনিশার’ খ্যাত নাসির হোসেনকে নিয়ে প্রশ্নের মুখেও।

‘একসময়ের’ই কারণ ইদানীং আর ব্যাট হাতে ‘ফিনিশ’ করার সুযোগটা পাচ্ছেন কই তিনি! প্রত্যেক ম্যাচের একাদশ নির্বাচনের সময় বরাবরই উপেক্ষিত হয়ে আসছেন কখনো কখনো কার্যকর অফস্পিনেও দলের জন্য ভীষণ প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠা এ খেলোয়াড়। যা নিয়ে তাঁকে সমবেদনা জানাতে যাওয়া এক সংবাদকর্মীই নাসিরের মনোবেদনাটা সবচেয়ে ভালো বুঝেছেন, ‘আমাকে কিছু জিজ্ঞেস কইরেন না তো। আমার কিছুই ভালো লাগছে না। ’

খেলতে গিয়ে শুধুই সফরসঙ্গী হয়ে থাকাটা ভালো লাগার ব্যাপার নয় মোটেও। বিশেষ করে তাসকিন আহমেদের বদলি হিসেবে গিয়েই শুভাগত হোম তিন-তিনটি ম্যাচ খেলে ফেললেও টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচটিই আপাতত নাসিরের শেষ ম্যাচও হয়ে থাকছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সেই ম্যাচের পর থেকে তিনি শুধুই দর্শক। যদিও ভারতের বিপক্ষে ৩ বলে ২ রানের প্রয়োজন মেটাতে না পারার হূদয় ভাঙা গল্পের পর ‘ফিনিশ’ করার ক্ষেত্রে নাসিরের প্রয়োজনীয়তার কথা একটু বেশিই যেন উচ্চারিত হতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে এ প্রশ্নও উচ্চকিত হতে শুরু করেছে যে কেন তিনি খেলছেন না? এমন প্রশ্নে মাশরাফির জবাব, ‘একাদশ নির্বাচনে তো এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয় না। সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কম্বিনেশনের কারণেই ওকে খেলানো যায়নি। আমি এতটুকুই বলব, কম্বিনেশনে নাসিরও আসতে পারত। কিন্তু সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ওকে খেলানোর পক্ষে ছিল না। ’

সবার সিদ্ধান্ত পক্ষে না গেলেও মাশরাফি যে বিপক্ষে ছিলেন না, সেটি আরো স্পষ্ট হয় অধিনায়কের এ কথায়, ‘খেয়াল করলে দেখবেন, ২০১৫-র বিশ্বকাপ থেকে ব্যক্তিগতভাবে আমিও নাসিরকে অনেক সমর্থন করেছি। ও খুবই কার্যকর খেলোয়াড়। আশা করব ও নিজের খেলায় আরো উন্নতি করবে এবং বাংলাদেশ দলে অনেক দিন খেলবে। ’ যদিও দলীয় সূত্রের খবর, সহসাই নাসিরের খেলার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণই। কারণ হেড কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে যে তাঁর ওপর ভীষণ চটে আছেন। আর সেই চটে থাকার পেছনে যুক্তিই বেশি দেখাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। নেদারল্যান্ডস ম্যাচে ৭ বলে মাত্র ৩ রান করা নাসির বোলিংয়েও তেমন সুবিধা করতে পারেননি। ১ উইকেট পেলেও ২ ওভারে ২৪ রান খরচ করা এ অফস্পিনার সাকিব আল হাসানের বলে সহজ একটি ক্যাচ ফেলেও কোচের বিরক্তির কারণ হয়েছেন। তবে সূত্র জানাচ্ছে, ডাচদের বিপক্ষে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স হাতুরাসিংহের বিরাগভাজন হওয়ার প্রধানতম কারণ কিছুতেই নয়।

বরং কোচের ‘গুড বুক’ থেকে নাসিরের নাম কাটা যাওয়ার কারণ নাকি ভিন্ন। পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে তাঁর বুক চিতিয়ে ব্যাটিং করার দৃঢ়তার অভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে দলেই। তবে এর চেয়েও বড় অভিযোগ হলো নাসির এখন আর অতটা ‘সিরিয়াস’ নন, যতটা হলে কোচের সুনজরে পড়া যায়। দলেরই একজন এমনও বললেন, ‘নাসির সিরিয়াস নয়। কোচের আপত্তির জায়গাটা এখানেই। বস আপনার ওপর মনঃক্ষুণ্ন হলে আপনি কী করবেন? নিশ্চয়ই যেকোনো মূল্যে তাঁকে খুশি করতে চাইবেন। কিন্তু নাসিরের মধ্যে বাড়তি কিছু করার সেই চেষ্টাই নেই। ঐচ্ছিক অনুশীলনের দিন তো দলের অনেকেই মাঠে যায় কিন্তু নাসির কোনোদিনও নয়। ’ নেদারল্যান্ডস ম্যাচের ক্যাচ ফেলায়ও এসবের যোগ আছে বলে বিশ্বাস আছে। কোচ তাই সফরসঙ্গী বানিয়ে, বসিয়ে রেখে, না খেলিয়ে এবং হুট করে উড়ে যাওয়া শুভাগতকে নামিয়ে দিয়ে সম্ভবত ‘সিরিয়াস’ হওয়ার বার্তাই দিতে চাইছেন নাসিরকে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এটিকে উপেক্ষা না বলে বরং তাঁকে দেওয়া ‘শিক্ষা’ই বলা চলে। কিন্তু নাসির সেই শিক্ষাটা নিচ্ছেন তো?


মন্তব্য