kalerkantho

25th march banner

এই দলের কাছে ভালো কিছু আশাও করিনি

জর্দান থেকে ৮-০ গোলে হারের লজ্জা নিয়ে ফিরছে জাতীয় দল। আর ১ গোল বেশি হলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ডই হয়ে যেত সেটি। কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে জাতীয় দলের এই অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক ফুটবলার ইমতিয়াজ সুলতান জনি

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এই দলের কাছে ভালো কিছু আশাও করিনি

-----মুখোমুখি প্রতিদিন

 

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : জর্দানে জাতীয় দল ৮-০ গোলে হারবে ভাবতে পেরেছিলেন?

ইমতিয়াজ সুলতান জনি : একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল বলব না। কারণ যেমন ভাঙাচোরা একটা দল খেলতে গিয়েছিল তাতে খুব বেশি আশা করিনি। বরং শঙ্কাটাই বেশি ছিল, কত বাজেভাবেই না যেন তা হারে। শেষ পর্যন্ত এটাই হয়েছে। তার পরও ৮-০ গোলের স্কোরলাইনটা আমার কাছে ধাক্কার মতোই লেগেছে। কারণ অনেক দিন তো এমন হার নেই আমাদের। ফুটবলের জন্য এটা তাই মোটেও ভালো খবর না।

প্রশ্ন : সর্বশেষ সাফ থেকে ফুটবলে কিন্তু টানা ব্যর্থতার খবরই আসছে...

ইমতিয়াজ : আমরা বলছি না আহামরি কিছু করে দেখাতে হবে। কিন্তু ন্যূনতম একটা মান ধরে রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক ব্যর্থতাগুলো থেকে আবার প্রকাশ পেয়েছে আমাদের ফুটবলের ভিত্তিটা এখনো দুর্বল।

প্রশ্ন : গত ৮-১০ বছরে ফুটবলে আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু পেয়েছিলেন কি?

ইমতিয়াজ : পেয়েছিলাম। সালাউদ্দিন ভাইরা দায়িত্ব নিয়ে যখন লিগটা নিয়মিত করলেন তখন মনে হয়েছে—এ দিয়ে ইতিবাচক কিছু একটা হবে। কিন্তু হলো না যে, তার কারণ সমানতালে পারিপার্শ্বিক অবস্থাটা তিনি পাল্টাতে পারেননি। সারা দেশেই খেলাটা অনিয়মিত হয়ে গেছে, সেটা তিনি ফেরাতে পারেননি, নতুন খেলোয়াড় বের করে আনার ব্যাপারেও তাঁর সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা দেখিনি। ১০-১১ বছর থেকেই ফুটবলারদের পরিচর্যা করতে হয়। কিন্তু এই পর্যায়ে আমাদের কোনো কাজই নেই।

প্রশ্ন : আপনাদের সময়ও খুব বেশি পরিকল্পনা ছিল না, কিন্তু খেলার মান তো এগোনো ছিল?

ইমতিয়াজ : আমাদের সময় অনেক ন্যাচারাল ট্যালেন্ট ছিল। ব্যক্তিগত প্রতিভার ঝলকে তখন অনেক ঘাটতিই আড়ালে পড়ে গেছে। এখন খেলায় সেই মান নেই আবার বাফুফেরও অগোছালো পরিকল্পনা। দুইয়ে মিলে খেলাটা এগোচ্ছে না।

প্রশ্ন : খেলোয়াড়দের দায়বদ্ধতা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে, তাঁদের ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?

ইমতিয়াজ : প্রথম কথা খেলোয়াড়রা যে মান নিয়েই খেলছেন, তাতেই ওরা বেশ ভালোভাবে দাম পেয়ে যাচ্ছেন দলবদলের বাজারে। ফলে নিজেদের উন্নতির তাগিদটা বোধ হয় ওদের মধ্যে নেই। আর যে দায়বদ্ধতার কথাটা বললেন, তাতে টিম ম্যানেজমেন্টেরও অনেকখানি দায় আছে বলে আমার মনে হয়। একসঙ্গে এতগুলো খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করতে হলো কেন আমাদের। তারা তো অনেক দিন ধরে খেলে আসছে। এত দিন তাদের কোনো দোষ ধরা পড়েনি! টিম ম্যানেজমেন্টই কি তাহলে দুর্বল। এসব কিছুও এখন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


মন্তব্য