kalerkantho


কখনো দুর্দান্ত কখনো বাজে

কলকাতা থেকে প্রতিনিধি   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কখনো দুর্দান্ত  কখনো বাজে

ছোট্ট করে হাসেন চন্দিকা হাতুরাসিংহে। এরপর উত্তরটা দেন দারুণ করে। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পুরো অভিযানকে তিনি নিয়ে আসেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের খোলসে। এই একটি ম্যাচেই যে প্রতিফলিত তাঁর দলের টুর্নামেন্ট!

‘আজকের ম্যাচ আমাদের গোটা বিশ্বকাপ অভিযানের প্রতীকী বলতে পারেন। শুরুতে আমরা মাঠে ছিলাম, তবে ফিল্ডিংয়ে ছিল না প্রাণ। আবার দারুণ কিছু মুহূর্তও এসেছে, বোলাররা ভালো করেছে। এটাই তুলে ধরছে আমাদের গোটা বিশ্বকাপ অভিযানকে। কখনো আমরা ছিলাম দুর্দান্ত, কখনো লড়িয়ে, কখনো বাজে’—বাংলাদেশে জাতীয় দলের কোচের এই বিশ্লেষণের সমালোচনার সুযোগ সামান্য। মূল পর্বের প্রথম ও শেষ ম্যাচে বাজেভাবে হারে বাংলাদেশ। মাঝের দুটিতে লড়াই করে দারুণভাবে। এর মধ্যে ভারতের কাছে পরাজয় হজম করতে সময় লাগবে আরো অনেক দিন। ঠিক তেমনিভাবে কাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাতেও ম্যাচের লাগাম বেশ কয়েকবার আসে মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের কাছে। কিন্তু সেটি আর ধরে রাখতে পারে কই! ৭০ রানে অলআউট হয়ে ৭৫ রানের বড় পরাজয়ের পরিণতি তাই বাংলাদেশের।

আগের ম্যাচে ভারতকে কাঁপিয়ে দেওয়া দলটি কাল অমন এলোমেলো কেন? আগের খেলার প্রভাব কি ছিল? হাতুরাসিংহে সরাসরি কোনো মীমাংসার পৌঁছতে পারেন না, ‘ভারত ম্যাচের হতাশার প্রভাব আছে কি না, তা বলা মুশকিল। তবে ওই ম্যাচে ওভাবে হেরে যাওয়া হজম করা কঠিন। কিন্তু আমি এটা বলতে পারছি না যে, ওই ম্যাচের প্রভাব আজকে পড়েছিল। আমরা কিছু কিছু সময় ভালো বোলিং করেছি। ফিল্ডিংয়ে অবশ্য কিছু সুযোগ হাতছাড়া করেছি। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাটিং করতে পারিনি। ’ নিউজিল্যান্ড ১৪৫ রান করার পরই বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে যায় বলে পরোক্ষে বলে যান কোচ, ‘এটি ১৪০ রানের উইকেট নয়। হয়তো ১২০-১৩০ রানের উইকেট। প্রথম ৪-৫ ওভার থেকেই বল নিচু হচ্ছিল। বলের শক্তভাব কেটে গিয়েছিল এবং দুরকম গতির ছিল। নিউজিল্যান্ডের কৃতিত্ব অবশ্য কেড়ে নিচ্ছি না আমরা। ওদের বোলাররা কন্ডিশন বুঝে দারুণ বুদ্ধিমত্তায় বোলিং করেছে। তবে দিনশেষে আবারও বলতে হবে, আমাদের ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচ ঠিক ছিল না। ’ তবে সামগ্রিক অর্থে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সে তিনি হতাশ নন, ‘আমরা কন্ডিশন বুঝে ভালোই ব্যাট করেছি এই টুর্নামেন্টে। আজ বাদে অন্য ম্যাচগুলোয় খারাপ করিনি। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে শুরুতে আরেকটু রান করলে ভালো হতো। এই ম্যাচ বাদ দিলে ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচে আমি খুশিই। ’

বিশ্বকাপের মূল পর্বের সবগুলো ম্যাচ হারল বাংলাদেশ। তবে উন্নতির আলোর রেখা দেখছেন হাতুরাসিংহে, ‘অবশ্যই সব ম্যাচ হেরেছি বলে আমরা হতাশ। তবে দুটি ম্যাচ আমরা খুব কাছে গিয়েছি, জিততেও পারতাম। টি-টোয়েন্টিতেও উন্নতির প্রমাণ আমরা রেখেছি। আগে এই ফরম্যাটে ভালো দল ছিলাম না। এবার কঠিন গ্রুপে ভালো লড়াই করেছি। ’ ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের গ্রুপে পড়েও ভালো খেলায় ভবিষ্যতে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ভালো দল হয়ে উঠবে বলে আশা কোচের, ‘দু-এক বছর আগের তুলনায় আমরা অনেক উন্নতি করেছি এখানে। আগে আমাদের গড় স্কোর ছিল ১৩৫-১৩৫, এখন সেটা আরো বেশি। তাও এই কঠিন উইকেটে। আমাদের বোলিং ভালো হয়েছে। ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উন্নতি হয়েছে অনেক। আর ফল তো একসময় আসবেই। এত দ্রুত ফল পাওয়া কঠিন। কারণ অন্য দলগুলোও অনেক ভালো, অনেক ভালো ক্রিকেটার আছে তাদের। মনে রাখতে হবে, আমাদের গ্রুপটা সহজ ছিল না। ’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কালকের ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং। রস টেলর পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলনে প্রবল প্রশংসায় ভাসিয়ে দেন ৫ উইকেট নেওয়া এই পেসারকে, ‘অসাধারণ বোলার। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে দারুণ বোলিং করেছে। ওর একেবারে নিজস্ব একটি স্লোয়ার ডেলিভারি রয়েছে। নতুন যে কারো পক্ষে ওকে খেলা খুব কঠিন। ’ মুস্তাফিজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হাতুরাসিংহেও, ‘ও খুবই চতুর বোলার। এমন কিছু বৈচিত্র্য ওর আছে, যা অন্যদের নেই। সে এসব খুব চতুরভাবে ব্যবহার করছে। বৈচিত্র্যগুলো খুব ভালোভাবে মেলে ধরে সে। আজ দারুণ ছিল ওর পারফরম্যান্স, উইকেটও ওর জন্য আজকে আদর্শ ছিল। ’

কিন্তু মুস্তাফিজের জন্য হলেও বাংলাদেশের জন্য শেষটা যে আদর্শ হয় না!


মন্তব্য