kalerkantho


তাসকিনের ভাঙা মনে ফেরার প্রতিজ্ঞা

২৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তাসকিনের ভাঙা মনে ফেরার প্রতিজ্ঞা

কাল দেশে ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ। সম্প্রতি বোলিং অ্যাকশন নিষিদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের এই পেসারের, ভেস্তে যায় বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতেই তাঁকে দলে ফেরানোর আইনি পদক্ষেপও। হতাশা নিয়েই দেশে ফিরে তাসকিন জানালেন, সামনে বোলিং অ্যাকশনে শুদ্ধি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াটাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।

বিমানবন্দরে তাসকিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘যা হয়ে গেছে সেটা হয়েই গেছে। একটাই লক্ষ্য এখন। সামনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। সবার দোয়া থাকলে আবার সব ঠিক হয়ে যাবে। ’ নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতের বিপক্ষে খেলতে পারেননি, খেলা দেখেছেন টিভিতে। খেলতে না পারার দুঃখের সঙ্গে এমন হৃদয়ভাঙা হারে প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছেন তাসকিনও, ‘ম্যাচে একটুর জন্য জিততে না পারাটা খুব কষ্ট দিয়েছে। সবাই কষ্ট পেয়েছে। আমার খুব খারাপ লেগেছিল। কারণ সবাই যখন খেলছে তখন আমি হোটেলে বসে খেলা দেখছিলাম। তবে আমরা ভালো খেলছি। এটা চিন্তা করলেই হয়, আগে আমরা টি-টোয়েন্টিতে কেমন খেলতাম আর এখন কেমন খেলি। ’ বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক ওঠায় মানসিকভাবে নিজে যে খুব স্বস্তিতে নেই তাসকিন, এটা তো অনুমিতই। বিমানবন্দরে লুকাতে পারেননি সেই কষ্ট, ‘সবার জন্যই এটা একটা ধাক্কা লাগার মতো বিষয়। শুধু আমি না, যেকোনো বোলারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কথা উঠলে বোলারের গায়ে লাগবেই। ’ তবে এই সংকটকালে বোর্ডের ইতিবাচক ভূমিকার কথা জানাতেও ভোলেননি তাসকিন, ‘দেশবাসীর যে সমর্থন আর ভালোবাসা দেখলাম আর বিসিবি যে সমর্থন দিচ্ছে তাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটার হতে পেরে আমি গর্বিত। ’

মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডের বাড়িতে ফিরছে আদরের ছেলে, তবু বাবার মুখে হাসি নেই। কারণ দলের খেলা শেষ হওয়ার আগে, আইসিসির নিষেধাজ্ঞা মাথায় নিয়েই যে তাসকিনের বাড়ি ফেরা। আব্দুর রশীদ তবু ভেঙে পড়েননি হতাশায়, কালের কণ্ঠকে মুঠোফোনে জানালেন, ‘আমার ছেলে এমন কোনো কিছু করেনি যে আমার মাথা নিচু হয়ে যাবে। ’ ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাদের ভূমিকার জন্য, ‘বোর্ড যে ভূমিকা নিয়েছে সেটা অতুলনীয়। মাত্রই তো সে দেশে এলো, খেলোয়াড়সহ অন্যরা প্রায় সবাই তো ভারতে। তাঁরা ফিরলে বসেই সিদ্ধান্ত নেবেন কবে নাগাদ সে পরীক্ষা দিতে যাবে। ’ তার আগ পর্যন্ত আদরের ছেলেকে কাছেই পাবেন রশীদ, কিন্তু তাতে যে মিশে থাকবে কষ্টের নীল বেদনাও।


মন্তব্য