kalerkantho


অন্যায় করা হয়েছে আমাদের সঙ্গে

বললেন নাজমুল হাসান

কলকাতা থেকে প্রতিনিধি    

২৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অন্যায় করা হয়েছে আমাদের সঙ্গে

বিষাদের ক্যানভাসে বিষণ্ন একজন হয়ে সেদিন এসেছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ‘অবিচার’ শব্দটি বাতাসে উড়ে বেড়িয়েছে ঠিক। তবু তাসকিন আহমেদকে হারিয়ে ক্রোধের চেয়ে আর্তনাদটাই মূর্ত ছিল বাংলাদেশ অধিনায়কে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসানের ব্যাপার আবার তেমন নয়। এই ইস্যু নিয়ে কাল গণমাধ্যমের সামনে আসেন রীতিমতো বিপ্লবের ঝাণ্ডা উড়িয়ে। ক্রোধের আগুনে খাক করে দেন বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিকে।

‘তাসকিনের সঙ্গে যা হলো, সেটি ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম। এর আগে কখনো ঘটেনি, ভবিষ্যতে কখনো ঘটবে বলে মনে হয় না। সারা জীবন জানতাম আইসিসির আইন হচ্ছে, কোনো বোলার যদি ম্যাচে অবৈধ কোনো বল করে, তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু ম্যাচে একটাও অবৈধ বল না করে নিষিদ্ধ—ক্রিকেট ইতিহাসে এটাই প্রথম হলো। এই জিনিসটা আমাদের জানা ছিল না’— কলকাতার গ্র্যান্ড ওবেরয় হোটেলে প্রথম প্রশ্নের উত্তরেই ক্ষোভ উগড়ে দেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট। তাসকিনকে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর, ‘সম্পূর্ণ অন্যয় করা হয়েছে আমাদের সঙ্গে। এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় হোঁচট। তাসকিন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বোলার; সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার। ও গত বিশ্বকাপে খেলেছে, তারপর তিন-চারটা সিরিজ খেলেছে, এশিয়া কাপ খেলেছে, কেউ কখনো তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। এবার এমন হওয়াটা আমি মনে করি চরম অবিচার হয়েছে। ’

বিসিবি প্রেসিডেন্টের যে উপলব্ধি, সেটি ভুল প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। ম্যাচে অবৈধ বোলিং না করে এভাবে অন্য কোনো দেশের বোলার নিষিদ্ধ হতেন না বলেও নিশ্চিত তিনি। সে কারণে ওই অন্য রকম চ্যালেঞ্জ নাজমুলের, ‘কেউ যদি মনে করি, আমি যা বলছি এটা ঠিক না, আমি চাই এটা প্রমাণ হোক। প্রমাণ হোক, এখানে অন্যায়-অবিচার করা হয়নি। সে সুযোগ আইসিসির আছে। এখনো তো বিশ্বকাপ চলছে। অন্য কোনো দলের দুই সেরা খেলোয়াড়কে ম্যাচে অবৈধ ডেলিভারি না করার পরও বাদ দিয়ে দিক। বলে দিক, বিশ্বকাপে খেলতে পারবে না। এমন একটা উদাহরণ আমরা দেখলেই হয়। ’ তাসকিনকে যেভাবে নিষিদ্ধ করা হলো, তাতে বিশ্বের প্রতিটি বোলারকে পরীক্ষা দিয়ে আসা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলের ভালো করার তাগিদ বিসিবি প্রেসিডেন্টের, ‘তাসকিনের মতো অবস্থা হলে তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার আগে প্রতিটি বোলারের পরীক্ষা দিয়ে আসা উচিত। মানে, অন্যরা সবাই পরীক্ষা করাতে যাক। শুধু আমরা কেন? মানে শুধু একা বাংলাদেশই কেন? প্রচুর প্রশ্ন আছে এগুলো নিয়ে, সেগুলো বলে লাভ নেই। আমি মনে মনে একটা জিনিস ধরে রেখেছি—প্রতিকূলতার মধ্যেই আমাদের খেলতে হবে। এসব উতরিয়েই আমাদের ভালো খেলতে হবে, ভালো করতে হবে। এ ছাড়া পথ নেই। ’

বিসিবি চাইছিল, তাসকিনকে এই বিশ্বকাপেই খেলাতে। বোলিং অবৈধ ঘোষিত হওয়ার সিদ্ধান্তটি স্থগিত করাতে। এ ক্ষেত্রে আগের উদাহরণও তো রয়েছে। কিন্তু সেসব সামনে টেনে এনেও সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে আনা যায়নি। বিসিবি প্রেসিডেন্টের ক্ষোভ আরো বেড়ে যায় সেখানে, ‘ঘটনা ঘটার পর আমি আইসিসি চেয়ারম্যান-সিইওর সঙ্গে কথা বলেছি। মুরালিধরনকে নিষিদ্ধ করার পর ওর জন্য আইন বদলায়নি? শোয়েব আখতারকেও তো বোলিং করতে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের বেলায় এসবের কোনো সুযোগ নেই। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। ’ ক্রিকেটের স্বার্থে আইসিসির কাজের ধরন পাল্টানোরও জোর দাবি তোলেন নাজমুল, ‘আইসিসি যদি ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়, ওরা যদি চায় ভালো করে কেউ খেলুক, তাহলে তাদের নিজেদের পাল্টাতে হবে। যদি মনে করে, কাউকে ওপরে উঠতে দেব না, তাহলে তারা যা করতে চায় তাদের তাই করতে দিন। ’

এভাবেই কাল আইসিসিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান নাজমুল। তাসকিন নিষিদ্ধ হওয়ার পর অধিনায়ক মাশরাফি সংবাদ সম্মেলনে যা বলতে পারেননি, যন্ত্রণামাখা সেই অব্যক্ত কথাগুলোই যেন কাল বলে যান বিসিবি প্রেসিডেন্ট। অসহায় ক্রোধে। অসহনীয় আক্রোশে।


মন্তব্য