kalerkantho


নেইমার-সুয়ারেস যখন প্রতিপক্ষ

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নেইমার-সুয়ারেস যখন প্রতিপক্ষ

ব্রাজিল-উরুগুয়ে মুখোমুখি হলে স্মৃতির অতল থেকে বেরিয়ে আসে ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেছে, এক শতাব্দী শেষে এসেছে নতুন শতাব্দী—তবু ব্রাজিলিয়ানরা ভুলতে পারে না মারাকানা ট্র্যাজেডির দুঃখ।

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের ক্ষত শুকায়নি তাদের এত দিনেও। ‘মারাকানাজো’ ছাড়াও দুটি কারণে গুরুত্ব বেড়ে গেছে রেসিফির আগামীকাল ভোরের ম্যাচের। প্রথমত, প্রায় দুই বছর পর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নামছেন লুই সুয়ারেস। দ্বিতীয়ত, বার্সেলোনার দুই সতীর্থ-নেইমার-সুয়ারেস দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন মুখোমুখি। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ব্রাজিল-উরুগুয়ের দ্বৈরথের উত্তেজনা বোঝাতে আর কিছু কি লাগে!

অথচ আচমকা এক খবর উত্তেজনার বারুদে দিয়েছিল পানি ঢেলে! চোটের কারণে নেইমার বুধবার অনুশীলন বন্ধ করে দিলে উরুগুয়ের বিপক্ষে তাঁর খেলা পড়ে যায় সংশয়ে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়েছিল বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডের। যেটার ফল চরম স্বস্তির খবর এনে দিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ভক্তদের। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অনুশীলন করতে কোনো বাধা নেই নেইমারের। উরুগুয়ের ম্যাচে থাকছেন তিনি।

’ তাতে বার্সেলোনার দুই সতীর্থ—নেইমার ও সুয়ারেস একে-অন্যের মুখোমুখি লড়াই দেখার মঞ্চটাও হয়ে যায় তৈরি। ‘এসএন’ কিন্তু ইতিমধ্যে বাজিও ধরে রেখেছেন রেসিফির ম্যাচটি ঘিরে। বাজিটা কী, শুনুন সুয়ারেসের মুখেই, ‘নেইমারের সঙ্গে বাজি ধরেছি। যে জিতবে, সে বার্গার পাবে। ’ পরমুহূর্তেই আবার মনে করিয়ে দিলেন, ‘সর্বোপরি আমরা সতীর্থ ও বন্ধু। ’ বন্ধুত্বের সম্পর্ক যে মাঠে থাকবে না, সেটাও জানিয়ে রাখলেন এই স্ট্রাইকার, ‘আমরা সব সময় আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি ক্লাব ও দেশের জার্সিতে। নেইমার আমাকে খুব ভালোভাবে জানে, আমিও ওকে চিনি। এর পরও মাঠে সব কিছু পাল্টে যাবে। কেননা প্রতিটি দলই তার প্রতিপক্ষ সম্পর্কে জানে, তবু মাঠে কিন্তু অন্য রকম ঘটনা ঘটে। ’

ব্রাজিল বিশ্বকাপে কামড়-কাণ্ডের পর প্রথমবার প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরছেন সুয়ারেস এই ম্যাচ দিয়ে। বার্সেলোনা স্ট্রাইকারের কামড়ের ঘটনা আর ঘটবে না বলে বিশ্বাস উরুগুয়ে কোচ অস্কার তাবারেসের, ‘ও নিজেও বুঝতে পেরেছে। আর আমাদের লক্ষ্য হলো, ও যাতে শুধু ফুটবল নিয়ে ভাবে, অন্য কিছু নিয়ে নয়। বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে, আমরা আশা করছি, সেগুলো আর ঘটবে না। ’ ব্রাজিলের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে তাবারেস চোটের কারণে পাচ্ছেন না দুই ডিফেন্ডার অধিনায়ক ডিয়েগো গোদিন ও হোসে মারিয়া গিমেনেসকে। নিষেধাজ্ঞার কারণে নেই ম্যাক্সি পেরেইরাও। ব্রাজিল দলেও আছে ইনজুরি সমস্যা। মিডফিল্ডার কাকার সঙ্গে ফরোয়ার্ড ফিরমিনোর খেলা অনিশ্চিত।

বাছাই পর্বে ব্রাজিলের শুরুটা ভালো ছিল না মোটেও। চিলির মাঠ থেকে যে ফিরেছিল ০-২ গোলে হেরে। ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে পরের ম্যাচে অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল কার্লোস-দুঙ্গার দল। ফোর্তালেজার ওই ম্যাচে ৩-১ গোলের জয়ের পর আবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার মাঠ থেকে ফিরেছিল ১-১ গোলে ড্র করে। তিন ম্যাচ শেষে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ৭ পয়েন্ট নিয়ে আছে বাছাই পর্বের তালিকার তৃতীয় স্থানে। অন্যদিকে সুয়ারেসকে ছাড়াই অবশ্য বাছাই পর্বে ভালো জায়গায় আছে উরুগুয়ে। ৯ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।

সবশেষ দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৩ সালে কনফেডারেশনস কাপে। সেমিফাইনালের ওই ম্যাচ সেলেসাওরা জিতে নিয়েছিল ২-১ গোলে। নতুন মঞ্চে সেই জয়ের স্মৃতি ব্রাজিলের জন্য কিছু না, উরুগুয়ের বিপক্ষে লড়াই মানেই তাদের কাছে ‘মারাকানা ভূত’ তাড়ানোর মিশন! এপি


মন্তব্য