kalerkantho


ভারতকে উড়তে দেয়নি বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক    

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভারতকে উড়তে দেয়নি বাংলাদেশ

মাশরাফি বিন মর্তুজা কেন যে টসটা জেতেন না! কাল ভাগ্যের লড়াইয়ে জিতেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে মাশরাফি কেন যে মাত্র ১ ওভার বোলিং করলেন! কাল ভারতের বিপক্ষে পুরো ৪ ওভার বোলিং করেছেন তিনি।

গত ম্যাচেই মাশরাফির অধিনায়কত্বে হাজারটা সমস্যা খুঁজে পাওয়া সুনীল গাভাস্কার কাল ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ভারতীয় ইনিংসের পুরোটা জুড়েই গাইলেন বন্দনাগীত। সব মিলিয়ে ভারতকে ৭ উইকেটে ১৪৬ রানে বেঁধে ফেলে ম্যাচের প্রথমভাগে ৪-০ ব্যবধানে জয়ী, যার ৩-০ একাই করেছেন মাশরাফি।

কত দিন পর টস জিতলেন মাশরাফি? স্মৃতি হাতড়েও বের করা গেল না। তবে অধিনায়ক মাশরাফির সমালোচনা ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির আগের ম্যাচটি ছাড়া শোনা যায়নি। কাল তো যেন বুদ্ধিমত্তা আর সাহসের চূড়ান্ত প্রদর্শনী করলেন অধিনায়ক। ১৭তম ওভারে মাহমুদ উল্লাহকে আক্রমণে আনতে দেখে সিঁদুরে মেঘ দেখেছিলেন অনেকেই। দেখারই কথা। ডেথে একজন খণ্ডকালীন অফস্পিনারকে আনতে সাহস লাগে, যাঁর কিনা ওটাই ম্যাচের প্রথম ওভার। ওই ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে যুবরাজ সিংকে তুলে নিয়ে অধিনায়কের আস্থার যথাযোগ্য মর্যাদাই দিয়েছেন মাহমুদ।

ভারতের হাই প্রোফাইল ব্যাটিং লাইনের গলায় ২০ ওভারের ক্রিকেটে ফাঁস পরিয়ে রাখা বলে দেয়, সব বোলারই মর্যাদা রেখেছেন অধিনায়কের। নিজে প্রথম ওভারে রান দেন মোটে ৫। পরের ওভারে শুভাগত হোমকে দেখে আঁতকে ওঠা জনতাও পরে খুশি, ৪ রান দেন যে এ অফস্পিনার। শুরুতেই উইকেট নেওয়াকে সাফল্যের সূত্র মনে করা বাংলাদেশকে প্রথম উইকেটের জন্য পাওয়ার প্লের পুরো ৬ ওভার অপেক্ষা করতে হয়েছে ঠিকই, তবে ততক্ষণে ভারতের দুই ওপেনার মিলে তোলা ৪২ রান তো স্বস্তিরই।

আরো স্বস্তির মুস্তাফিজুর রহমানের ওই শিকারটি রোহিত শর্মা হওয়ায়। ভারতীয় এ ওপেনার যে উইকেটে থিতু হয়ে গেলে বড় এবং বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, তা কে না জানে! কিন্তু রোহিতের বিদায় মানে তো বিরাট কোহলির আগমন, আরো বিপদের আশঙ্কা।

কিন্তু কোথায় কী! বেঙ্গালুরুর উইকেট কিছুট ধীরগতির। আর তার শতভাগ ফায়দা নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। নাসির হোসেনকে বসিয়ে রেখে কেন শুভাগতকে খেলিয়ে যাচ্ছে দল, এমন প্রশ্নের উত্তরও মিলেছে কাল। ৩ ওভারে ২৪ রান এবং বিরাট কোহলির মহামূল্য উইকেট তো তাঁরই। তবে ভারতের রানের চাকাটা আঠালো মাটিতে আটতে দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তিনি স্পিন জাদুকর নন বটে, তবে জানেন বড় ম্যাচে বড় প্রতিপক্ষকে কিভাবে কাবু করতে হয়। শিখর ধাওয়ানের সুইপ শট খেলা পছন্দ জেনে তাঁকে লেন্থের ফাঁদে ফেলেন সাকিব। সুরেশ রায়নাকে ডাউন উইকেটে আসতে দেখে ওয়াইড অফ স্টাম্প বল করে ধোঁকা দেন তিনি। যা দেখে সুনীল গাভাস্কার মুগ্ধ, ‘দারুণ স্মার্ট ক্রিকেটার সাকিব। ’

মাঝে গোল বাধাচ্ছিলেন সেই হার্দিক পাণ্ডে। ঢাকায় এশিয়া কাপে আচমকা উড়িয়ে মেরে হারিয়েছিলেন বাংলাদেশকে। গতকালও একটা ডট বল দিয়েই শুভাগতকে ছক্কা হাঁকিয়ে সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দেন পাণ্ডে। অন্যদিকে রায়নাও তখন রানের চাকা ছোটানোয় মনোযোগী। তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভাব টি-টোয়েন্টি সার্কিটে বাংলাদেশের সফলতম বোলার আল-আমিনের। কাল তো প্রায় হ্যাটট্রিকই করে ফেলেছিলেন এ পেসার। পর পর ২ বলে রায়না ও পাণ্ডেকে ফিরিয়ে দেন তিনি।

তাতেও বিপদের আশঙ্কা কি আর যায়! মহেন্দ্র সিং ধোনি ইনিংসের ১৬তম ওভারে ব্যাটিংয়ে নামা মানে যেকোনো দলের জন্যই বিপদসংকেত। সেই ধোনি সজোরে ব্যাট চালান, বল লাগেও কিন্তু বল বাউন্ডারিতে যায় না। ১২ বলে মাত্র একটি বাউন্ডারিতে ১৩ রান ধোনির ব্যাটিংয়ের সঙ্গেও যায় না! তবু ভারত যে হামাগুড়ি দিয়ে দেড়শর কাছাকাছি গেল তা রবীন্দ্র জাদেজা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ৩ বাউন্ডারির কল্যাণে।


মন্তব্য