kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ভাঙাচোরা দল নিয়েই ১৫৬

বেঙ্গালুরু থেকে প্রতিনিধি    

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভাঙাচোরা দল নিয়েই ১৫৬

‘ও যদি ২০ শতাংশ ফিটও থাকে, তবু খেলানো হবে’—মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার আগের দিনের এই ঘোষণায়ই ফুটে ওঠে মরিয়া বাংলাদেশের ছবি। তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানির বিশ্বকাপ শেষ হওয়ায় অমনই বিপর্যস্ত তারা। তার ওপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের একাদশে আবার অসুস্থতার কারণে নেই তামিম ইকবাল। ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ আর কাকে বলে!

বেঙ্গালুরুর চিন্নাসোয়ামী স্টেডিয়ামের এই খেলার আবহজুড়ে মাঠের ক্রিকেট যতটা, এর চেয়ে ঢের বেশি বাইরের। কান্নার জলরঙে অধিনায়ক মাশরাফি নাড়িয়ে দেন বাঙালির আবেগ। কিন্তু অধিনায়ককে তো আবার এসব এক পাশে সরিয়ে রেখে ক্রিকেটীয় চিন্তাও করতে হয়! সে চিন্তায় বড় আরেক ধাক্কা কাল। বদহজমের প্রভাবে শরীরে জ্বর এসে যায় তামিম ইকবালের। তবু মাঠে এসে ওয়ার্মআপ করেন, কিন্তু প্রচণ্ড দুর্বলতায় ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। ফিরে যান হোটেলে। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে ইনফর্ম ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের বেলুন চুপসে যায় আরো।

মুস্তাফিজের খেলাটা ম্যাচের আগেই একরকম নিশ্চিত করে দেন মাশরাফি। শুভাগত হোম ও সাকলাইন সজীবেরটি একেবারেই না। সেটি দেওয়ার উপায়ও তো ছিল না। তাসকিন-সানির দুঃসংবাদ শনিবার সন্ধ্যায় পায় বাংলাদেশ। তড়িঘড়ি করে সে রাতেই উড়ালে তুলে দেওয়া হয় শুভাগত ও সাকলাইনকে। কলকাতায় পৌঁছে সেখানকান বিমানবন্দরে কাটান বাকি রাতটুকুন। এরপর সকালের ফ্লাইট ধরে বেঙ্গালুরু। ক্লান্তিটা তাই সহজে অনুমেয়। মাশরাফিও তাঁর সংবাদ সম্মেলনে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন বাস্তবতা, ‘ওরা আগের সারা রাত নির্ঘুম ছিল। আজ সারা দিন হয়তো ঘুমাতে হবে। এখনো সময় আছে, দেখি কী হয়। ’

কিন্তু দলের প্রয়োজন মেনে কাল তো ঠিকই একাদশে নেমে যেতে হয় শুভাগত ও সাকলাইনকে।

বাংলাদেশের বাছাই পর্ব উতরানোয় সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তামিমের ব্যাটের। ইডেন গার্ডেন্সে পাকিস্তানের বিপক্ষেও শুরুটা মন্দ হয়নি। এই ওপেনারকে ঘিরেই তাই আবর্তিত হচ্ছিল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যাটিং। সেই তিনি ছিটকে পড়ায় ব্যাটিং পরিকল্পনা ওলট-পালট হয়ে যায় একেবারে।

অন্য ওপেনার সৌম্য সরকার ফর্মে নেই। আর দলের যে অবস্থা এখন, তাতে একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তামিমের অনুপস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে মিথুনের ওপেনার হওয়া নিয়েও সংশয় ছিল না কোনো।

একটু ধন্ধে ফেলে দেয় অবশ্য শুভাগত হোমের ব্যাটিং পজিশন। কাল মাহমুদ উল্লাহ, মুশফিকুর রহিমের আগেই যে পাঁচ নম্বরে নেমে যান তিনি!

বোলিংয়ে তাসকিনের জায়গায় মুস্তাফিজের অন্তর্ভুক্তি ছিল প্রত্যাশিত। এক পেসারের জায়গায় আরেকজন। ঠিক তেমনিভাবে এক স্পিনারের স্থলাভিষিক্ত আরেকজন। আরাফাতের জায়গায় সাকলাইন সজীব। রাজশাহীর এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার অনেক দিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষিত পারফরমার। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে কালই অভিষেক হলো এই বাঁহাতি স্পিনারের।

এদিকে আবার টানা সপ্তম ম্যাচে টস হারলেন মাশরাফি। এরপর ইয়ান বিশপের সঙ্গে আলাপের সময় জানান দলের এত সব অদল-বদলের কথা। তাঁর মনের ভেতরে যে ভাঙচুর চলছে, সেটি চেহারা দেখেই যায় বোঝা। আর এমন ভাঙাচোরা সেনাদল নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেটে ১৫৬ করা কি চাট্টিখানি ব্যাপার!


মন্তব্য