kalerkantho

25th march banner

তামিমের জন্যও আফসোস

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তামিমের জন্যও আফসোস

চেষ্টা করলেন খুব। বললেনও একবার মাশরাফি বিন মর্তুজা, ‘মাঠের বাইরের ঘটনাগুলো আমরা বাইরেই রেখে এসেছি। ’ কিন্তু চাইলেই কি আর তা পারা যায়! বাংলাদেশ দলের চলনে-বলনে, প্রতিটি পদক্ষেপে যে আত্মসমর্পণটা বোঝা গেছে স্পষ্ট!

মাশরাফি এবার আর তা অস্বীকার করেন না। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে আসার পর আরেক প্রশ্নের উত্তরে বলে যান, ‘হয়তো বা বাইরে থেকে জিনিসগুলো আরো ভালো বোঝা যায়। আমাদের চেষ্টা ছিল। যে যতটুকু পেরেছি, করেছি। তবে কারো মনের ওপর জোর করা তো কঠিন। ’ আরাফাত সানিকে হারানোটা মেনে নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু তাসকিন আহমেদের বোলিং অবৈধ ঘোষণা করাটা দলের সবার মনের ওপর ফেলে প্রবল চাপ। আর কাল ওয়ার্মআপ করেও তামিম ইকবাল খেলতে না পারায় আত্মবিশ্বাসের শেষ অবলম্বনও যেন যায় ধসে। মাশরাফি অবশ্য নিজেদের চেষ্টার কথাই বলেন বারবার, ‘আগে থেকেই দুটো আঘাত ছিল। সঙ্গে তামিমকে হারানোটা বড় ধাক্কা। হয় কি, মূল একাদশের তিনজন খেলোয়াড় বাইরে যাওয়া বড় ব্যাপার। তার পরও আমরা চেষ্টা করেছি, ব্যাপারগুলো যতটুকু বাইরে রাখা। আমি বলতে চাচ্ছি, আমাদের ইচ্ছে ছিল ওগুলো বাইরে রাখা। কিন্তু বাইরে থেকে ওটা মনে নাও হতে পারে। ’ তিনজনের মধ্যে দুজনের খেলার সম্ভাবনা শেষ অনেক আগে। তামিমের জন্য দল শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে—জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘তামিমের জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত দেখেছিলাম। দুপুর পর্যন্ত অনেক আশাবাদী ছিলাম। ও নিজে মাঠে এসে একটু রানিং করে দেখেছে। পরে শরীরটা খারাপ লাগছিল। ও আর পারেনি। ’

তবে এমন তিনজন খেলোয়াড় ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই ঠিকই করে মাশরাফির দল। ১৫৬ রান নিয়েও তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়ার সাত উইকেট। তাতে মাশরাফির আক্ষেপ বাড়ে আরো, ‘এ মাঠে রান একটু বেশি হয়। ছোট ছোট ভুলের কারণে হয়তো বা অনেক কিছু করা সম্ভব হয়নি। ওগুলো না করলে ম্যাচটা অন্যদিকেও যেতে পারত। এখনো আমি মনে করি, এখানে আজকে যেভাবে খেলেছি সেটা থেকে আমরা সামনের ম্যাচে ভালো কিছু নিয়ে যেতে পারি। ’ ভুলের ফিরিস্তি দেননি তিনি। তবে দায়টা ছড়িয়ে দেন সবার মধ্যে, ‘ছোট ছোট ভুলের মধ্যে আমার সিদ্ধান্তও হতে পারে। দুই-তিনটা জায়গায় আমাদের ব্যাটসম্যান-বোলাররা ভালো করেনি। সেগুলো যদি আমরা ভালো করতে পারতাম, তাহলে হয়তো বা ম্যাচটা আমাদের দিকে আসলেও আসতে পারত। ’

ম্যাচে বাংলাদেশের নড়বড়ে শুরু সৌম্য সরকারের আউটে। বেশ কিছুদিন ধরেই ফর্মের সঙ্গে আড়ি তাঁর। অধিনায়ক থেকে কোচ সবাইকে অবশ্য পাশে পাচ্ছেন বাঁহাতি ওপেনার। কালও মাশরাফি সমর্থনের হাত রাখেন সৌম্যতে, ‘কখনো কখনো এ রকম কঠিন সময় যায়। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে রানও করতে হবে এ রকম তাড়া সব সময় থাকে। যারা ব্যাটিং অর্ডারের ওপরে থাকে, তাদের ঝুঁকি নিয়ে খেলতে হয়। খারাপ সময় যাচ্ছে বলে পরিস্থিতিটা সৌম্যর জন্য কঠিন হয়ে গেছে। এক দিন রান করলে আবার সব ঠিক হয়ে যাবে। আশা করছি ও আবারও রানে ফিরবে। ’ আবার মাহমুদ উল্লাহ ও মুশফিকুর রহিমের আগে শুভাগত হোমকে পাঠানোর ব্যাখ্যাও দেন অধিনায়ক, ‘চেয়েছিলাম, শুভাগত যদি রানটা বাড়াতে পারত। হয়তো বা মুশফিককে দিয়ে চেষ্টা করতে পারতাম। তবে মুশফিক সলিড ব্যাটসম্যান, শুভাগত ব্যর্থ হলে মুশফিক ধরে খেলতে পারবে। এ জন্য ওকে আগে নামানো হয়েছে। ’

পুরো ম্যাচে কখনো জয়ের মতো অবস্থায় যেতে পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সাত উইকেট তুলে নেওয়ায় ম্যাচ শেষে টুকরো টুকরো হাহাকার মাশরাফির কথায়। সেই সঙ্গে টুকরো টুকরো প্রাপ্তিও, ‘হয়তো বা প্রয়োজনমাফিক রান হয়নি। ফিল্ডিং ও বোলিংয়ে আরেকটু ভালো করতে পারলে রানটা অনেক বড় হয়ে যেত। তার পরও মনে করি, ইতিবাচক কিছু জিনিস রয়েছে ম্যাচে। রিয়াদ (মাহমুদ উল্লাহ) ফর্মে আছে; ধারাবাহিকভাবে ভালো করেছে। সাকিব বোলিং ভালো করেছে। ব্যাটিংয়েও ওই সময়টায় ভালো করেছে। মুশফিকও অনেক দিন পর হাত খুলে ব্যাটিং করল। সিনিয়র ক্রিকেটারদের এই ভালো খেলা সামনে কাজে লাগবে। ’

এই আশা ছাড়া এখন আর কী-ই বা করার আছে বাংলাদেশ অধিনায়কের!

 


মন্তব্য