kalerkantho


বিস্মিত তাঁরাও

ক্রীড়া প্রতিবেদক    

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিস্মিত তাঁরাও

বেঙ্গালুরুতে মাশরাফি বিন মর্তুজা ক্ষোভ ঝরিয়েছেন বেদনার অশ্রুজলে। নিজের ছায়ায় যাঁকে গড়ে তুলছিলেন, সেই তাসকিন আহমেদের বোলিংই যে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি! বোলিং অ্যাকশনে সমস্যা থাকলে এ পরিণতি মেনে নিতেই হবে। কিন্তু মাশরাফির আপত্তি পুরো প্রক্রিয়া নিয়েই। একই আপত্তিতে ক্ষুব্ধ দেশের সাধারণ মানুষও। তবে তাসকিনের বোলিংয়ে কি সত্যিই সমস্যা আছে নাকি তিনি অবিচারের শিকার, সেটি অবৈধ বোলিং অ্যাকশন নির্ধারণী প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিতদের কাছ থেকেই জানার চেষ্টা করেছে কালের কণ্ঠ স্পোর্টস। বলার অপেক্ষা রাখে না তাসকিন ইস্যুতে তাঁরাও বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে অবৈধ বোলিং অ্যাকশন নির্মূলের যে সীমিত কর্মসূচি আছে, সেটির সঙ্গে পদাধিকারবলেই জড়িয়ে তিনি। রকিবুল মনে করেন, ‘যেটুকু শুনেছি তাতে মনে হচ্ছে পুরো প্রক্রিয়াতেই গলদ আছে। আইসিসির পক্ষ থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে কেন উল্লেখ করা হলো না তাসকিনের কোন ডেলিভারিটি অবৈধ? শুনছি ওর বাউন্সার নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে ও তো একটাও বাউন্সার দেয়নি। তাহলে কিসের ভিত্তিতে ওর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মাঠের আম্পায়াররা?’ এমন অনেক প্রশ্নের ভিড়ে রকিবুলের মনে দানা বেঁধে আছে সন্দেহও, ‘বুঝতে পারছি না কেন এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষেই হলো? তাসকিন যদি জানতে না পারে কোন অ্যাকশনটা ঠিক নয়, তাহলে ও নিজেকে শুধরাবে কী করে? তা ছাড়া আইসিসির বিধানেই রয়েছে যেকোনো একজন বোলারের একটি অ্যাকশন ত্রুটিযুক্ত হলে সেটি বাদ দিয়ে সে বোলিং করতে পারবে। তাসকিনকে কেন সে সুযোগ দেওয়া হলো না? জানি না, শক্তিশালী তৃতীয় বিশ্ব হিসেবে বাংলাদেশ আবির্ভূত হতে যাচ্ছে বলেই কি কঠিন এ পরীক্ষা দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে?’ চাপা এ ক্ষোভের ভেতরে মনে সূক্ষ্ম একটা তৃপ্তিও আছে তাঁর, ‘আমি বিসিবিকে সাধুবাদ জানাতে চাই দ্রুত এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য। আপনার কাছেই শুনলাম যে এ নিয়ে সভাতেও বসেছে আইসিসি। তার মানে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাও বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছে। এতে বিসিবির একটা ভিক্টরি কিন্তু হয়ে গেছে। ’

সরওয়ার ইমরান নিজে পেসার ছিলেন, খেলোয়াড়ি জীবনের শেষভাগ থেকে এখনো কোচিং করিয়ে যাচ্ছেন। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কোচের দায়িত্ব পালনকালে আরো কাছে থেকে দেখেছেন তাসকিন আহমেদকে। সে দেখা থেকে এ কোচের মন্তব্য, ‘যে ম্যাচে বাউন্সারই করেনি তাসকিন, সে ম্যাচে তার বোলিং নিয়ে আম্পায়ারের মনে সন্দেহ হলো কেন? আর ল্যাবে কেন স্টক বল কিংবা ইয়র্কার ফেলে বাউন্সার করানো হলো তাসকিনকে? এটা চক্রান্ত কি না, তা বলতে পারছি না। তবে আমি মনে করি বোর্ডের পক্ষ থেকে এর জোর প্রতিবাদ করা উচিত। সেটা করা হয়েছে জেনে ভালো লাগছে। ’ সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘ঘটনাটা জানার পর থেকে আমার মনে প্রশ্ন একটাই—তাসকিনের চেয়ে বেশি কনুই বাঁকা হয় এমন অনেক বোলারই বিশ্ব ক্রিকেটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের রেখে কেন তাসকিনের সমস্যাটাই বেশি চোখে পড়ল আম্পায়ারদের?’

আন্তর্জাতিক আম্পায়ার শরফুদৌলা ইবনে শহীদ সীমিত ওভারের ম্যাচের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটেও দেখেছেন তাসকিনকে। আইসিসির পক্ষ থেকে অভিযুক্ত বোলারের ব্যাপারে বিস্তারিত প্রতিবেদনও পান তিনি। তবে তাসকিনেরটি এখনো হাতে আসেনি বলে কাল জানিয়েছেন শরফুদৌলা, ‘প্রতিবেদন এখনো আমরা পাইনি। তবে একজন বোলারের নির্দিষ্ট কোনো অ্যাকশনে সমস্যা থাকলে সেটি উল্লেখ করা জরুরি একাধিক কারণে। প্রথমত একজন বোলারের নির্দিষ্ট কোনো ডেলিভারিতে সমস্যা থাকলে সেটির ওপরই শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়। যেমন মারলন স্যামুয়েলসের জোরে করা বল কিংবা সুনীল নারিনের ক্যারম বলের বেলায় হয়েছিল। ওই নির্দিষ্ট ডেলিভারি ছাড়া তাঁদের বোলিংয়ের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। দ্বিতীয়ত অভিযুক্ত বোলার যদি না-ই জানতে পারে কোন ডেলিভারিতে সমস্যা, তাহলে সে সেটা শুধরাবে কী করে?’ 

ন্যাশনাল গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার নাজমুল আবেদিন ফাহিমের দৃষ্টিতে, ‘খালি চোখে তো অনেক কিছুই মনে হয়। তাসকিনের বোলিং অ্যাকশনে যে ত্রুটির কথা বলা হচ্ছে, এর চেয়ে বেশি সমস্যা নিয়ে অনেক বোলারই বোলিং করে যাচ্ছেন। আমি ঠিক জানি না কী কারণে আইসিসি এতটা কঠোর হলো। আশা করি, বিসিবির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার পর সে ব্যাখ্যাটা আমরা পাব। ’


মন্তব্য