kalerkantho


সব সমীকরণেই অবিচারের দুঃখ

বেঙ্গালুরু থেকে প্রতিনিধি    

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সব সমীকরণেই অবিচারের দুঃখ

গ্রুপে যদি ভারত না থাকত, তাহলেই ব্যস! বাতাসে আর ভেসে বেড়াত না ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। তাসকিন আহমেদকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ত না বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বমহলে।

কিন্তু বাংলাদেশের গ্রুপে ভারত আছে যে! ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযানে এগিয়ে যেতে সেই মাশরাফি বিন মর্তুজার দলকে ২৩ মার্চ হারানো বড্ড প্রয়োজন মহেন্দ্র সিং ধোনিদের। ঠিক অমন সময়ে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশের দুজন বোলারকে নিষেধাজ্ঞার গিলোটিনে ফেলে দিলে প্রশ্ন তো উঠবেই!

প্রশ্নটা উঠেছে আসলে তাসকিনের কারণে। আরাফাত সানির ব্যাপারটা একরকম মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ। ডানহাতি পেসারেরটি একেবারেই নয়। এই নিষেধাজ্ঞা ভারত দেয়নি ঠিক, দিয়েছে আইসিসি। কিন্তু প্রতিষ্ঠান হিসেবে তা যে ঠুঁটো জগন্নাথ, সেটি কার না জানা! আইসিসির সম্প্রসারণে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলও তো চালু রসিকতা। তাসকিনের বোলিং অ্যাকশন নিষিদ্ধ করার সময় আবার আবহে ভেসে ওঠে ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। মেলবোর্নের সেই দ্বৈরথে ভারত জেতে বটে। তবে সেই জয়ের পথে প্রশ্নের কাঁটা অনেক। বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সম্পর্ক চিরদিনের মতো বদলে যায় তাতে। ছড়ায় ষড়যন্ত্রের দুর্গন্ধ। এবার তাসকিন নিষিদ্ধ হওয়ার পর সেটি আরো বেশি করে।

বাংলাদেশের টইটম্বুর ক্রিকেট আবেগে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের টোকা লাগে চলতি বিশ্বকাপে ইডেন গার্ডেন্সের বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে। সীমান্তের এপারের দেশ বলে ক্রিকেটের নন্দনকাননে পাগলপারা সমর্থন আশা করেছিল মাশরাফির দল। বাঙালিত্বের দাবিও তো রয়েছে। আর প্রতিপক্ষ ভারতের চিরশত্রু বলে সমর্থনের পদ্মা-গঙ্গার জল এক হয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ইডেনের গ্যালারির সিংহভাগ সমর্থন তো সেদিন ঝুঁকে ছিল পাকিস্তানের দিকে। যা বড় এক ধাক্কা হয়ে আসে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে। এরপর প্রশ্নবিদ্ধ উপায়ে যখন তাসকিনের বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে রায় দেওয়া হয়—ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে বাংলাদেশ।

এই তাসকিন ২০১৪ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক ওয়ানডেতে নেন ৫ উইকেট। বিশ্বকাপের বহুল আলোকিত সেই ম্যাচে তাঁর ৩ শিকার। এর পরপরই ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের প্রথম ম্যাচে জ্বলে ওঠেন আবার। ৫ উইকেট নিয়ে সেদিনের মহানায়ক না হয় মুস্তাফিজুর রহমান! কিন্তু বিনা উইকেটে ৯৫ রানে পৌঁছে যাওয়ার পর ভারতের শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলিকে পর পর আউট করে জয়ের রাস্তাটা তো তৈরি করেন তাসকিন। ভারতের বিপক্ষে এই পরিসংখ্যানই তাঁর জন্য কাল হলো কি না—এ নিয়েও বাংলাদেশের সমর্থক মহলে এখন প্রশ্নের ঝড়।

আর শুধুই কি পরিসংখ্যান? এই নিষেধাজ্ঞার ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে মাশরাফির পুরো দলকে মানসিকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়াও কম কথা নয়। রাগ-ক্ষোভ-প্রতিবাদের মেঘে তাই ছেয়ে আছে এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনের আকাশ।


মন্তব্য