kalerkantho


লক্ষ্যে অবিচল মাশরাফিরা

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



লক্ষ্যে অবিচল মাশরাফিরা

টানা ক্রিকেটের পর টানা বিশ্রাম। এক শহর থেকে আরেক শহরে, এক ম্যাচের পর আরেক ম্যাচ খেলার ক্লান্তি অবশ্য দিন দুয়েকের বিশ্রামে যাওয়ার নয়।

তবু বেঙ্গালুরুর হোটেলে শুয়ে-বসে অলস সময় কাটানো, পুরো দল মিলে নতুন নগরে শপিংয়ে বেরোনো—এসবেই চনমনে হয়ে ওঠার চেষ্টা বাংলাদেশ দলের। আর সেই চেষ্টা যে একেবারে বৃথা যায়নি, চিন্নাসোয়ামী স্টেডিয়ামে কালকের ট্রেনিং সেশনেই তার প্রমাণ।

মাথার ওপরে গনগনে সূর্য তার দাপটের জানান দিচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। তাপমাত্রা অসহনীয় প্রায়, আর্দ্রতা সহনীয় পর্যায়ে বলেই রক্ষা! কিন্তু ওসবে মাশরাফি-সাকিব-তামিমদের থোড়াই কেয়ার! দিন দুয়েক পর আবার স্টেডিয়ামমুখো তাঁরা। ব্যাট-বলের অনুশীলনে নিজেদের ঝালিয়ে নেন আরো দিন দুয়েক পরের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বৈরথের জন্য। চিন্নাসোয়ামী স্টেডিয়ামের বাইরের একাডেমি মাঠের নেটে ব্যাটিং-বোলিং ঝালিয়ে নেন অনেকক্ষণ। এরপর মূল স্টেডিয়ামে গিয়ে ফিল্ডিং অনুশীলন। মূল পর্বের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হার, আর দ্বিতীয় ম্যাচের প্রতিপক্ষ যখন অস্ট্রেলিয়া—তখন সামান্য আয়েশি হওয়ারও উপায় নেই যে!

পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা শেষ। সামনে অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও নিউজিল্যান্ড।

এই গ্রুপটা যে বাংলাদেশের জন্য ‘মৃত্যুকূপ’, তা না বললেও চলছে। অধিনায়ক মাশরাফির কাছে এটি ‘সাগরে লাফ দেওয়ার মতো ব্যাপার’। তা লাফ যখন দিয়েই দিয়েছে, সাঁতরে কূলে পৌঁছানোর চেষ্টা কি আর করবে না বাংলাদেশ! সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্নটা তো এখনো বেঙ্গালুরুর অর্কবতী নদীতে বিসর্জন দেয়নি তারা! তবু আরো বড় ক্যানভাসের কথা ভেবে মাশরাফি এই বিশ্বকাপ থেকে খুঁজছেন অন্য রকম প্রাপ্তির সম্ভাবনা, ‘অবশ্যই সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে আমাদের। তবে আমরা যেমন গ্রুপে পড়েছি, তাতে হারজিতের দিকে এখন তাকাচ্ছি না। আমরা টি-টোয়েন্টি ভালো খেলতে পারি না বলে যে ধারণা, খেলোয়াড়দের মন থেকে এই বিশ্বাস দূর করে দিতে চাই। সেটি করতে পারলে এই বিশ্বকাপেও আমাদের পক্ষে অনেক দূর যাওয়া সম্ভব। ’

অনেক দূর বলতে এখন আর বেশি দূর না। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচই সবার মনোযোগের ভরকেন্দ্রে। আর ওই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে বেঙ্গালুরুর ভেন্যু কিছুটা হলেও ভরসা দিচ্ছে বাংলাদেশকে। এটি সব ক্রিকেটারের জন্য ইডেন গার্ডেন্সের মতো অচেনা নয় যে! আইপিএলের সুবাদে সাকিব আল হাসান এখানে খেলেন নিয়মিত। এ ছাড়া গত বছর বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, আল-আমিন হোসেন, আরাফাত সানি, তাসকিন আহমেদ খেলে গেছেন এই বেঙ্গালুরুতে। শেষ দুজন অবশ্য আর ধর্তব্যের মধ্যে পড়েন না। বোলিং অ্যাকশন অবৈধ হওয়ার ঘোষণা হওয়ায় আরাফাত-তাসকিনের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে। তবু চিন্নাসোয়ামী স্টেডিয়ামে আগে যাঁরা খেলে গেছেন, দলকে তাঁরা আত্মবিশ্বাসের হাওয়া দিচ্ছেন ঠিকই।

ওই সফরে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে এক দিনের ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেটের যুগল-কীর্তি নাসিরের। সেটি মনে করিয়ে দিতে কাল আত্মবিশ্বাস খেলে যায় তাঁর চোখে-মুখে, ‘ওই ভালো স্মৃতিটা অবশ্যই উজ্জীবিত করছে আমাকে। তবে খেলার সুযোগ পাই কিনা, তা তো জানি না। পেলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো করার চেষ্টা করব। ’ সাব্বিরের আবার এখানে অপরাজিত সেঞ্চুরি ছিল আনঅফিশিয়াল টেস্টে। সেখান থেকে প্রেরণা নেওয়ার প্রত্যয় ঝরে তাই তাঁর কণ্ঠে, ‘এখানে সেঞ্চুরি করেছিলাম। মাঠ-উইকেট তাই চেনা। দেখা যাক, এবার কী হয়!’ চিন্নাসোয়ামীতে খেলার অভিজ্ঞতা একটু হলেও সুবিধা দেবে বলে দাবি আল-আমিনের। তবে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে চ্যালেঞ্জটা যে অনেক বেশি, তাও মনে করিয়ে দিতে ভোলেন না এই পেসার, ‘এখানে যেহেতু আগে খেলেছি, একটু সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে ব্যাটসম্যান বুঝে বল করতে হবে। এটি ব্যাটিং উইকেট। বোলারদের জন্য অনেক কঠিন। শুধু সোজা বল করলেই হবে না। বোলিং বৈচিত্র্যও থাকতে হবে। ’

সেই ব্যাটিং উইকেট আবার সৌম্য সরকারকে ভরসা জোগায় বাজে ফর্মের চক্কর থেকে বেরোনোর, ‘নেটে সব ধরনের কাজ করছি। খুব চেষ্টা করছি ছন্দে ফিরতে। আমার আসলে একটা ভালো ইনিংস লাগবে। গত চার ম্যাচে তা করতে পারিনি। বেঙ্গালুরুতে ব্যাটিং উইকেট, চেষ্টা করব এখানেই কিছু করতে। ’ ফর্মের সঙ্গে আড়ি পেতে থাকা আরেক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমও আশাবাদী হচ্ছেন এখানকার মাঠে, ‘এই মাঠের আউটফিল্ড খুব মসৃণ। বল দ্রুত গড়ায়। বাতাস কম বলে চার-ছক্কা হয় বেশি। বাউন্ডারিও ছোট। আশা করি, এখানে ভালো কিছুই হবে। ’

টগবগে এই খেলোয়াড়দের পাশাপাশি চনমনে ছিলেন কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহেও। ক্রিকেটপাগল তরুণ প্রণব জৈন যখন অনুশীলন শেষে তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার আবদার করেন, তখন বাংলাদেশ কোচের রসিকতা, ‘একটি ছবি তুলতে পারি, দুটি তুললেই কিন্তু আমাকে তোমার টাকা দিতে হবে। ’

কিন্তু ক্রিকেটার-কোচের দুপুরের ওই ফুরফুরে মেজাজ সন্ধ্যায় আর থাকেনি। তাসকিন-আরাফাতের দুঃসংবাদ চলে আসে যে! অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আবহে দলে আত্মবিশ্বাস ফেরানোর চ্যালেঞ্জটাই তাই এখন সবচেয়ে বড় মাশরাফি-হাতুরাসিংহের জন্য!


মন্তব্য