kalerkantho


এবার নিউজিল্যান্ডের শিকার অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক    

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এবার নিউজিল্যান্ডের শিকার অস্ট্রেলিয়া

লক্ষ্য ১৪৩ রান। ধর্মশালা স্টেডিয়ামের কোল ঘেঁষে থাকা পাহাড়ের মতো বড় নয় মোটেও।

জবাবে প্রথম ওভারেই অস্ট্রেলিয়া ১১ করার পর স্টার স্পোর্টসের ‘উইন প্রেডিক্টর’-এ ভেসে উঠল অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সুযোগ ৯২ শতাংশ আর নিউজিল্যান্ডের ৮! কিন্তু টি-টোয়েন্টি তো আর এমন সরল অঙ্ক কষার খেলা নয়? হাতের মুঠো গলিয়ে বের হতে যাওয়া সেই ম্যাচটাও অস্ট্রেলিয়ানদের হতভম্ব করে নিউজিল্যান্ড জিতল ৮ রানে। ছয় বছর আগে সর্বশেষ দেখায় নিউজিল্যান্ডের ২১৪ রানের জবাবে ঠিক ২১৪ই করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে এবার রোমাঞ্চ ছড়িয়ে ১৪২ রান তাড়া করতে নেমে থামে ৯ উইকেটে ১৩৪-এ। ভারতের পর শিরোপাপ্রত্যাশী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে কেন উইলিয়ামসনের দল তাই একটা পা দিয়ে রাখল সেমিফাইনালে।

নাগপুরের মতো ধর্মশালার উইকেট স্পিন-স্বর্গ ছিল না। তাই নাথান ম্যাককালামের জায়গায় মিচেল ম্যাকক্লেনাঘনকে খেলায় কিউইরা। সুযোগ পেয়েই বাজিমাত এই পেসারের। ১৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা তিনিই। তবে কৃতিত্বটা দিলেন দলকেই, ‘ভালো লাগছে এভাবে দলকে জেতাতে পেরে।

তবে অবদান আছে সবারই। স্পিনাররা দারুণ বল করেছে, আমাদের ম্যাচে ফিরিয়েছে ওরাই। ’

অস্ট্রেলিয়া আবার ছন্দে থাকা জস হ্যাজেলউডকে বসিয়ে তিন স্পিনার নিয়ে নামে ধর্মশালায়। অথচ জাস্টিন অ্যাগার আর অ্যাডাম জাম্পাকে ১ ওভার করিয়ে আর বল দেননি স্টিভেন স্মিথ! অ্যাগার ১ ওভারে ১৮ দিলেও লেগ স্পিনার জাম্পা দিয়েছিলেন ৩ রান। টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং র্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা অ্যারন ফিঞ্চও ছিলেন বেঞ্চে! দল নির্বাচনের এই ভুলেই কি ভরাডুবি অস্ট্রেলিয়ার? স্মিথ সেই বিতর্কেই গেলেন না, ‘ওদের স্পিনাররা দারুণ বল করেছে, যার জবাব দিতে পারিনি আমরা। বৃষ্টির শঙ্কায় আমরা বাধ্য হয়েই পরিকল্পনা বদলেছিলাম। ’

১৪২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৫ ওভার শেষে বিনা উইকেটে অস্ট্রেলিয়া করেছিল ৪২। সে সময় ২০ বলে ৩১ করে ফিঞ্চের জায়গায় তাঁর অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা প্রমাণ করছিলেন উসমান খাজা। শেন ওয়াটসনকে ফিরিয়ে ৪৪ রানের উদ্বোধনী জুটিটা ভাঙেন ম্যাকক্লেনাঘন। পরের ওভারেই মিচেল স্যান্টনারের বলে স্টাম্পড অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ (৬)। সেই স্যান্টনার ফেরান ডেভিড ওয়ার্নারকেও (৬)। আর ২৭ বলে ৩৮ করা উসমান খাজা কাটা পড়েন রান আউটে। বিনা উইকেটে ৪৪ থেকে ৬৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (২৩ বলে ২২) আর মিচেল মার্শের (২৩ বলে ২৪) দৃঢ়তায় ১৫ ওভারে ১০০ করায় ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি অস্ট্রেলিয়া। ৩০ বলে দরকার ছিল ৪৩ রান, হাতে ৫ উইকেট। ১৬তম ওভারের প্রথম বলেই গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে কেন উইলিয়ামসনের ক্যাচ বানিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান ইশ সোধি। জেমস ফকনারের আগে ব্যাটিংয়ে আসা অ্যাস্টন অ্যাগার করতে পারেননি তেমন কিছু। ৮ বলে ৯ করে ফেরেন ম্যাকক্লেনাঘনের বলে। একই ওভারে মিচেল মার্শকেও ফিরিয়ে ম্যাচ থেকে অস্ট্রেলিয়াকে ছিটকে দেন এই পেসার। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৯ রান। কোরে অ্যান্ডারসনের প্রথম বলেই জেমস ফকনার (২) মিড উইকেটে মার্টিন গাপটিলের হাতে ধরা পড়লে নিভে যায় অস্ট্রেলিয়ার আশার প্রদীপ। শেষ পর্যন্ত তারা থামে ৯ উইকেটে ১৩৪ রানে।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মার্টিন গাপটিল (৩৯), কেন উইলিয়ামসনের (২৪) ৬১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে বড় স্কোরের পথেই হাঁটছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ১৫ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে পা পিছলে যায় তাদের। ২৭ বলে ৩৯ করা মার্টিন গাপটিলকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ক্যাচ বানিয়ে উদ্বোধনী জুটিটা ভাঙেন জেমস ফকনার। পরের ওভারেই ২৪ করে ম্যাক্সওয়েলের বলে ফেরেন কেন উইলিয়ামসন। এই দুজনের মতো কোরে অ্যান্ডারসনও ৩ রান করে ক্যাচ দেন বাউন্ডারিতে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও কলিন মুনরোর ২৩ আর গ্রান্ট এলিয়টের ২৭-এ কিউইরা থামে ৮ উইকেটে ১৪২ রানে। ২টি করে উইকেট গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও জেমস ফকনারের। ম্যাচ শেষে কেন উইলিয়ামসনের সন্তুষ্টি, ‘এ ধরনের উইকেটে ১৪০ রান তাড়া করা কঠিন। আমাদের ইনিংস শেষে আশাবাদী ছিলাম এ জন্য। ’


মন্তব্য