kalerkantho


মহা নাটকীয়তায় শেষ আটে বায়ার্ন

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মহা নাটকীয়তায় শেষ আটে বায়ার্ন

জার্মানরা এমনই। মরার আগে মরতে রাজি নয় তারা। থোমাস ম্যুলারই যেমন বলেছেন, ‘২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পরও আমরা বিশ্বাস হারাইনি। ’ এই আত্মবিশ্বাসের জোরেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ পরশু রাতে। চমক জাগিয়ে আলিয়েঞ্জ অ্যারেনায় জুভেন্টাস ২ গোলের লিড নিলেও চরম নাটকীয় ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরা বায়ার্ন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর ম্যাচটি জিতে নিয়েছে ৪-২ গোলে। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ অগ্রগামিতায় নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনালও। তাদের সঙ্গী হয়েছে ন্যু ক্যাম্পে আর্সেনালকে ৩-১ গোলে হারানো বার্সেলোনা। ‘এমএসএন’-এর জাদুতে দুই লেগ মিলিয়ে ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা শেষ আট নিশ্চিত করেছে ৫-১ অগ্রগামিতায়।

আলিয়েঞ্জ অ্যারেনায় পল পগবার লক্ষ্যভেদে পঞ্চম মিনিটে এগিয়ে যাওয়া জুভেন্টাস ২৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছিল হুয়ান কাদরাদো জাল খুঁজে পেলে। ওই গোলটির রূপকার আলভারো মোরতা আবার একক প্রচেষ্টায় নিজেদের বক্সের সামনে থেকে বেশ কয়েকজন বায়ার্ন খেলোয়াড়কে ফাঁকি দিয়ে পাস দিয়েছিলেন কাদরাদোকে। তাতে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা অঘটন ঘটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখানোর পথ রেখেছিল তৈরি করে। কিন্তু ম্যুলারের হেডটা শেষ করে দিল জুভেন্টাসের সব স্বপ্ন! ৭৩ মিনিটে রবার্ত লেভানদোস্কির হেডে বায়ার্ন ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল ঠিকই, তবে জুভেন্টাসের কড়া রক্ষণ ভেঙে সমতায় ফিরতে পারছিল না কোনোমতেই। শেষ পর্যন্ত জার্মান আক্রমণে টিকতে পারেনি ইতালিয়ান রক্ষণ। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে কিংসলে কোমানের ক্রস হেড করে ম্যুলার জালে জড়ালে আনন্দের ঢেউ ওঠে আলিয়েঞ্জ অ্যারেনায়। যেন জয়ের উল্লাস। হবেই-বা না কেন, ওই গোলটাতেই যে কোয়ার্টার ফাইনালের আশা ফেরে বায়ার্ন সমর্থকদের মনে।

নির্ধারিত সময় ২-২ গোলে শেষ হওয়ায় দুই লেগ মিলিয়ে বায়ার্ন-জুভেন্টাস তখন দাঁড়িয়ে ৪-৪ সমতায়। ম্যাচ গড়ায় তাই অতিরিক্ত সময়ে। প্রায় শেষ হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা নতুন করে আশা জাগানোর পর বায়ার্নের আত্মবিশ্বাসের পারদ তখন আকাশ ছুঁয়েছে। আর দুই গোলে এগিয়ে থাকার পর ড্র করে ৯০ মিনিট পার করা জুভেন্টাসকে ঘিরে ধরেছিল হতাশার কালো ছায়া। সেই ছায়া অন্ধকারে রূপ নেয় অতিরিক্ত সময়ের ১৮ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় থিয়াগো আলকান্তারা জাল খুঁজে পেলে। আর মিনিট দুয়েক পর বায়ার্নের জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন কোমান।

অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচ জয়ের পর বায়ার্ন কোচ পেপ গার্দিওলা বললেন, ‘ইতালিয়ান দলের বিপক্ষে চার গোল। অসাধারণ! আমি জানি না ইতালির কোনো দলের বিপক্ষে জার্মান কোনো দল চার গোল দিয়েছে কি না। আমরা গত আসরের ফাইনালিস্টদের বিপক্ষে খেলেছি আর ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ফিরে আসাটা খুব কঠিন। ’

ন্যু ক্যাম্পে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। ১৮ মিনিটে নেইমারের লক্ষ্যভেদে এগিয়ে যাওয়ার পর ৬৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছিলেন লুই সুয়ারেস। ‘এমএসএন’-এর অন্যজন—মেসি জাল খুঁজে পেয়েছেন ৮৮ মিনিটে। তাতে একটা রেকর্ডও গড়েছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে তাঁর এটি নবম লক্ষ্যভেদ। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে নির্দিষ্ট কোনো দলের বিপক্ষে এটাই সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এএফপি


মন্তব্য