kalerkantho


রাতভর পার্টির পর গেইলের তাণ্ডব!

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রাতভর পার্টির পর গেইলের তাণ্ডব!

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলেননি ক্রিস্টোফার হেনরি গেইল। হয়তো প্রয়োজনই মনে করেননি! ফ্র্যাঞ্চাইজি আর আন্তর্জাতিক—সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্ব আসরের ম্যাচটি দিয়ে ২৮৬টি কুড়ি ওভারের ম্যাচ হয়ে গেল এ জ্যামাইকানের।

বিশ্বজুড়ে এত এত ম্যাচ খেলে বেড়ানো গেইলের একটি ম্যাচে মাঠে না নামলে কী-ই বা আসে যায়! প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার বদলে তাই রাতভর করেছেন পার্টি। আরব সাগরতীরের মুম্বাইয়ের অভিজাত নাইটক্লাবগুলোতে রাত্তিরে দেখা মিলবে বিনোদন জগতের তারকাদের। বলিউডে দু-চারটি সিনেমা করা স্নেহা উল্লাল ছিলেন গেইলের নৈশ অভিযানের সঙ্গী, সতীর্থ ডোয়াইন ব্রাভো নিয়েছিলেন ডিজের ভূমিকা। নেচে-গেয়ে মনের আর্গল খুলে সব ক্লান্তি আর দুশ্চিন্তাকে বের করে দেওয়ার পরই ইংল্যান্ডের সঙ্গে নামলেন ফুরফুরে মেজাজে। সেটাই যে কাল হলো টি-টোয়েন্টির জনকদের। গেইলের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রূপ ধরে আসা টর্নেডোতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল তাদের ১৮২ রানের সাজানো বাগান।

জ্যামাইকার আরেক খ্যাতিমান, গেইলের বন্ধু উসাইন বোল্ট অলিম্পিকে সোনা জেতার পর বলেছিলেন, ‘এখন কি আমাকে জীবন্ত কিংবদন্তি বলা যায়!’ টুইটারে সেভাবেই গেইল নিজেকে দাবি করলেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ‘বস’ হিসেবে। নিজেকে ‘ইউনিভার্স বস’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন গেইল, ওদিকে অমিতাভ বচ্চন গেইলের এমন ইনিংস দেখে টুইট করেছেন, ‘মুম্বাইতে না থাকার কারণে তোমার সঙ্গে দেখা হলো না, আর তোমার গলায় আমার গান শোনা হলো না। তবে অবশ্যই দেখা হবে।

দারুণ খেলেছ। ’ গেইলও উত্তর দিয়েছেন, ‘নিশ্চয়ই আমরা দেখা করব। ’ আইপিএল সূত্রে ভারতে বছরের বড় একটা সময় কাটানো গেইল মুম্বাইয়ের তারকাদেরও কাছের মানুষ হয়ে উঠেছেন, তাই তো খেলা শেষেও ছিল পার্টির নিমন্ত্রণ। সব শেষ করেই গতকাল ভোর নাগাদ ক্লান্ত হয়ে ঘুমাতে গেছেন তিনি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সতীর্থ সুলেমান বেনের কথা রাখতেই নাকি তাঁর এই সেঞ্চুরি, ‘সুলেমান বলল, আমি যেন মাঠে নেমে তাকে আনন্দ দেই। এই কথাটাই আমার মাথায় খেলল। আমি চেষ্টা করি দুনিয়াজুড়ে লোককে আনন্দ দিয়ে যেতে। এটাই আমার লক্ষ্য। ’ নিজের ইনিংস নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘গোটা বিশ্ব দেখছে, তাই ইউনিভার্স বসকে কিছু একটা করতেই হতো আর সে তা করেছে। গেইল শক্তি হারিয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ডকে। ’ গেইলের ধ্বংসলীলার পেছনে খানিকটা অবদান আছে ব্রাভোরও। তাঁর সুরেই যে এই ধ্বংসের গান! ওয়েস্ট ইন্ডিজের এ অলরাউন্ডার শখের ডিজেও, ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচের আগে শোনালেন তাঁর নতুন গান ‘চ্যাম্পিয়ন’। ২০১২ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টি জেতার পর গোটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের গ্যাংনাম নাচ মুগ্ধ করেছিল সবাইকে। কোচ ফিল সিমন্স বলছেন, এবারের বিশ্বকাপে ব্রাভোর চ্যাম্পিয়ন গানের তালেই নাচবে সবাই, যার শুরুটা হয়েছে গেইলকে দিয়ে! গেইলকে স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডসের সঙ্গে তুলনা করলেন সিমন্স, একজন ব্যাটসম্যানের জন্য যা নিঃসন্দেহে সেরা প্রাপ্তি, ‘আমার সময়ের একটা লোকের সঙ্গেই তার তুলনা চলে, সে হচ্ছে স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস। ভিভ যেমন মাঠে নেমে বিপক্ষকে তছনছ করে দিত, সেও ঠিক তা-ই করে। ’ এএফপি, টুইটার


মন্তব্য