kalerkantho

সোমবার । ১৬ জানুয়ারি ২০১৭ । ৩ মাঘ ১৪২৩। ১৭ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সম্প্রীতির হাওয়া!

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সম্প্রীতির হাওয়া!

কেউ কেউ কিন্তু এমনটাও বলছেন, ধর্মশালা থেকে ম্যাচটা ইডেন গার্ডেনসে সরাতেই এত নাটক করেছে পাকিস্তান। রাজনৈতিক উত্তাপ আর নিরাপত্তার বিষয় যেখানে বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে আসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তানের, সেখানে এমন ভাবনার জায়গা কোথায়!

এর পরও যদি একবারের জন্য ধরে নেওয়া যায়, তাহলে কিন্তু যুক্তিও থাকছে। ইডেনে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান যে সুবিধা পাবে, অন্য কোথায় সেটা মিলবে! কলকাতার এই মাঠে ভারতের বিপক্ষে কখনো যে হারেনি পাকিস্তান। এবার আবার যোগ হয়েছে দর্শক সমর্থনও। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে শহীদ আফ্রিদিদের নাম ধরে চিত্কার করেছে কলকাতার দর্শকরা। অবশ্য শনিবার ভারতের বিপক্ষে সেই সমর্থন কি আর মিলবে তাদের! বাংলাদেশ ম্যাচের মতো না হলেও ভারতীয়দের ভালোবাসা নিশ্চিত পাবে আফ্রিদিরা। প্রতিবেশী দেশের ক্রিকেট দ্বৈরথে আগে যেটা দেখা যায়নি কখনো, এবার সেটাই করে দেখাচ্ছেন দুই দেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। একদিকে পাকিস্তানের পতাকার রঙের মাঝে নিজের ছবি পোস্ট করে ‘শান্তির ডাক’ দিচ্ছেন ভারতীয় কোনো সমর্থক, অন্যদিকে ভারতকে সমর্থন দিয়ে প্রোফাইলের ছবি বদলে ফেলছেন কোনো পাকিস্তানি। মহারণের উত্তাপের মাঝে তাই উড়ছে সম্প্রীতির পতাকাও।

১৯৪৭ সালে আলাদা দুই দেশে রূপ নেওয়ার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছে তিনটি। আর রাজনৈতিক টানাপড়েনের গল্প তো চলছে সেই কবে থেকে। সেটাই যেন বেশি করে ফুটে ওঠে ২২ গজের লড়াইয়ে। পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক, ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ ক্রিকেট রোমান্টিকদের হূদয়ে উত্তেজনার বাতাস বইয়ে দিয়ে যায় একইভাবে। শনিবার বিশ্ব টি-টোয়েন্টি দিয়ে আরেকটি রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। ইডেনের ওই মহারণের আগে দুই দেশের সমর্থকদের একে অন্যকে সমর্থন দেওয়ায় উত্তেজনার পারদটা কি নেমে গেল না একটু! মাঠের লড়াইয়ে যা-ই হোক, মাঠের বাইরে কিন্তু অন্য রকম এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দুদেশের ক্রিকেট ভক্তরা। রাম নামের মুম্বাইয়ের এক ভক্ত প্রোফাইলের ছবি বদলিয়ে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানকে আমি ঘৃণা করি না। ’ এহসানউল্লাহ নামের পাকিস্তানি আবার বলেছেন, ‘আমার অনেক ভারতীয় বন্ধু আছে। আমরা সবাই দুই দেশের মধ্যে শান্তি চাই। ’

 

শান্তির একটা নমুনা গতকাল দেখা গিয়েছে ইডেনের অনুশীলনে, যখন সুরেশ রায়না ও শোয়েব মালিক জড়িয়ে ধরেন একে অন্যকে। মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য সব ভুলে জয়ের লক্ষ্যে নামবে দুদল। ঘরের মাঠ বলে ভারতের এগিয়ে থাকা স্বাভাবিক, তবে ইডেন বলে পাকিস্তানকেও ধরতে হচ্ছে ফেভারিট। ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার কিন্তু ফেভারিট মানছেন আফ্রিদিদের। কারণ ব্যাখ্যায় বললেন, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে যাওয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে চাপে থাকবে ভারত। শনিবারের ম্যাচে তাই পাকিস্তান ফেভারিট হয়ে শুরু করবে। ’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘লড়াইটা হবে ভারতের ব্যাটিং বনাম পাকিস্তানের বোলিং। যদিও ভারতের বোলিং উন্নতি করেছে গত কিছু দিন। অশ্বিন ভালো বোলিং করছে, নেহরাও ফিরেছে অসাধারণভাবে। সঙ্গে রয়েছে জাসপ্রীত বুমরাহ। ’ পিটিআই


মন্তব্য