kalerkantho

বুধবার । ২৫ জানুয়ারি ২০১৭ । ১২ মাঘ ১৪২৩। ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৮।


এখনই আশাহত নন মাশরাফি

কলকাতা থেকে প্রতিনিধি    

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এখনই আশাহত নন মাশরাফি

একের পর এক সীমান্ত জয় করেছেন তিনি। কত পরাক্রমশালী দুর্গ ধসে পড়েছে তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে! দিগ্বিজয়ী সেই সেনাপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা কাল এসে থমকে যান পাকিস্তান-সীমান্তে।

হতাশ-বিমর্ষ-বিষণ্ন এক অধিনায়কই তাই আসেন কাল ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে।

দিনের শুরুতে কাল আরো একবার টসে হারেন মাশরাফি। টস তো আর অনুশীলন করা যায় না। কিন্তু ম্যাচে শেষে সেটি হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক। আর তা ভেবে নিজের দুর্ভাগ্যকে নিশ্চয়ই শাপশাপান্ত করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মুখে অবশ্য তা স্বীকার করেন না, ‘জানি না টস কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উইকেট কিন্তু অত পরিবর্তন হয়নি। আমরাও ১৪৫-এর মতো করেছি। আসলে ওরা যদি ১৬০-১৭০ রানের মতো করত, তাহলে হয়তো তা তাড়া করে জেতা সম্ভব ছিল। উইকেট তেমনই ছিল। আর আমরাও পরিকল্পনা করেছিলাম আগে ব্যাটিং করতে। যদি ওটা হতো, তাহলে ভিন্ন কিছুও হতে পারত। ’ টস নিয়ে মাতামাতি না করে মাশরাফি বরং নজর দিতে চান নিজেদের ব্যর্থতার দিকে। বিশেষত নিজ দলের বোলারদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করান মাশরাফি, ‘অবশ্যই রানটা বেশি হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ অনুসারে। আমরা প্রথম ৬ ওভার থেকে খেলাটা ধরতে পারিনি। পরবর্তীতে আমরা আমাদের পরিকল্পনামতো কাজ করতে পারিনি। ’ অবশ্য ব্যাটসম্যানদের খুব বেশি দোষ দিতে রাজি নন তিনি, ‘ব্যাটসম্যানদের বিষয়ে কিছু বলব না। কারণ ২০০ রান তাড়া করতে গেলে অনেক ঝুঁকি নিতে হয়। আর আমির ও ইরফানকে তাড়া করা যেকোনো উইকেটে খুব কঠিন। প্রথম চার ওভারে আমরা খুব ভালো পজিশনে ছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে সাব্বির আউট হলে আমরা খুব খারাপ পজিশনে চলে আসি। হয়তোবা ওই সময় ৫০ কিংবা ৬০ রানে চলে আসলে কিংবা জুটি হলে ভিন্ন কিছু হতে পারত। ’

ভিন্ন কিছু হয়নি বাংলাদেশের। কাজ হয়নি ঝুঁকি নিয়ে। পাকিস্তান কিন্তু এ ক্ষেত্রে সফল। সেটিই মনে করিয়ে দেন মাশরাফি, ‘আহমেদ শেহজাদ ও হাফিজ যখন ব্যাটিং করছিল তখন তারা কৌশলগত ঝুঁকি নিয়েছিল। সে কাজে ওরা সফল। ছয় ওভার পরই তাদের হাতে ম্যাচটি চলে যায়। তবু আমরা আরো ভালো কিছু করতে পারতাম। ১৬০ কিংবা ১৭০ হলে আমরা ভিন্ন ফল করতে পারতাম। কিন্তু ২০০ সব সময়ই কঠিন। ’ বাংলাদেশের বোলিংকে নেতিবাচক না বলে বরং পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদেরই কৃতিত্ব দেন তিনি, ‘আমাদের নেতিবাচক মনোভাব ছিল না। আসলে ওরা যেগুলো করেছে, সেগুলো আমরাও আমাদের মতো করে চেষ্টা করেছি। ওরা যখন প্রথম ছয় ওভারে যে শটগুলো খেলছিল, আমরা সে চাপ নিতে পারিনি। তখন থেকেই আমরা পিছিয়ে গিয়েছি। আমার মনে হয় সবাই ইতিবাচক ছিল। ওরা যখন অ্যাটাক করেছে তখন আমরা পিছিয়ে যাই। ’

এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান অধিনায়ককেই কৃতিত্ব দেন মাশরাফি, ‘আফ্রিদি একটু আগেই ব্যাটিংয়ে আসে। সে কাজটা করেছে, তাতে সে সফল। এ জন্য ওকে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। তবু বলব, এখানেও আমরা ভিন্ন কিছু করতে পারতাম। ’

পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে পারেনি বলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা শেষ, এমনটা মানছেন না মাশরাফি। পরের ম্যাচগুলোয় ভালো করার তাগিদ তাঁর, ‘পরের ম্যাচে আমাদের অবশ্যই ভালো করতে হবে। বেঙ্গালুরুতে এর থেকে আরো ফ্ল্যাট উইকেট হবে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন আপ আরো শক্তিশালী হবে। অবশ্যই আমাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে অপেক্ষা করছে। ’ ম্যাচপ্রতি এগোনোর দর্শনে অসিদের বিপক্ষে ম্যাচেই মূল মনোযোগ তাঁর, ‘আমি মনে করি আমাদের মাইন্ড সেট আপ ঠিক করতে হবে। আমাদের আবার ফিরে আসতে হবে। আসলে দূরের কথা বলা কঠিন। আমাদের লক্ষ্য সামনের ম্যাচ। এ গ্রুপের প্রতিটি ম্যাচই আমাদের জন্য কঠিন হবে। ’ গ্রুপের সেরা দুই দলের মধ্যে থেকে সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না মাশরাফি, ‘আসলে আলাদা করে বলার কিছু নেই। এ গ্রুপে চারটি দলই এসেছে যারা সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনাল খেলবে। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা ওদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশা করছি। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের যে খেলাটা খেলার কথা ছিল সেটার কিছুই আজ করতে পারিনি। এখন সামনে কঠিন ও ভিন্ন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ভারত ও নিউজিল্যান্ড খুব ভালো ফর্মে আছে। অস্ট্রেলিয়া তো সব সময়ই কঠিন দল। ’

কাল পাকিস্তানের কাছে যেভাবে হারে বাংলাদেশ, তাতে ওই তিন প্রতিপক্ষকে এখন আরো কঠিন মনে হওয়ার কথা। তাতে ওই প্রতিপক্ষদের দুর্গ জয়ের চ্যালেঞ্জটা মাশরাফি-ব্রিগেডের আরো বেশি। পাকিস্তানের বিপক্ষে পারেনি বলে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও যে পারবে না—তা তো নয়!


মন্তব্য