kalerkantho


শেখ জামালের জয় উপহার সেলাঙ্গোরকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক    

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শেখ জামালের জয় উপহার সেলাঙ্গোরকে

তারা যেন উচ্ছন্নে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ডিফেন্ডাররা গোলমুখ খুলে দিয়ে গোলের আবাহন জানান আর গোলরক্ষক উন্মুখ হয়ে থাকেন গোল খাওয়ার জন্য।

তাদের গোল ক্ষুধা মিটেছে আর তাতেই মুছে গেছে শেখ জামাল ধানমণ্ডির ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন। দু-দুবার লিড নিয়েও তারা শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলে হেরেছে মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গোর ফুটবল ক্লাবের কাছে। এএফসি কাপে মালয়েশিয়ানদের প্রথম জয়ের বিপরীতে স্বাগতিকরা পেয়েছে টানা তিন ম্যাচে পরাজয়ের বিস্বাদ।

অমন গোলরক্ষক আর ডিফেন্স থাকলে হারের নিয়তি কেউ খণ্ডাতে পারবে না। পারেননি শেখ জামালের দুর্ধর্ষ বিদেশি ফরোয়ার্ড-ত্রয়ীও। বিস্ময়কর এক প্রতিযোগিতা ছিল দলের ভেতরে। ওয়েডসন-ল্যান্ডিং-এমেকা মিলে গোল করছেন আর গোলরক্ষক শহীদুল ও চার ডিফেন্ডার কেষ্ট-তপু-ইয়ামিন-লিঙ্কন করেছেন গোল খাওয়ার কীর্তি। কত দৃষ্টিকটুভাবে গোল খাওয়া যায়, এই ম্যাচ না দেখলে কল্পনায়ও মেলানো যাবে না। শেখ জামাল কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকের জন্য এই হার মেনে নেওয়া কঠিন, ‘আমরাই জয় উপহার দিয়েছি সেলাঙ্গোরকে।

গোলরক্ষক-ডিফেন্ডারদের ব্যক্তিগত ভুলেই গোলগুলো হয়েছে। ডিফেন্সে কেষ্ট, তপু, ইয়ামিনরা এত ভুল করেছে...। শেষের দুটো গোল তো গোলরক্ষক সোহেলের (শহীদুল আলম) ভুলে হয়েছে। ’

ম্যাচের শুরুতে মালয়েশিয়ান ক্লাব দলের আধিপত্যে একটু চাপেই ছিল স্বাগতিকরা। হঠাত্ সেই চাপ উবে যায় ল্যান্ডিং দারবোয়ের গোলার মতো এক শটে। ২৮ মিনিটে হঠাত্ এই গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ডের প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া শটটি পোস্ট ঘেঁষে জালে পৌঁছে গেলে এএফসি কাপে শেখ জামাল গোলের মুখ দেখে। দলের ভেতর আত্মবিশ্বাস ফেরে, হয়তো বা জেতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তবে এই বিশ্বাস আর স্বপ্ন গোলরক্ষক-ডিফেন্সকে ছুঁয়েছে কি না বলা মুশকিল। মিনিট দশেক বাদেই অবশ্য ডানদিক থেকে আর্জেন্টাইন আন্দ্রে অলিভির চমত্কার ক্রসে দীর্ঘদেহী লাইবেরিয়ান প্যাট্রিক রোনালদিনহোর হেডে সমতায় ফেরে সেলাঙ্গোর। গোলরক্ষক শহীদুল বেরিয়ে এসেও বলের নাগাল পাননি।

বিরতি থেকে ফেরার পর শেখ জামালের গোলরক্ষক-ডিফেন্ডাররা মিলে উচ্ছন্নে যাওয়ার খেলা খেলেছেন। ৫৩ মিনিটে এক থ্রুয়ে পরাস্ত হয়ে তপু বর্মণ ছুটেছেন রোনালদিনহোর পেছন পেছন। এটাই পুরো ম্যাচে জামাল ডিফেন্ডারদের প্রতীকী চিত্র। লড়াইয়ে সব সময় পেছনেই পড়েছেন। পোস্টের সামনে দেওয়া স্কয়ার পাসটিও ঠেকাতে পারেননি, তাই গোপীনাথন হালকা টোকায় এগিয়ে নেন মালয়েশিয়ান ক্লাব দলকে। গোল খেলেও সমস্যা নেই, জামালের ফরোয়ার্ড-ত্রয়ীর পায়ে ছিল গোলের ঘনঘটা। ৬৪ মিনিটে বক্সের মাথায় চমত্কার বিল্ডআপের পর ল্যান্ডিং শট মালয়েশিয়ান গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলেই তিনি আবার হেড করে বল ফেলেন পোস্টের সামনে। তাতে নাইজেরিয়ান এমেকা ডার্লিংটনের হেডে সমতায় ফেরে ম্যাচ। পরের মিনিটেই ওয়েডসন অ্যানসেলমের দুর্দান্ত এক মুভে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বাঁদিক ধরে হাইতিয়ান এই ফরোয়ার্ড দু পায়ের ঝলকে এক ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে আগুয়ান গোলরক্ষকের পাস দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দিলে সত্যি সত্যি ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তারা। কিন্তু গোলরক্ষক আর ডিফেন্ডার মিলে যে সেই স্বপ্ন নস্যাত্ করে দেবেন, এটা কেউ ভাবেনি! ৭০ মিনিটে জামাল ডিফেন্সে অলিভি অরক্ষিত দাঁড়িয়ে, রোনালদিনহোর কাট-ব্যাকটি গড়ানো শটে পাঠিয়ে দিয়েছেন পোস্টে। সেটিও গেছে গোলরক্ষক শহীদুল আলমের পাশ দিয়ে। ৮৩ মিনিটে এই গোলরক্ষক আরেকটি দুর্দান্ত(!) কীর্তি করেছেন একটি অসম্ভব গোল খেয়ে। প্রায় শূন্য ডিগ্রিতে বল নিয়ে দাঁড়িয়ে অর্জেন্টাইন অলিভি, কোনোভাবেই গোল হয় না। কিন্তু নিরীহ গড়ানো শটটি শহীদুলের পায়ে লেগে গোলে ঢুকে গেলে জয়ের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।


মন্তব্য