kalerkantho


গেইলের সামনে ইংল্যান্ড

সামীউর রহমান   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গেইলের সামনে ইংল্যান্ড

ধর্মশালায় যখন তুমুল ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে, একের পর এক ম্যাচের আয়ু কমে যাচ্ছে বৃষ্টির তোপে, কোনোটি বা মাঠেই গড়াতে পারছে না, তখন নাগপুর শান্ত শুকনো খটখটে। ভারতের একদম কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত শহরে এখন পর্যন্ত হয়ে যাওয়া টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরের কোনো ম্যাচই ঝড়-বৃষ্টির বাগড়ায় পড়েনি।

তবে আজ বিনা মেঘে ঝড়ের সমূহ সম্ভাবনা, কারণ ক্রিস গেইল নামছেন যে!

পোশাকি নাম প্রথম পর্ব হলেও আদতে বাছাই পর্বের আরেক ধাপ। সেটা শেষ হওয়ার পর কাল শুরু হয়ে গেছে সুপার টেন। এত দিন মাঠে আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ের মতো দলগুলোর খেলতে দেখে যারা স্টেডিয়ামে আসতে উত্সাহী ছিল না, তাদের জন্য সুসংবাদ। টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস গেইল যে নামতে চললেন, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। অবশ্য গেইলের ব্যাট যেদিন চলে সেদিন ইংল্যান্ড আর গ্রিনল্যান্ডে কোনো তফাত নেই, বোলারদের একই নিয়তি বাঁধা। গেইলকে বলা যায় টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। দেশে-বিদেশে নানা প্রাইভেট লিগে খেলে বেড়ান, সব জায়গাতেই তাঁর চাহিদা তুঙ্গে। টি-টোয়েন্টির ব্যাটিংয়ের সঙ্গে শারীরিক শক্তির একটা সম্পর্ক আছে, গেইলের আকৃতিটাও সে ক্ষেত্রে বলা যায় ‘টি-টোয়েন্টিসুলভ’। তা ছাড়া টি-টোয়েন্টিটা ঠিক টেস্ট বা ওয়ানডের মতো গুরুগম্ভীর নয়, একটু হালকাচালের।

গেইলের বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মাঠে চলে আসা এবং সেঞ্চুরি করে রাতের ফ্লাইটেই বিদায় নেওয়া কিংবা আউট হয়ে গিয়েই সুন্দরী টিভি উপস্থাপিকার সঙ্গে হাস্যরসে মেতে ওঠার মধ্যেও সেই লঘুতা বিদ্যমান। তাই টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি থাকলেও এ সময়ের গেইল আসলে টি-টোয়েন্টির সমার্থক।

আইপিএল খেলতে বছরের বড় একটা সময় ভারতে কাটান গেইল। তাই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁর কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এ জন্যই বোধ হয় খেলেননি দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে, অবশ্য দেশ ও ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট মিলিয়ে প্রায় ৩০০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা গেইলের খুব একটা বাড়তি প্রস্তুতি লাগার কথাও নয়। বিগব্যাশে ১২ বলে ৫০ রান করে টি-টোয়েন্টির দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন, টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটারও (৬৬ বলে ১৭৫) মালিক এই জ্যামাইকান, এমনকি এ ফরম্যাটে প্রথম সেঞ্চুরিও তাঁর। অধিনায়ক সামি তাই তো নির্দ্বিধায় বলতে পারেন, ‘টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ব্যাটসম্যান আমার দলের হয়ে খেলে এবং সে খেলাটার নাড়িনক্ষত্র জানে। ’

টেস্ট এবং ওয়ানডেতে ক্ষয়িষ্ণু শক্তি হলেও টি-টোয়েন্টিতে এখনো দাপুটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্লাইভ লয়েডদের পরের সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গেছে একটিই বিশ্বকাপ, ২০১২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্ব আসর জিতে তাদের গ্যাংনাম নাচের স্মৃতিটা এখনো উঁকি দেয়। গেইল ছাড়াও বেশ কয়েকজন টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞকে নিয়ে গড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সামনেই আজ পড়তে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টির জনকরা!

ক্রিকেট খেলাটার জন্ম ইংল্যান্ডে, তবে ঠিক কবে ও কখন তার ঠিকুজি না মিললেও টি-টোয়েন্টি যে খাঁটি ‘ইংলিশ প্রোডাক্ট’ এর দালিলিক প্রমাণ আছে। ফুটবলপাগল তরুণ প্রজন্মের কাছে ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করার প্রয়াসে ইংল্যান্ডেই শুরু হয় ২০ ওভারের এই ক্রিকেট। অবশ্য অন্য অনেক খেলার মতোই ইংল্যান্ডের আবিষ্কৃত এ খেলায় অন্যরা প্রায়ই তাদের হারিয়ে দেয়। তবে টি-টোয়েন্টিতে একটা বিশ্বকাপ তাদের আছে, ২০১০ সালের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ক্রিকেট থেকে পাওয়া একমাত্র বৈশ্বিক শিরোপা। তা ছাড়া ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর দেশে চরম সমালোচনার শিকার হওয়া ইংল্যান্ড দল টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরেও নিশ্চয়ই তার পুনরাবৃত্তি চায় না! সেই ভাবনার ছাপ দল বাছাইতেও।   প্রস্তুতি ম্যাচ দুটোই জিতেছে ইংল্যান্ড, তাই ক্যারিবীয়দের বিপক্ষেও জয়ের আশা তারা করতেই পারে। তবে গেইলের কাছে যদি আদিল রশিদ, লিয়াম প্লাঙ্কেটদের বলগুলো নাগপুরের কমলার মতোই মিষ্টি আর রসালো মনে হয়, তাহলে ইংল্যান্ডকে জয়ের আশা ভুলতেই হবে!


মন্তব্য