kalerkantho


টসটা মাশরাফিকে ভুগিয়েই যাচ্ছে

ধর্মশালা থেকে প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



টসটা মাশরাফিকে ভুগিয়েই যাচ্ছে

সোনারঙা রোদ্দুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট ভাসছে তাঁরই অধিনায়কত্বে। একের পর এক গড়ছে হিরণ্ময় সব সাফল্য-সৌধ।

এই জাদুকরের জিয়নকাঠির স্পর্শে যেন পাথরে ফোটে ফুল; ছাইও হয়ে যায় হীরকখণ্ড। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটের বাঁকবদলের সেই মহানায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাই আবার টসের ক্ষেত্রে একেবারেই পার্শ্বচরিত্রের একজন। উল্লেখ করার মতো সাফল্য নেই যাঁর।

গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস হারের ধারাবাহিকতা কাল তো ধরে রাখেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ওমানের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও হারে মুদ্রা নিক্ষেপণের ভাগ্য পরীক্ষায়। বোলিংয়ের পাশাপাশি বোধকরি টসের অনুশীলনটাও খুব করে করা দরকার মাশরাফির!

ক্রিকেটে কখনো-সখনো টস হয়ে ওঠে মহাগুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে অনেক সময় তা হয়ে যায় ম্যাচের গন্তব্য নির্ণায়ক। কেননা তখন টস জেতা দল প্রায় নিশ্চিতভাবে শুরুতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানাবে। দৈর্ঘ্য কমে আসা খেলায় পরে ব্যাটিং সব সময় সুবিধার।

এই যেমন সর্বশেষ এশিয়া কাপ ফাইনাল। ভারতের কাছে ওই ম্যাচে হারের জন্য টস হারের দুর্ভাগ্যকে কতবারই তো সামনে নিয়ে আসেন মাশরাফি! ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে টস হারেই ম্যাচের ভাগ্যলিপি অনেকটা লেখা হয়ে যায় বলে তাঁর আফসোস। বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বৈরথেও ভাগ্যবিধাতা হাসে না মাশরাফির দিকে চেয়ে। ১২ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ ক্যাম্পে তাই শঙ্কা ছিল অনেক। তামিম ইকবালের সাইক্লোন-ব্যাটিংয়ে সেই দুশ্চিন্তার মেঘ অনেকটা কেটে যায় বটে। আর শেষ পর্যন্ত তো বৃষ্টির আরেক ঝাঁপে খেলাটিও শেষ হতে পারেনি।

একই সঙ্গে শেষ না মাশরাফির টস-দুর্ভাগ্য। কাল ওমানের বিপক্ষে ম্যাচের আবহজুড়ে বৃষ্টির আশঙ্কা। আর সেই ম্যাচে আবারও তো টস হারেন বাংলাদেশ অধিনায়ক! আর ওমান যথারীতি পরে ব্যাটিং নেয় বেছে। এখন মাশরাফি-ব্রিগেডের দায় সেনাপতির এই দুর্ভাগ্যকে জয় করে ওমান-সীমান্ত জয় করা। বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে তোলা।

এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড ও ওমান—গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের হিসাব করলে টানা তিন খেলায় টস হারলেন মাশরাফি। আর যদি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ শব্দটি হিসাব থেকে বাদ দিন, তাহলে টানা পাঁচ টি-টোয়েন্টিতে হার। ভাবা যায়! এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে শুরু এই টস-গেরো। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে, এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, ওমান—কোনো ম্যাচের ভাগ্যদেবী সুপ্রসন্ন হননি মাশরাফির প্রতি।

আর এমনও তো না যে অধিনায়কত্ব ক্যারিয়ারে এই প্রথম টস-হারের বৃত্তবন্দি মাশরাফি। এই চক্করে তিনি ক্যারিয়ারজুড়েই। ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজে যান অধিনায়ক হিসেবে। কিংসটাউনের সেই প্রথম ম্যাচে টসে কিন্তু ঠিকই জেতেন মাশরাফি। কিন্তু সকালের সূর্য তো আর সব সময় দিনের পূর্বাভাস ঠিকঠাক দেয় না! যে কারণে টস-পরিসংখ্যানে মাশরাফি অমন বিবর্ণ। ওই এক ম্যাচের পর আর কোনো টেস্টে অধিনায়ক কী, খেলোয়াড় হিসেবেই মাঠে নামা হয়নি তাঁর। টেস্টে তাই টস জয়ের রেকর্ডে শতভাগ সাফল্য। সেটিও সামগ্রিক রেকর্ডকে কিভাবেই না বিভ্রান্ত করে! ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুটিতেই যে টসে জয়ের চেয়ে মাশরাফির হার অনেক বেশি!

অধিনায়ক হিসেবে ২৮ ওয়ানডেতে টস করতে যান ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। এর মধ্যে সাফল্যের হাসি মাত্র ১১ বার। বাকি ১৭ ম্যাচেই প্রতিপক্ষ অধিনায়কের ইচ্ছানুযায়ী ব্যাটিং বা বোলিং করতে হয় বাংলাদেশকে। টি-টোয়েন্টিতেও একই অবস্থা। কুড়ি-বিশের এই ফরম্যাটে কাল ১৯তম বার টস করতে যান মাশরাফি। হারে ১২তম বারের মতো। আর জয় মাত্র সাত ম্যাচে। মাশরাফি অবশ্য এ ক্ষেত্রে ‘পিছিয়ে’ পড়েন সাম্প্রতিক সময়ে। সর্বশেষ পাঁচ খেলায় টস হারকে হিসাব থেকে বাদ দিন। তাহলে তো টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ অধিনায়কের টস জয়ের পরিসংখ্যানে ছিল জয়-হারের সমতা। সমান সাতটি করে ম্যাচে হাসি ও বিষাদে শেষ হয় মাশরাফির টস-ভাগ্য।

আর সব মিলিয়ে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির টস রেকর্ডও বিবর্ণ বেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব মিলিয়ে ৪৮ ম্যাচে অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। এর মধ্যে টস জেতেন ১৯ বার। হারেন ২৯ বার। এই হারগুলোর মধ্যে এশিয়া কাপ ফাইনালের টস হার নিয়ে হাহাকার তো এখনো মিলিয়ে যায়নি বাংলাদেশের ক্রিকেট-অঙ্গন থেকে।

কাল ওমানের বিপক্ষে একই হাহাকারে অবশ্য পুড়তে হয়নি!


মন্তব্য