kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মুখোমুখি প্রতিদিন

অ্যাথলেটিকসের অবস্থা দেখে আমি খুব মর্মাহত

এসএ গেমসে অ্যাথলেটিকসের ৩৭টি ইভেন্টে বাংলাদেশের প্রাপ্তি শুধু ২টি ব্রোঞ্জ। অ্যাথলেটিকসের মান পড়তে পড়তে কোথায় নেমে গেছে দেখে আঁতকে ওঠেন সাবেক অ্যাথলেটদের অনেকে। দক্ষিণ এশীয় আসরে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সোনা জেতা অ্যাথলেট মজিবুর রহমান মল্লিক কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে কথা বলেছেন এ প্রসঙ্গেই

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অ্যাথলেটিকসের অবস্থা দেখে আমি খুব মর্মাহত

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : এসএ গেমসে দুটি ব্রোঞ্জে নেমে এসেছে অ্যাথলেটিকসের সাফল্য, খারাপ লাগে না!

মজিবুর রহমান মল্লিক : ভীষণ! ভাবতেই কষ্ট হয়। একটা সময় আমরা নিয়মিত সোনা জিতেছি অ্যাথলেটিকসে।

প্রথম সাফ, দ্বিতীয় সাফে সোনা এসেছে একাধিক। আমি নিজেই দুটি সোনা জিতেছি ’৮৪-র আসরে। সেখানে আজ অ্যাথলেটদের মান কোথায় নেমে গেছে! গেমস থেকে পুরো দলকে ফিরতে হয় মাত্র দুটি ব্রোঞ্জ নিয়ে, আমি সত্যিই মর্মাহত এই পারফরম্যান্সে। জানি না ফেডারেশন কী করছে, কাদের পাঠাল! সেই মান ওদের আছে কি না, একবারও ভেবে দেখল না!

প্রশ্ন : দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতোও সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে তাহলে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা!

মল্লিক : তা-ই তো দেখা যাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জার। দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের অংশগ্রহণ নিয়ে অন্তত প্রশ্ন থাকার কথা নয়। কিন্তু ব্যর্থতার পাল্লাটা এতই ভারী হয়ে উঠেছে যে প্রশ্নটাও উঠে যাচ্ছে। কোথায় আমাদের দুর্বলতা এখন খুঁজে দেখতেই হবে। অনুশীলনে কোথায় ঘাটতি, কোচিং ঠিকভাবে হচ্ছে কি না—এসব এখনই না দেখলে আমরা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব না।

প্রশ্ন : এ ক্ষেত্রে অ্যাথলেটদের দায়িত্ব কতটা?

মল্লিক : অ্যাথলেটদের অনেক দায়িত্ব। আমাদের সময় সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও ভালো করতে পেরেছি, নিজেদের চেষ্টাটা বেশি ছিল বলেই। এখনকার অ্যাথলেটদের সেই চেষ্টা সেই মানসিকতা আছে কি না আমার সন্দেহ আছে। তারা যেটুকুই সুযোগ পাচ্ছে নিজেদের চেষ্টায় সেখান থেকে আরো ভালো ফল করার কথা ওদের।

প্রশ্ন : মানের সঙ্গে সংখ্যায়ও তো কমে যাচ্ছে অ্যাথলেটদের, এসএ গেমসের বেশির ভাগ ইভেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণই নেই...

মল্লিক : এটাও লজ্জার কথা। দক্ষিণ এশিয়ার আসরে অন্তত সব ইভেন্টে আমাদের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত। এসএ গেমসেই যদি তা না থাকে তাহলে বুঝুন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমরা কতটা পিছিয়ে আছি! এসব নিয়ে আসলে ফেডারেশনে যাঁরা আছেন তাঁদের সঙ্গেই আলোচনা করা উচিত, জিজ্ঞেস করা উচিত, তাঁদের অবদানটা কী। আমি তো তাঁদের কার্যক্রম তেমন দেখিই না।

প্রশ্ন : বিজেএমসির বিপণন এবং ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বে আছেন আপনি, আপনাদেরও অনেক অ্যাথলেট আছে, তারা কেন সেই মানের পারফরম্যান্স দেখাতে পারছে না?

মল্লিক : আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। তেমন সুযোগ-সুবিধা দিতে না পারায় অ্যাথলেটদের আমরা ধরে রাখতে পারি না। আমরা খেলোয়াড় খুঁজে বের করি। ভালো করে ওরাই সেনাবাহিনী, নৌবাহিনীতে চলে যায়।


মন্তব্য