kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘প্রথম’ প্রতিপক্ষ বলেই যা একটু ভয়

ধর্মশালা থেকে প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘প্রথম’ প্রতিপক্ষ বলেই যা একটু ভয়

পাহাড়ের কোলে : পেছনে হিমালয়, সামনে ওমান। জিতলে ঠাঁই হবে সুপার টেনে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে মুস্তাফিজের কাটার খুব করে প্রয়োজন বাংলাদেশ দলের। মুস্তাফিজ কি পারবেন মাঠে নামতে? ছবি : মীর ফরিদ, ধর্মশালা থেকে

সুদিনের সূর্যাস্ত নাকি হয় বড্ড তাড়াতাড়ি। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্য-সূর্য তো মধ্যাহ্নের আলো ছড়াচ্ছে সেই কবে থেকে! প্রায় দেড় বছর ধরে।

ভারত-পাকিস্তানের মতো দল তাই আর পাত্তা পায় না। দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলঙ্কাও মেনে নেয় বাংলার শ্রেষ্ঠত্ব। সেখানে আজকের প্রতিপক্ষ ওমান কোন ছার! তাদের আলাদা সমীহ করার কী রয়েছে!

রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য তারা নতুন প্রতিপক্ষ যে! আর টি-টোয়েন্টিতে নতুন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের রেকর্ড খুব উজ্জ্বল না। আইসিসি সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে রেকর্ডও তো বিবর্ণ বেশ! পূর্ণিমার আলোর চেয়ে অমাবস্যার অন্ধকারটাই বেশি সেখানে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযানে আজ তাই ওমান আলাদা সমীহের দাবি রাখে নিঃসন্দেহে।

কুড়ি-বিশের ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত ৫৭টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ; ১৬ দলের বিপক্ষে। এদের মধ্যে সাত দলের বিপক্ষে প্রথম মুখোমুখিতে জেতে বাংলাদেশ। হার বাকি ৯ দলের বিপক্ষে। এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে আইসিসির পূর্ণ সদস্য ও সহযোগী সদস্যে ভাগ করে রেকর্ডটি দেখা যাক। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এখনো কোনো টি-টোয়েন্টি খেলা হয়নি। বাকি আট দলের মধ্যে মুখোমুখি হওয়া প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ হারে ৬টি ম্যাচে। জয় কেবল জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪৩ রানের জয়টি ২০০৬ সালে খুলনায়; যদিও ঠিক ওই সময়টায় টেস্ট ক্রিকেট থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিল তারা। তুলনায় অনেক বেশি কৃতিত্বপূর্ণ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো। ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্যারিবিয়ানদের ছয় উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এর বাইরে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড—সবার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এই রেকর্ড হয়তো আতঙ্ক ছড়াবে না ধর্মশালার প্রাকৃতিক স্বর্গে থাকা বাংলাদেশ দলের ক্যাম্পে। তবে আইসিসি সহযোগী সদস্য দেশের বিপক্ষে রেকর্ড একটু আশঙ্কা না জাগিয়ে পারে না। এই ব্র্যাকেটবন্দি আট দলের মধ্যে নিজেদের প্রথম খেলায় জয় কেনিয়া, নেদারল্যান্ডস, আফগানিস্তান, নেপাল ও আমিরাতের বিপক্ষে। তবে আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, হংকংয়ের বিপক্ষে প্রথম দর্শনে হারের ইতিহাসও তো রয়েছে! যাতে অস্বস্তির খচখচানি না থেকে পারে না।

কেনিয়ার সঙ্গে প্রথম দেখা ২০০৭ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টির আগে কেনিয়াতে চারজাতি টুর্নামেন্টে। পাঁচ উইকেটে জেতে বাংলাদেশ। ৪৩ রান করা নাজিমুদ্দিন ম্যাচসেরা। ২০১২ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়া প্রথম ম্যাচে জয় আট উইকেটে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই ফরম্যাটে প্রথম দেখা ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। এর ঠিক আগে আগে এশিয়া কাপে ওয়ানডে ফরম্যাটে তাদের কাছে হারে বলে বাংলাদেশের ওপর চাপ ছিল অনেক। সেই চাপ জয় করে ৯ উইকেটে জেতে ঠিকই। একই টুর্নামেন্টে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ জেতে আট উইকেটে। আর সর্বশেষ এশিয়া কাপে আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম মুখোমুখি লাল-সবুজের সূর্যসন্তানরা। নিজেরা ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে অঘটনের মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিল বটে। তবে ব্যাটসমানদের মান বাঁচান বোলাররা। আমিরাতকে ৮২ রানে অলআউট করে ৫১ রানের স্বচ্ছন্দ জয় পায় মাশরাফির দল।

আইসিসির সহযোগী দেশের বিপক্ষে প্রথম দেখায় এই পাঁচ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের তিন হার। প্রথমটি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৯ সালের বিশ্বকাপে। সেখানে ছয় উইকেটে জয় আইরিশদের। আগের ব্যাটিং করে ২০ ওভারে ১৩৭ রানের বেশি করতে পারেনি মোহাম্মদ আশরাফুলের দল। ১০ বল হাতে রেখেই তা টপকে যায় আয়ারল্যান্ড। ২০১২ সালে ইউরোপ সফরে যাওয়া বাংলাদেশ দল প্রথম মুখোমুখি হয় স্কটল্যান্ডের। স্কটিশরা ১৬২ রানই করেছিল। কিন্তু ১৮ ওভারে ১২৮ রানে অলআউট হয়ে ৩৪ রানে হারতে হয় তবু। আর হংকংয়ের বিপক্ষে হারটি আরো লজ্জাজনক। ২০১৪ এশিয়া কাপে এই ‘পুঁচকে’ দলের কাছে দুই উইকেটে হেরে যায়। তাতে শুধু টি-টোয়েন্টি না, বাংলাদেশের ক্রিকেট-সামর্থ্যই পড়ে যায় বড় প্রশ্নের সামনে।

আজ ওমানের বিপক্ষে এর পুনরাবৃত্তি হবে না— ক্রিকেটপাগল ১৬ কোটির এখন এই একটিই প্রার্থনা। সুদিনের সূর্যের সূর্যাস্ত আজ কিছুতেই যেন না হয়!


মন্তব্য