শান্তিতে ঘুমাও ক্রো-334989 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


শান্তিতে ঘুমাও ক্রো

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শান্তিতে ঘুমাও ক্রো

মার্টির ক্রোর স্ত্রী লরিয়েন ডোনস শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে জানাচ্ছিলেন, ‘তাঁকে অনেকে ক্রিকেটের কিংবদন্তি হিসেবে চেনেন, কিন্তু আমার কাছে ক্রো একজন স্বপ্নের জীবনসঙ্গী।

গত বিশ্বকাপের সময়ই বলেছিলেন, বাঁচতে পারেন বড়জোর এক বছর। কিউই কিংবদন্তি মার্টিন ক্রো পৃথিবী ছেড়েছেন তার ১৩ দিন আগে। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ে গত ৩ মার্চ হেরে যাওয়া মার্টিন ক্রোর শেষকৃত্য সম্পন্ন হলো গতকাল। অকল্যান্ডের হলি ট্রিনিটি ক্যাথিড্রালে এক হাজার আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছিল আবেগের আবহ। চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি প্রায় কেউই।

বড় ভাই জেফ ক্রো, চাচাতো ভাই হলিউড তারকা রাসেল ক্রো, স্ত্রী লরিয়েন ডোনস, স্যার রিচার্ড হ্যাডলি, ইয়ান স্মিথসহ শেষকৃত্যে ছিলেন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের অনেকেই। শৈশবে ক্রো পড়াশোনা করেছেন অকল্যান্ড গ্র্যামার স্কুলে। এখানকার হোগান হিরো দলের নেতৃত্ব দেওয়ায় তাঁর ডাকনামই হয়ে যায় ‘হোগান’। গতকাল স্কুলের ছাত্ররা শেষকৃত্যে ক্রোর প্রতি সম্মান জানান বিখ্যাত ‘হোগান হাকা’য়।

নিউজিল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মার্টির ক্রোর স্ত্রী লরিয়েন ডোনস শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে জানাচ্ছিলেন, ‘তাঁকে অনেকে ক্রিকেটের কিংবদন্তি হিসেবে চেনেন, কিন্তু আমার কাছে ক্রো একজন স্বপ্নের জীবনসঙ্গী। স্বামী হিসেবে কোনো মেয়ে যেমন একজন ছেলের ছবি আঁকে, ক্রো ছিল তেমনই স্বপ্নের একজন। রোমান্টিক আর প্রাণবন্ত। শেষদিকে ওর কাছে জানতে চেয়েছিলাম কিভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকতে চাও। ক্রো বলেছিল, ভালোবাসা আর খাঁটি একজন হিসেবে মানুষের প্রার্থনায়।’

ক্রোর মৃত্যুর সময় তাঁর বড় ভাই জেফ ছিলেন বাংলাদেশে। এশিয়া কাপে দায়িত্ব পালন করছিলেন ম্যাচ রেফারির। নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক ছোট ভাইকে স্মরণ করলেন এভাবে, ‘সত্যিকারের অনুপ্রেরণার নাম ছিল ও। ওয়াসিম আকরাম সেদিন বলছিল ক্রোর বিপক্ষে বল করাটাই সবচেয়ে কঠিন ছিল ওর ক্যারিয়ারে। এর চেয়ে ভালো প্রশংসা আর কিছু হতে পারে না।’ ব্যস্ততার জন্য হলিউড তারকা রাসেল ক্রো জানিয়েছিলেন যোগ দেবেন না শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে। তবে শেষ পর্যন্ত এসেছিলেন তিনি। কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন ক্রোর কফিনও। বিশ্ব টি-টোয়েন্টি খেলতে ভারতে আসায় নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা যোগ দিতে পারেননি অনুষ্ঠানটিতে। কয়েকজন অবশ্য পাঠিয়েছেন ভিডিওবার্তা। তাতে ঝরে পড়েছে গভীর শ্রদ্ধা। রস টেলরই যেমন বলেছেন, ‘যখন আমার ক্যারিয়ার হুমকির মুখে তখন ক্রো উদ্বুদ্ধ করেছিলেন আমাকে। এরপর খেলি পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৯০ রানের সেই স্মরণীয় ইনিংস।’ এভাবেই জীবনভর সবাইকে অনুপ্রাণিত করে গেছেন ক্রো। তাঁর শেষকৃত্যে তাই সবারই প্রার্থনা—‘শান্তিতে ঘুমাও ক্রো’। এএফপি

মন্তব্য