kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অ্যানফিল্ডে লিভারপুলময় রাত

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অ্যানফিল্ডে লিভারপুলময় রাত

সাফল্যের পথ বেয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যখন ক্রমশ ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ফুটবল ক্লাব হয়ে উঠছে, তখন ঢালের উলটো পথে লিভারপুল পিছলে নামছে। তাই তো এত বছরেও দেশীয় প্রতিযোগিতার বাইরে, মহাদেশীয় মঞ্চে কখনো মুখোমুখি হয়নি ইংল্যান্ডের সফলতম দুটি ক্লাব।

সেই অপেক্ষা ঘুচল এমন এক সময়ে এবং প্রতিযোগিতায়, তাতে গৌরবের চেয়ে মানসম্মান বাঁচানোটাই মুখ্য। চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে ইউরোপা লিগে। লিভারপুল গত মৌসুমে ষষ্ঠ হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর ইউরোপায়, মৌসুমের মাঝপথে কোচ বদলে তারাও নেই খুব একটা সুবিধার জায়গায়। এমন পরিস্থিতিতেই ইউরোপা লিগের ড্র নামক ভাগ্যচক্র মুখোমুখি করে দিল ফুটবল অন্তপ্রাণ দেশের সবচেয়ে সফল দুই ক্লাবকে। এমন একটা সময়ে, যখন নিজের ক্লাব শিরোপা জিতবে—এই শর্তে বাজি ধরার মতো ম্যানইউ বা লিভারপুল সমর্থকও খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে! অ্যানফিল্ডে, ইউরোপার রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচটার প্রথম লেগ লিভারপুল জিতেছে ২-০ গোলে। পেনাল্টি থেকে প্রথম গোলটি ড্যানিয়েল স্টারিজের, দ্বিতীয়টি ফিরমিনোর। ‘রেড ডেভিল’দের গোলবারে দাভিদ দে গিয়া না থাকলে গোলসংখ্যা আরো বেশিও হতে পারত লিভারপুলের। ১৭ মার্চ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে হবে ফিরতি লেগ, তাতে এই গোল ব্যবধান ঘুচিয়ে বড় ব্যবধানে জিতলেই মিলানের ফাইনালের পথে এক পা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে লুই ফন হালের শিষ্যদের।

ম্যাচে গোলের সুযোগটা প্রথম পেয়েছিল ম্যানইউই। মেমফিস দেপেই’র ক্রসটা যে ডি বক্সে ফাঁকায় পেয়ে যাবেন, সেটা বোধ হয় মাথাতেই আসেনি মার্কাস রাশফোর্ডের। বল তাঁর হাঁটুতে লেগে চলে যায় সীমানার বাইরে। ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা শুরু থেকেই গতি আর ছন্দের ফুটবল খেলতে সচেষ্ট। ‘গেগেনপ্রেসিং’ দিয়ে জার্মান লিগ মাতানো এই তরুণ কোচের শিষ্যরা কাল হতাশ করেননি। স্টারিজের ক্রসে কৌতিনিয়োর দুর্বল শট প্রতিহত হয়েছে দে গিয়া নামক মানবপ্রাচীরে, হেন্ডারসনের উত্সাহী প্রচেষ্টা ডেকে এনেছে হলুদ কার্ড তবে এসবের মাঝেও চালকের আসনে ছিল লিভারপুলই। সেই চাপেই প্রথম গোলের উত্স পেনাল্টি কিকটা তারা আদায় করে নেয় ম্যাচের ২০তম মিনিটে। বক্সের ভেতর দেপেই ফেলে দেন ন্যাথানিয়েল ক্লাইনকে, ফলে স্পটকিকের নির্দেশ রেফারির। স্টারিজের শটে ঠিক দিকে ঝাঁপিয়ে হাতটাও ছুঁইয়ে ফেলেছিলেন দে গিয়া, মিনিটখানেকের দেরিতে দলবদলের ছাড়পত্র পাঠানো না হলে যার এই মৌসুমটা রিয়াল মাদ্রিদের হয়েই খেলার কথা। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে মাইকেল ক্যারিকের ভুল থেকে বল পেয়ে যাওয়া অ্যাডাম লালানা ফিরমিনোকে পাসটা বাড়ালে সেটা জালে জড়াতে একদমই ভুল করেননি এই ব্রাজিলিয়ান। ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা লিভারপুল পরের ১৭টা মিনিটও ধরে রেখেছে এই অগ্রগামিতা। গোটা ম্যাচে ৬০ ভাগ বলের দখল ছিল ‘অলরেড’দের, গোটা ম্যাচে তারা লক্ষ্যে শট নিয়েছে ৮টি, যেখানে ম্যানইউ নিতে পেরেছে মাত্র একটি। গোলে তিনটি শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন দে গিয়া, অথচ লিভারপুলের গোলরক্ষক সিমোঁ মিনোলেকে এমন কোনো চ্যালেঞ্জের মুখেই ফেলতে পারেননি মারুয়ান ফেলাইনি, অ্যান্থনি মার্সিয়াল ও দেপেইরা। জয়ের পর ক্লপ বলছেন, ‘প্রথম মুহূর্ত থেকেই মনে হচ্ছিল, আমাদের ওপর সমর্থকদের আস্থা আছে। অসাধারণ একটা ‘লিভারপুলময়’ রাত কাটল। এ তো সবে প্রথম লেগ, তবে আমরা যদি এভাবে খেলতে থাকি তাহলে দ্বিতীয় লেগেও আমাদের হারানো কঠিন হবে। ’ অন্যদিকে ফেলাইনি এসে বলে গেলেন দে গিয়ার কথাই, ‘সবাই জানে দে গিয়া কতটা ভালো, সেই অনেক খেলায় আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধটা তূলনামূলকভাবে ভালো খেলেছি, তবে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হলেও সেটা কাজে লাগাতে পারিনি। ’

ইউরোপা লিগের অন্যান্য ম্যাচে ক্লপের সাবেক ক্লাব ডর্টমুন্ডও জিতেছে ৩-০ গোলে, টটেনহামের বিপক্ষে। ভিয়ারিয়াল ২-০ গোলে হারিয়েছে লেভারকুসেনকে। অ্যাথলেতিক বিলবাও ১-০ গোলে হারিয়েছে স্বদেশি ক্লাব ভ্যালেন্সিয়াকে। এএফপি


মন্তব্য