পাওয়ার প্লে জয়টাই সবচেয়ে দরকার-334984 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭


পাওয়ার প্লে জয়টাই সবচেয়ে দরকার

নোমান মোহাম্মদ, ধর্মশালা থেকে   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পাওয়ার প্লে জয়টাই সবচেয়ে দরকার

চূড়ান্ত রণক্ষেত্র নয় এটি। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য টি- টোয়েন্টি ফরম্যাটে একটি পর্বের সমাপ্তিরেখা ঠিকই এঁকে দেবে এই বিশ্বকাপ। যে টুর্নামেন্ট সামনে রেখে গত তিন-চার মাস ধরে কত রণপরিকল্পনা চন্দিকা হাতুরাসিংহের! এই ফরম্যাটে ম্যাচ জিতলে হলে যে পাওয়ার প্লের যুদ্ধে জিততে হয়—এটি বাংলাদেশ কোচের মস্তিষ্কের নিউরনে না থেকে পারে না।

ধর্মশালায় কাল সকাল থেকেই আকাশের নীলের জায়গা মেঘের কালোতে দখল। ঝিরঝির বৃষ্টিতে শুরু দিন মধ্যাহ্নে ভেসে যায় প্রবল বর্ষণে। হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের স্টেডিয়ামে ওমান-নেদারল্যান্ডস প্রথম ম্যাচটি হতে পারেনি। বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড দ্বৈরথও অনিশ্চয়তার দোলায় দোলে অনেকক্ষণ। তবে খেলা শুরু হতেই যে ইনিংস শুরুর ছয় ওভারের লড়াইয়ে জিতবে হবে—এটি নিশ্চয়ই মাশরাফি বিন মর্তুজা থেকে শুরু করে চন্দিকা হাতুরাসিংহের পর্যন্ত জানা।

আর পরিসংখ্যানের সাক্ষ্যও তেমন।

২০১৫ সালের শুরু থেকে ধরলে আইরিশদের বিপক্ষে ম্যাচটির আগ পর্যন্ত ১৫ বার টি-টোয়েন্টির দ্বৈরথে মাঠে নামে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পাওয়ার প্লেতে প্রতিপক্ষের চেয়ে সংশয়াতীতভাবে ভালো পারফরম্যান্স মোটে চার খেলায়। তবে এর মধ্যে তিনবারই জয়ের হাসিতে মাঠ ছাড়ে মাশরাফির দল। ব্যতিক্রম কেবল একবার। সেই ব্যতিক্রম তো নিয়মকেই প্রমাণ করে, নাকি?

গত বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচ দেখুন। আগে ব্যাটিংয়ে নামা প্রতিপক্ষকে পাওয়ার প্লের মধ্যেই টুঁটি চেপে ধরে বাংলাদেশ। ২৫ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে। জোড়া শিকারে যার নেতৃত্ব মাশরাফির। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের প্রথম ছয় ওভারে ২ উইকেট হারায় বটে স্বাগতিকরা। কিন্তু শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ম্যাচে ততক্ষণে তুলে নেয় ৪৭ রান। তামিম ইকবাল ক্রিজে ছিলেন, তাই ১৩২ রানের লক্ষ্য অর্জনের পথেও ভালোভাবে থাকে দল। ঠিকই পাওয়ার প্লে জয়ের ধারাবাহিকতায় ম্যাচও ৪ উইকেটে জেতে বাংলাদেশ।

আবার এশিয়া কাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলাতেও এর প্রতিফলন। পারিবারিক কারণে সে ম্যাচে তামিম ইকবাল ছিলেন না। ছয় ওভারে তবু ১ উইকেট হারিয়ে ৪৮ রানের ভালো সংগ্রহ বাংলাদেশের। পাওয়ার প্লের একেবারে শেষ ওভারে গিয়ে আউট হন সৌম্য সরকার। এর আগে মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে জুটি জমে ওঠে বেশ। পরে নিজেদের বোলিং ইনিংসে পাওয়ার প্লেতে ৩২ রানে ২ উইকেট ফেলে দেয় মাশরাফির দল। ধারাবাহিকতায় পায় ৫১ রানের স্বচ্ছন্দ জয়।

একই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেও পাওয়ার প্লে লড়াইয়ে জিতে ম্যাচ জয়ের পথে বহু দূর এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ২০ রানের মধ্যে পাকিস্তানের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে আবারও ম্যাচ শুরু আধিপত্যে। এই তিন শিকার আবার তিনজনের—মাশরাফি, আরাফাত সানি ও আল-আমিন হোসেনের। পরে ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে রান মোটে ৩৪ হলেও এক উইকেটের বেশি হারায়নি স্বাগতিকরা। ১৩০ রানের জয়ের কাছাকাছি চলে আসে তাতেই।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি ম্যাচেই কেবল পাওয়ার প্লেতে জিতেও খেলা জয়ের হাসিতে শেষ করতে পারেনি বাংলাদেশ। অবশ্য সেটিকে ‘জয়’ বলা একটু কঠিন। কারণ মাশরাফির দল নিজেদের প্রথম ছয় ওভারে ৩৮ রানে হারায় ২ উইকেট; জিম্বাবুয়ে ২৫ রানে ৩ উইকেট। সে ম্যাচে আসলে পাওয়ার প্লেতে তুলনামূলক কম খারাপ করেছে বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ৫০ রান এখন হয়ে উঠেছে বিশ্ব ক্রিকেটের মানদণ্ড। তবে সর্বশেষ ওই ১৫ ম্যাচের মধ্যে মাত্র তিনবার তা স্পর্শ করতে পারে বাংলাদেশ—গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে (৫২/১), এ বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম (৫৪/১) ও তৃতীয় (৫৪/১) খেলায়।  ত্রিশের ঘরে রান আটকে ছয়বার। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও ১ উইকেটে ৩৩ রান ছিল বাংলাদেশের। গতকাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্ব টি-টোয়েন্টির বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া ম্যাচে অবশ্য ৪ ওভারের পাওয়ার প্লেতে ওঠেছে বিনা উইকেটে ৫২ রান। রানের দিক দিয়ে সবচেয়ে কম ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপ ফাইনালের ৩০। তবে বৃষ্টিবিঘ্নিত হওয়ার কারণে সেদিন পাওয়ার প্লে ছিল পাঁচ ওভারের।

সর্বশেষ এই ১৫ খেলার মধ্যে একবারও পাওয়ার প্লের পুরোটা সময় বাংলাদেশের দুই ওপেনার ক্রিজে টিকে থাকতে পারেননি। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ ওপেনারদের এই কীর্তি চারবার—গত বছর পাকিস্তান (৩১/০), সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা (৫১/০), এ বছর সিরিজের প্রথম দুই খেলায় জিম্বাবুয়ে (৪৭/০ ও ৪৫/০)। পাওয়ার প্লের মধ্যে অন্তত ২ উইকেট বাংলাদেশ হারায় আটবার। আর প্রতিপক্ষের অন্তত ২ উইকেট তুলে নিতে পারে ছয়বার। পরিসংখ্যানের এ জায়গায়ও তো পিছিয়ে মাশরাফি-হাতুরাসিংহের দল।

কাল ধর্মশালার আকাশের মেঘমালা যেমন বাংলাদেশ ক্যাম্পের দুশ্চিন্তা হয়ে ছিল, পাওয়ার প্লেতে এই পিছিয়ে পড়ার পরিসংখ্যানও তেমন। শুরুতেই হেরে গেলে যুদ্ধজয় যে কঠিন হয়ে যায় খুব!

মন্তব্য