kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাকিব-মুশফিক আর ব্যাটিং নিয়ে হাহাকার

ধর্মশালা থেকে প্রতিনিধি   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সাকিব-মুশফিক আর ব্যাটিং নিয়ে হাহাকার

সাকিব আল হাসানের চাই ২১ রান। ৫৮ রান দূরে দাঁড়িয়ে তামিম ইকবাল।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের জার্সিতে হাজার রানের ক্লাবের উদ্বোধন কি হয়ে যাবে আজই?

প্রকৃতির সন্তান ধর্মশালায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আবহে বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই সূর্যসন্তানের ওই দ্বৈরথটা হতে পারত উপভোগ্য। নিজেদের ভেতরের লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়ার তাড়নায় যে প্রতিপক্ষ হারানোর সম্ভাবনা যায় বেড়ে! কিন্তু সেটি আর হচ্ছে কই! সাকিব-তামিমের মধ্যে কে আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে হাজার রান করবে—এটি আলোচনায় নেই সেভাবে। বরং বাংলাদেশের ব্যাটিংটা সামগ্রিকভাবে জ্বলে উঠবে কি না—এই উদ্বেগে কাতর বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ সাকুল্যে করে ১৫৩ রান। এমনিতে মন্দ না, কিন্তু এ স্কোর ডাচ ইনিংসের অনেকটা সময় জুড়ে নিরাপদ মনে হয়নি। ম্যাচের সায়াহ্নে মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে বোলাররা জ্বলে ওঠেন বলে রক্ষা! নইলে তামিমের হূদয়টা যে জ্বলেপুড়ে যেত কিভাবে! দলের ১৫৩ রানের মধ্যে অপরাজিত ৮৩-ই তো ডাকাবুকো ওই ওপেনারের। তাঁর নিঃসঙ্গ লড়াইয়ের প্রমাণ স্কোরবোর্ডে; দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ রানে। আর অঙ্কের হিসাব বলছে, সেদিন বাংলাদেশের ইনিংসের ৫৪.২৫ শতাংশ রান আসে তামিমের ব্যাট থেকে। এমন একার লড়াই আবার মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের ব্যাটিংয়ে নতুন না। এই তো দিন দশের আগে এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ে সাব্বির রহমান করেন ৮০। দলের ১৪৭-এর মধ্যে তাঁর ওই রান ৫৪.৪২ শতাংশ।

টিম ম্যানেজমেন্টের তাই উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে যথেষ্ট।

আর সেই অসন্তুষ্টি কাল গোপনও করেন না কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে। কাল সংবাদ সম্মেলনে এসে স্পষ্ট করে বলে যান তা, ‘আমি অবশ্যই ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সে খুশি না। চেয়েছিলাম নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আমরা যেন আরো বেশি রান করি। ’ তাঁর উদ্বেগের বড় জায়গাজুড়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের ফর্ম। বিশেষত সাকিব ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাট যে হাসছে না একেবার! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১৮ ইনিংস আগে সর্বশেষ পঞ্চাশ পেরোনো স্কোর সাকিবের। মুশফিকের সেটি ১২ ইনিংস আগে। ডাচদের বিপক্ষে প্রথমজন করেন ৫, পরেরজন রানের খাতা খোলার আগেই আউট। কাল সংবাদ সম্মেলনে কারো নাম উল্লেখ না করলেও হাতুরাসিংহের উদ্বেগের অনেকটা যে ওই দুজনকে নিয়ে, বুঝতে অসুবিধা হয় না, ‘অভিজ্ঞ কিছু ব্যাটসম্যানের ফর্ম নিয়ে আমার উদ্বেগ রয়েছে। সবাই জানি যে, এই মুহূর্তে যা করছে, এর চেয়ে অনেক ভালো করার সামর্থ্য ওদের রয়েছে। তবে দলের ছয়-সাতজন ব্যাটসম্যান তো আর সব সময় জ্বলে উঠবে না। কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য, যারা উইকেটে টিকে যাচ্ছে তারা ভালো অবদান রাখছে। সেটি আবার চাপ তুলে নিচ্ছে ভালো না করা ব্যাটসম্যানদের ওপর থেকে। আর আমি তো আশা করি, ওরাও খুব দ্রুত ফর্মে ফিরে দলে অবদান রাখতে শুরু করবে। ’

ভুল বলেননি বাংলাদেশের কোচ। ব্যাটিং লাইনের ছয়-সাতজন একই দিনে আগুন ঝরালে তো ২০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর পেরিয়ে যাবে তিন শ! যা আসলে অসম্ভবের নামান্তর মাত্র। তবে ‘একের বোঝা’কে যদি ‘দশের লাঠি’ করে নিতে পারেন হাতুরাসিংহের শিষ্যরা, তাহলে ওই দেড়শ পেরোনো স্কোরেই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে হয় না বাংলাদেশকে। আর ম্যাচের বেশির ভাগ সময়জুড়ে পরাজয়ের আশঙ্কা আতঙ্ক হয়ে তাড়িয়ে বেড়ায় না দলকে।

২০১৫ সালের শুরু থেকে ধরলে ১৫টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে কেবল পাঁচটি দলীয় ইনিংসে পঞ্চাশ পেরোনো ব্যক্তিগত ইনিংস রয়েছে ব্যাটসম্যানদের। এ বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে সাব্বির (৫০), চতুর্থ ম্যাচে মাহমুদ উল্লাহ (৫৪), শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপে সাব্বির (৮০) এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তামিম (৮৩)। সঙ্গে ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেই শুধু এক খেলায় দুজনের পঞ্চাশ পেরোনো স্কোর। সাকিবের অপরাজিত ৫৭ ও সাব্বিরের অপরাজিত ৫১ রানে ম্যাচ জয়ের রাস্তা খুঁজে পেতে সমস্যা হয় না বাংলাদেশের।

আজ যদি সাকিব-তামিমের যুগলবন্দিতে তেমন কীর্তির পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে? টি-টোয়েন্টিতে হাজার রানের ক্লাবের ফিতা যিনিই কাটুন না কেন, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে বহুগুণ। ব্যাটিং নিয়ে কোচের হাহাকারও যেমন কমে যাবে অনেকগুণ!


মন্তব্য