অ্যাকশন প্রশ্নে হাতুরাসিংহে-334648 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


অ্যাকশন প্রশ্নে হাতুরাসিংহে অবাক-ক্ষুব্ধ

নোমান মোহাম্মদ,ধর্মশালা থেকে   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অ্যাকশন প্রশ্নে হাতুরাসিংহে অবাক-ক্ষুব্ধ

আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে নির্দিষ্ট প্রশ্নে তাঁর সুনির্দিষ্ট উত্তর এক শব্দে—‘হ্যাঁ’। ভাবনার ভুবনে আরেকটু ঢুঁ মারার প্রত্যাশায় অনুশীলনে যাওয়ার পথে চন্দিকা হাতুরাসিংহকে আবারও করা হয় প্রশ্নটি, ‘আপনি কি মনে করেন, ওদের বোলিং অ্যাকশনে কোনো সমস্যা নেই?’ এবার যেন খানিক রেগেই ওঠেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ, ‘এটি কী ধরনের প্রশ্ন? আমার কাছ থেকে এর কী উত্তর আশা করছেন?’

হাতুরাসিংহের উত্তর প্রত্যাশিত। বোলিং অ্যাকশনে প্রশ্নবিদ্ধ দুই বোলার আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদকে তাঁর আগলে রাখাটা স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক নয় কোচের এই উপলব্ধিও, ‘ওদের অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া আমাদের অবাক করেছে।’ টিম ম্যানেজমেন্টকে তো এমনই বলতে হয়! কিন্তু যতটা চমকে যাওয়ার দাবি করছেন হাতুরাসিংহে, অতটা বিস্মিত হওয়ার কিছু কি রয়েছে আসলে? কারণ জাতীয় দলের কয়েকজন বোলারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে উদ্বেগ তো বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্দরমহলে মোটেই নতুন কিছু না।

পরশু রাতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের স্বস্তিতে অস্বস্তির চোরকাঁটা হয়ে বিঁধছে দুজন বোলারের অ্যাকশন নিয়ে ম্যাচ অফিশিয়ালদের সংশয়। বোলিংয়ের সময় আইসিসি অনুমোদিত ১৫ ডিগ্রির চেয়ে বেশি কনুই বেঁকেছে বলে খোলা চোখে মনে হয়েছে তাঁদের। দুজনের মধ্যে তাসকিনের নাম থাকায় অবাক হতে পারেন হাতুরাসিংহে। এই পেসারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয়ের কথা আগে শোনা যায়নি যে! আর তাঁর সব ডেলিভারিতে সমস্যা, তা-ও নয়। যতটুকু জানা গেছে, বাউন্সারের জন্য জোরের ওপর যে বল করেন— সেগুলো নিয়ে উদ্বেগ অফিশিয়ালদের। তবে তাসকিন না হয়ে বাংলাদেশ দলের অন্য আরেক পেসারের নাম অভিযুক্তের তালিকায় থাকলে বরং অবাক হতেন না অনেকে। সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সময় তাঁর অ্যাকশন নিয়ে বিস্তর সংশয়ের কথা অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচিত বাংলাদেশের ক্রিকেটভুবনে। জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টের তো সেটি না জানার কথা নয়।

 

আর আরাফাত সানি? ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিষেকের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর পারফরম্যান্স খারাপ না। কিন্তু গত বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ থেকে এই বাঁহাতি স্পিনারকে বেশ ‘রয়েসয়ে’ খেলাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। আফ্রিকান দেশটির বিপক্ষে পর পর দুই সিরিজের ছয় ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে বোলিং করেন সানি। এশিয়া কাপের পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটিতে। এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য সানিকে ‘বাঁচিয়ে’ রাখা হয় বলে তাই জোর গুঞ্জন। এখানে যদি সন্দেহজনক অ্যাকশনের কারণে ম্যাচ রেফারির লাল খাতায় নাম ওঠেও, তবু তো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্ব পেরোতে পেরোতে বাছাই পর্বের ম্যাচ তিনটি খেলতে পারবেন! প্রথাগতভাবে স্পিনে দুর্বল নেদারল্যান্ডস-আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলানোর এ সুযোগটাই নাকি নিতে চেয়েছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট।

আগের দিন ম্যাচ জয়ের পর কাল ছিল বাংলাদেশ দলের ঐচ্ছিক অনুশীলন। সূর্য হেলে পড়া দুপুরে আট ক্রিকেটার নিয়ে ধর্মশালা স্টেডিয়ামে আসেন কোচ। তখনো পর্যন্ত তাসকিন-সানির অ্যাকশন সম্পর্কে আইসিসি থেকে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি কিছু। হাতুরাসিংহেই দুঃসংবাদটির দেন আনুষ্ঠানিক রূপ, ‘আমাদের দুই বোলারের অ্যাকশন নিয়ে আইসিসি কিছু প্রশ্ন তুলেছে। আমরা ওদের কাছ থেকে রিপোর্ট পেয়েছি। তো এই পর্যায়ে আইসিসির যে প্রক্রিয়া রয়েছে, আমরা সেটি অনুসরণ করব।’ তবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে যে ওই দুজনের খেলায় কোনো বাধা নেই, সেটিও নিশ্চিত করেন তিনি। সেই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অভিযানকে প্রভাবিত করবে না বলেও দাবি কোচের, ‘ওই দুই বোলার মানসিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী। আর ওরা তো সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ক্রিকেট খেলেছে। ওদের অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াটা আসলে আমাদের অবাক করেছে। আমার মনে হয় না আমাদের খেলাকে এটি প্রভাবিত করবে।’ তবে আইসিসি তাঁর দুই বোলারকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়ায় নিজের উদ্বেগ লুকাননি হাতুরাসিংহে, ‘আইসিসির সঙ্গে আমি এখনো কথা বলিনি। আমার বোলারদের নিয়ে ওদের উদ্বেগ রয়েছে। আর ওদের এই উদ্বেগ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে আমার।’

এই উদ্বেগ কাটানোর প্রক্রিয়াও কাল বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো ই-মেইলে দিয়ে দিয়েছে আইসিসি। আগামী সাত দিনের মধ্যে চেন্নাইতে আইসিসি অনুমোদিত টেস্টিং সেন্টারে তাসকিন-সানির বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিতে হবে। ওই টেস্টের ফল জানার আগ পর্যন্ত অবশ্য আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিং করায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই তাঁদের।

নির্দেশিত ওই সাত দিনের আগেই পেরিয়ে যাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট বিশেষত সানিকে নিয়ে যে ‘জুয়া’ খেলেছে, তাতে তাই একদিক দিয়ে জিতল ঠিকই। আপাতত যে বোলিং করায় কোনো বাধা নেই! তবে অভিযুক্ত হওয়ার এই ধাক্কা মানসিকভাবে কতটা সামলে উঠতে পারবেন দুই বোলার, সেটি অবশ্য প্রশ্ন। আর এই বিশ্বকাপেই যদি বাংলাদেশের আরো বোলারের অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়—সেটি অনেক বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দেবে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টে।

তাতে চন্দিকা হাতুরাসিংহে যতই অবাক হন না কেন!

মন্তব্য