kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রিয়ালের সঙ্গী উলফসবুর্গও

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রিয়ালের সঙ্গী উলফসবুর্গও

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথটা আগেই তৈরি করে রেখেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। অপেক্ষা ছিল চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতার।

সেটাও হয়ে গেছে এএস রোমাকে দ্বিতীয় লেগে ২-০ গোলে হারিয়ে। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও হামেস রোদ্রিগেসের লক্ষ্যভেদে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর জয়ে ৪-০ অগ্রগামিতায় টানা ষষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আট নিশ্চিত করেছে মাদ্রিদের ক্লাবটি। ওদিকে জার্মানিতে ইতিহাস গড়েছে উলফসবুর্গ। ঘরের মাঠের ফিরতি লেগে গেন্টকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৪-২ অগ্রগামিতায় নিজেদের ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবার নিশ্চিত করেছে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতাটির কোয়ার্টার ফাইনাল।

২-০ গোলে রোমার মাঠ থেকে জিতে ফেরার সঙ্গে রিয়ালের বড় শক্তির জায়গা ছিল ঘরের মাঠের দর্শক সমর্থন। কিন্তু বার্নাব্যুতে শুরুর দিকে ‘লস ব্ল্যাংকোদের’ পারফরম্যান্স দেখে ‘প্রতিপক্ষের মাঠ’ বললেও ভুল হবে না। মঙ্গলবার রাতেও যেমন দুয়ো শুনতে হয়েছে রোনালদোকে। আর মাঠের পারফরম্যান্সে প্রথমার্ধে স্বাগতিকদের চেয়ে বেশি দাপট দেখিয়েছে রোমা। রিয়াল গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ানে দুটি সুযোগ মিস করেছেন মোহাম্মদ সালাহ। শুরুর দিকে স্ট্রাইকার এডেন জেকো ফাঁকায় বল পেয়েও মেরেছেন বাইরে। রিয়ালও সুযোগ তৈরি করেছিল, তবে সহজ সুযোগ নষ্ট করেছে রোমের ক্লাবটি। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য পাল্টে যায় স্বাগতিকদের পারফরম্যান্স। একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত রাখা রোমার রক্ষণ ভেঙে বার্নাব্যুর গ্যালারিতে আনন্দের ঢেউ তোলেন রোনালদো। ৬৪ মিনিটে রাইটব্যাক দানিলোর ক্রস ভলিতে জালে জড়িয়ে পর্তুগিজ যুবরাজ এগিয়ে নেন মাদ্রিদের ক্লাবটিকে। চলতি চ্যাম্পিয়নস লিগে অষ্টম ম্যাচে এটি রোনালদোর ১৩তম গোল। মিনিট চারেক পর তাঁর পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হামেস।

তিন সপ্তাহ আগে রোম থেকে ২-০ গোলে জিতে ফেরায় এমনিতে সুবিধাজনক জায়গায় ছিল রিয়াল। যদিও আগের লেগের কথা ভুলে ঘরের মাঠে নেমেছিলেন বলে জানিয়েছেন কোচ জিনেদিন জিদান, ‘প্রথম লেগের ফল নিয়ে চিন্তা না করে আমরা আক্রমণ করেছি। সুযোগ তৈরি করতে পারছিলাম না বলে খানিকটা ভয় পাচ্ছিলাম। ’ কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে স্বভাবতই খুশি ফরাসি কিংবদন্তি, ‘যা-ই হোক যেভাবে আমরা আক্রমণ চালিয়েছি তাতে আমি ভীষণ খুশি। আর আমার মনে হয় দ্বিতীয়ার্ধে আমরা রক্ষণভাগে অনেক উন্নতি করেছিলাম। এখন আমরা পরের লিগ ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। অপেক্ষায় থাকব পরের রাউন্ডে কার মুখোমুখি হই (চ্যাম্পিয়নস লিগে)। ’ রোমা কোচ লুসিয়ানো স্পালেত্তির হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ফল অন্য রকম হতেও পারত। আফসোস করে তাই বললেন, ‘ওদের চেয়ে আমরা বেশি সুযোগ তৈরি করেছিলাম। যদি সেগুলো কাজে লাগাতে পারতাম, তাহলে খেলা পাল্টে যেত। আমরা খারাপ খেলিনি, তবে যে সুযোগগুলো তৈরি করেছিলাম, সেগুলোর সুবিধা নিতে পারিনি। ’

ভকসওয়াগেন অ্যারেনায় উৎসব করেছে উলফসবুর্গ। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা বেলজিয়ান ক্লাব গেন্টকে হারিয়ে। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন আন্ড্রে শুর্লে। ৪-২ অগ্রগামিতায় শেষ আট নিশ্চিতের পর ক্লাবটির স্পোর্টিং ডিরেক্টর ক্লাস অ্যালোফসের উচ্ছ্বাস থামতেই চাইছিল না, ‘চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত! মৌসুমের শুরুতে আমরা ভাবেইনি এত দূর আসতে পারব। ’ জিতলেও নিজেদের সেরাটা খেলতে পারেনি জার্মান ক্লাব। জয়ের নায়ক শুর্লেও মেনে নিচ্ছেন তা, ‘কঠিন একটা ম্যাচ ছিল। আমরা রক্ষণটা ঠিকঠাক সামলে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমরাই জয়ের দাবিদার। অবশ্য আমরা মোটেও আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারিনি। ’ এএফপি


মন্তব্য