এবার ম্যাচ জেতানো তামিম-334257 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


এবার ম্যাচ জেতানো তামিম

ধর্মশালা থেকে প্রতিনধি   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এবার ম্যাচ জেতানো তামিম

৫৮ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো ৮৩* রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক তামিম।

সেদিনও ইনিংসের আদ্যোন্ত ব্যাটিং করেন তিনি। আর টি-টোয়েন্টিতে পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করার অর্থ, সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও তৈরি হওয়া। কিন্তু সম্ভাবনার সে মঞ্চে কীর্তির সৌধ তো গড়তে হবে! সেদিন পারেননি তামিম ইকবাল, পারলেন না কালও। আরো একবার ইনিংসজুড়ে ব্যাটিং করে অপরাজিত থাকেন ৮০-র ঘরে।

টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরিয়ানের জন্য বাংলাদেশের অনন্ত আক্ষেপের তাই শেষ হয় না আজও।

সেদিন মানে ২০১২-র ১০ ডিসেম্বর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দ্বৈরথ। তামিমের ব্যাটের প্রলয়নৃত্যে কেঁপে কেঁপে ওঠে টইটম্বুর গ্যালারি। তাঁর ৬১ বলে ৮৮ রানের ইনিংসের মণিহার হয়ে থাকে জ্বলজ্বলে ১০টি চার ও দুই ছক্কা। তবু ম্যাচ শেষে অপ্রাপ্তির আগুনের আঁচটা ঠিকই টের পায় বাংলাদেশ। প্রথমত, ম্যাচটি জিততে পারে না বলে। দ্বিতীয়ত, তামিমের সেঞ্চুরি না হওয়ার কারণে।

সেই দীর্ঘশ্বাস মোড়ানো ইতিহাস কাল যে আবার নিষ্ঠুরভাবে ফিরে আসার উপক্রম! সেই তামিমের আদ্যোন্ত ব্যাটিং, সেই ৮০-র ঘরে অপরাজিত—পুনরাবৃত্তির চক্রে সেই পরাজয়ের আশঙ্কা! শেষ সময়ে বোলারদের বীরত্বে ঠেকানো যায় তা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওই ম্যাচের পর হারের হাহাকার অমন প্রবলভাবে ছিল না বাংলাদেশের। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে তামিমও তো বলে যান, এর চেয়ে বেশি কিছু করার ছিল না। সত্যিই তো! ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৯৭-র জবাবে ১৭৯ পর্যন্ত যাওয়া তো মন্দ না। হাতে ৯ উইকেট থাকতেও আরেকটু কেন মারার চেষ্টা করেননি তামিম ও অপরাজিত সঙ্গী মাহমুদ উল্লাহ—এ নিয়েই যা কিছুটা সমালোচনা ছিল। কাল অবশ্য বিস্ফোরক ওপেনারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ন্যূনতম সুযোগও নেই। কেননা চারপাশের উইকেট পতনের মিছিলে যদি যোগ দেন তিনি, তাহলে যে জয়ের রসদ আর পায় না বাংলাদেশ! ঘূর্ণিঝড়ের চোখ যেমন স্থির থাকে, তামিমও কাল তেমন অবিচল। তাই তো জয়ের হাসিতে, ম্যান অব দ্য ম্যাচের খুশিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করতে পারেন তামিম।

শুরুটা অবশ্য মোটেই আস্থার ছিল না। ইনিংসের একেবারে প্রথম বলই ছুঁয়ে যায় ব্যাটের কানা। রান আউটের খাঁড়ায় কাটা পড়ার দশাও একবার। আর মুখোমুখি হওয়া প্রথম ১১ বলে ৮ রানের স্কোরই সাক্ষ্য দেয় তামিমের সাবধানী শুরুর। ১২তম বলে তাঁর ব্যাট থেকে আসে প্রথম বাউন্ডারি। আর সেটিও কী দুর্দান্ত শটে! পিছিয়ে এসে জায়গা বের করে পয়েন্ট দিয়ে কাট করে। যেখানে টাইমিং চোখ ধাঁধানো, প্লেসমেন্ট মন জুড়ানো। এরপর রোলেফ ফন দের মারউইকে লং অফের ওপর দিয়ে মারেন ছক্কা। যদিও সেটি ঠিক ব্যাটের মাঝখানে লাগেনি।

কিন্তু ততক্ষণে উইকেটে জমে গেছেন। দারুণ কাভার ড্রাইভে চার মারেন তাই। খেলেন রিভার্স সুইপ। লং অনের ওপর দিয়ে বল উড়িয়ে আছড়ে ফেলেন গ্যালারিতে। হ্যাঁ, ৪৬ রানের সময় স্টাম্পিংয়ের একটি সুযোগ দেন তিনি। কিন্তু তা কাজে না লাগানোর দায় তো তামিমের না! তিনি তাই স্কয়ার লেগে বল পাঠিয়ে ২ রান নিয়ে ফিফটিতে পৌঁছে যান ৩৬ বলে।

এরপরই তো হাত খুলে খেলার পালা। এক ওভারে দুই বাউন্ডারিতে এর প্রতিশ্রুতিও ছিল। কিন্তু পরের ওভারে অন্য প্রান্তে যে টপাটপ পড়ে যায় মাহমুদ উল্লাহ ও মুশফিকুর রহিমের উইকেট। তামিমকে তাই রুখতে হয় নিজের আগ্রাসন। নিজের শতরানের চেয়ে দলের সার্ধশতে দিতে হয় মনোযোগ। সে লক্ষ্যে ঠিকই সফল তিনি। শেষ ওভারে দুর্দান্ত এক ছক্কায় আশির ঘরে ঢুকে যান। আর ইনিংস শেষে ছয়টি চার ও তিন ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৮৩ রানে। বাংলাদেশি সমর্থকদের মনে তখন ১৭ রানের হাহাকার।

কিন্তু ম্যাচ শেষে যে এর ছিটেফোঁটাও নেই তামিমের! না হয় টি-টোয়েন্টিতে দেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করা হয়নি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওই ম্যাচের মতো কাল পরাজয়ের তিলক তো আর আঁকা রইল না তামিমের কপালে!

মন্তব্য