মাশরাফির সেই ওভারেই ঘুরল ম্যাচ-334256 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০১৬। ১৭ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৯ জিলহজ ১৪৩৭


মাশরাফির সেই ওভারেই ঘুরল ম্যাচ

নোমান মোহাম্মদ,ধর্মশালা থেকে   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মাশরাফির সেই ওভারেই ঘুরল ম্যাচ

তাঁর ব্যাটের জলপ্রপাতের চাঞ্চল্যেই তো অভ্যস্ত সবাই! সেই জায়গায় কাল কি না শান্ত দীঘির জলের স্থিরতা! চার-ছক্কার কমতি নেই যদিও, তবু তা দীঘির জলে ঢিল পড়াই হয়তো। ৫৮ বলে অপরাজিত ৮৩ রান সত্ত্বেও ইনিংসটি তামিম ইকবালসুলভ নয় যে!

তা এই বদলে যাওয়া স্থিরতার সঙ্গে নতুন পিতৃত্বের কোনো সম্পর্ক নেই তো? প্রশ্নটি শুনে হাসেন তামিম। হাসান সংবাদ সম্মেলন কক্ষে থাকা সবাইকে।আরেকবার আবার পাশে বসে থাকা মাশরাফি বিন মর্তুজার ১৭তম ওভারের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়েও অধিনায়কের সঙ্গে খুনসুটিতে। কত বছর ধরে বাংলাদেশকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন মাশরাফি—১০ না ১৫ বছর! আবারও হাসির হুল্লোড় ওঠে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে। আবারও সুখী পরিবারের প্রতিচ্ছবি বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটারে।

অথচ নেদারল্যান্ডসের ইনিংসের ১৭তম ওভারটি যদি অমনভাবে না করেন মাশরাফি, তাহলে এই সংবাদ সম্মেলনটি কত অন্য রকমই হতো হয়তো। আনন্দের ক্যানভাসে পড়ত বিষাদের ছোপ। প্রাণখোলা হাসির জায়গা নিত হূদয় খামচে ধরা অব্যক্ত কান্না।

পিটার বোরেনের উপলব্ধিতে তাই সংশয় নেই কোনো। ম্যাচের অনেক জায়গায় একটু একটু করে পিছলে গেছে তাঁর দলের সম্ভাবনা। কিন্তু এর চূড়ান্ত পতন যে মাশরাফিরা ওই ১৭তম ওভারে—এ নিয়ে নিঃসংশয় নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক।

বাংলাদেশ অধিনায়ক তো আর নিজের ঢোল নিজে পেটাতে পারেন না। তাতে তিনি অভ্যস্তও নন। কিন্তু ওই ওভারটি ম্যাচের মোড় ঘোরানো ওভার হতে যাচ্ছে—মনের ভেতর থেকে কে যেন সেটি মনে করিয়ে দেয় মাশরাফিকে। ক্রিকেট-অবতারই কী? তাতে সায় দিয়ে নিজ হাতে বল নেওয়াতেই না নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয়ের স্বস্তিতে টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বকাপ শুরু করতে পারে বাংলাদেশ!

‘মনে হয়েছিল, আমারই বোলিং করা উচিত। একবার ভেবেছিলাম, আল আমিন বা সানিকে দেব কি না। পরে ভেবেছি, না আমারই করা উচিত’—বলে যান আত্মবিশ্বাসের মাস্তুলে থাকা কান্ডারি মাশরাফি। আর ওই ভাবনার কারণ বাংলাদেশ অধিনায়ক কারণ ব্যাখ্যা করেন এভাবে—‘৪ ওভারে ৪২ লাগবে যখন, মনে হচ্ছিল এই ওভারটা গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই ওভারে ৬-৭ এমনকি ৮ রান দিলেও চলবে। আমরা চেয়ছিলাম শেষ ওভারে যেন ওদের প্রয়োজন ১৫ থেকে ২০ রানের মধ্যে থাকে। সেই পরিকল্পনা সফল হয়েছে। আমি উইকেট পড়তে পারছিলাম ভালো। ব্যাটসম্যানকে ভালো পড়তে পারছিলাম। এ জন্য মনে হচ্ছিল, ওভারটি আমি করলেই ভালো হয়।’

এর চেয়ে কত আগুনঝরা বোলিং রয়েছে মাশরাফির ক্যারিয়ারে! কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় কালকের ছয়টি বলেরও আলাদা গুরুত্ব থাকবে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের পথচলায়। তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় ওভারগুলোর মধ্যে এটি থাকবে কি না, এমন প্রশ্নও উঠে যায় তাই। লাজুক হাসিতে মাশরাফির জবাব, ‘আসলে এখনো বিশ্বাস আছে যে দলের প্রয়োজন হলে আরো ভালো ওভার করতে পারব। এ রকম বোলিং এ রকম পরিস্থিতিতে করতে পারলে ভালো লাগে, আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে এমন বোলিং করে ভালো লাগছে।’ আর অধিনায়কের ভালো লাগার সেই রেশ ছড়িয়ে গোটা দলে। জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু বলে কথা! যে জয়ের স্বস্তি লুকান না মাশরাফি, ‘এটি স্বস্তি তো অবশ্যই। হেরে গেলে অজুহাত দিয়ে কোনো লাভ হতো না। জিততে পেরেছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ।’ সেই জয়ের পথ তৈরি করে দেওয়ার জন্য তামিমের অকুণ্ঠ প্রশংসা মাশরাফি কণ্ঠে, ‘তামিম যেভাবে ব্যাট করেছে, তা দুর্দান্ত। ভেবেছিলাম উইকেট দ্রুতগতির, বাউন্সি হবে। কিন্তু আসলে দেখলাম উইকেট মন্থর। শট খেলা খুব কঠিন। আমরা যে ভাবনা নিয়ে এসেছিলাম বা এখানে এসে যা দেখেছি, আজকের পরিস্থিতি তার চেয়ে আলাদা।’

উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা তামিমের বিশ্লেষণও মাশরাফির মতো, ‘ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট ততটা সহজ ছিল না। এ ধরনের উইকেটে শুরুতে কিছু সময় নিতে হয়। আমি সেটাই করছিলাম। শান্ত থেকে ব্যাটিং করছিলাম।’ আর পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করলেও সেঞ্চুরির কথা সেভাবে ভাবেননি বলে দাবি এই ওপেনারের। আর সেটি পরিস্থিতির কারণেই, ‘নিজের সেঞ্চুরির চেয়ে দলের ১৫০ রান নিয়ে চিন্তা করছিলাম বেশি। এক ওভারে আমাদের দুই ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর আমাকে আবার ধরে খেলতে হয়েছে।’

তামিম ওভাবে খেলেছেন বলেই না বীরত্বের মঞ্চটা তৈরি হয়ে যায় মাশরাফির! সংবাদ সম্মেলনে বয়ে যায় হাসির হুল্লোড়। ম্যাচ শেষেও বাংলাদেশের পতাকা ওড়ে গর্বের প্রতীক হয়ে।

আর ডাচদের বিপক্ষে এই জয়ের পর ধর্মশালা স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে পাশের হিমালয়ের শ্বেতচূড়ায় ঠাঁই নেওয়ার অপেক্ষায় এখন ওই লাল-সবুজ। আয়ারল্যান্ড-ওমানের বিপক্ষে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে বিশ্বকাপের মূল পর্বে প্রবেশ আগে। এরপরই...

সানির বোলিং নিয়ে সন্দেহ!

জয়ের পর বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিল বাংলাদেশ। আনন্দে যতটা, এর চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিতে। কিন্তু ভিন্ন এক কারণে অস্বস্তির চোরকাঁটা বিঁধছে আবার বাংলাদেশ দলে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয়ী ম্যাচে বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশন আম্পায়ার প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন বলে যে খবর! শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের অন্য এক পেসারের অ্যাকশনও আম্পায়ারদের নাকি যথাযথ মনে হয়নি। কাল দুই ওভারে ১০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য সানি। এর মধ্যেই তাঁর বোলিং সন্দেহজনক মনে হয় আম্পায়ারের। এ ছাড়া তিন পেসার নিয়ে কাল মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে মাশরাফিকে নিয়ে সন্দেহ নেই কোনো। বাকি দুই পেসারের মধ্যে একজনের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে নাকি সন্তুষ্ট হতে পারেননি আম্পায়ার। এ নিয়ে অবশ্য কাল রাত পর্যন্ত আইসিসি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি গণমাধ্যমকে। অস্বস্তিটা থাকছে তবু।

মন্তব্য