kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আত্মবিশ্বাসহীন শেখ জামালের হার

ক্রীড়া প্রতিবেদক    

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আত্মবিশ্বাসহীন শেখ জামালের হার

শেখ জামাল ধানমণ্ডির তিন বিদেশি খেলার চেষ্টা করেছেন, আর বাকি আট দেশি ফুটবলার আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগেছেন। স্বাগতিক দলের খেলোয়াড়দের এমন করুণ অবস্থা হলে অতিথিরাই আধিপত্য করবে স্বাভাবিক।

তাই খুব আহামরি দল না হলেও এই অ্যাওয়ে ম্যাচটি ২-০ গোলে জিততে কোনো কষ্টই হয়নি সেরেস লা সালে এফসির। দুই ম্যাচ হারা শেখ জামাল যখন পয়েন্টের খাতাই খুলতে পারেনি, তখন ফিলিপাইনের এই ক্লাব দলের সংগ্রহ ইতিমধ্যে ৪ পয়েন্ট।

নিজেদের মাঠে খেলা বলে শেখ জামাল ধানমণ্ডি কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক পয়েন্টের স্বপ্ন দেখেছিলেন। এই স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে গড়াগড়ি খাওয়ার পর তাঁর মনে হচ্ছে, ‘বিদেশি বাদ দিলে আমাদের দেশি খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসের অভাব স্পষ্ট খেলায়। তাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, শুধু ক্লাব দলের পাশাপাশি জাতীয় দলের খেলায়ও সেটা দেখা গেছে। কিন্তু দুই গোল খাওয়ার পর ফেরার সুযোগ পেয়েও বিদেশিরা যখন গোল মিস করেছে তখন আর কী করার থাকে। নইলে হয়তো ম্যাচটি ড্র হতে পারত। ’

লিগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল দলে অনেক ভাংচুর হয়েছে, গত দুই মৌসুমের সেরা একাদশ হয়তো ভেঙে গেছে। এর পরও কালকের সব দেশি ফুটবলাররা জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, তাঁদের সঙ্গেই গত মৌসুমের ভরসার বিদেশি ত্রয়ী ওয়েডসন-এমেকা-ল্যান্ডিং। সুতরাং ভাঙচুরের পরও চ্যাম্পিয়ন দলের চেহারা খুব খারাপ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু হয়েছে। অবিশ্বাস্যভাবে তাদের স্বাভাবিক খেলাটাও হারিয়ে গেছে। জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার মিছিলে ভেসে গিয়ে তাঁরা সবাই যেন নিজেদের ছন্দটাই হারিয়ে বসেছেন।

নইলে মা-বাবার সুবাদে স্প্যানিশ, জার্মান, বেলজিয়ামের দ্বৈত নাগরিকত্বের ফুটবলার নিয়ে ফিলিপাইনের ক্লাব দলটি ‘বহুজাতিক’ হলেও মাঠের দাপট সে রকম নয়। শেখ জামাল কোচের ভাষায়, ‘ওরা ২০ হলে আমরা ১৮। ’ স্বাগতিকরা নিজেদের সামর্থ্য হারিয়ে ১৮ থেকে যেন নেমে এসেছিল ১৫-তে। বিশেষ করে ডিফেন্ডারদের আত্মবিশ্বাসহীনতা ভীষণভাবে চোখে লাগে। ২৫ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ফেলা প্যাট্রিকের বলটি মারকাসের পা ঘুরে আদ্রিয়ান গ্যালার্দোর পায়ে পড়লেও ইয়ামিন মুন্না ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। আদ্রিয়ানোর গড়ানো শট শেখ জামালের জাল খুঁজে নিলে সেরেস লা সালে এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। ৩০ মিনিটে একই কম্বিনেশনে ব্যবধান বাড়ে। মারকাসের বানিয়ে দেওয়া বলে আদ্রিয়ানোর জোরালো শট গোলরক্ষক শহীদুল আলম কোনো রকমে ঠেকালেও শেষ পর্যন্ত পারেননি। বলটি পোস্টে লেগে জালে পৌঁছে গেলে শেখ জামালের ম্যাচে ফেরা কঠিন হয়ে যায়। চার মিনিটে দুই গোলে আসলে তাদের পয়েন্টের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।

স্বপ্ন শেষ। কারণ শেখ জামালের মাঝমাঠ বলে কিছু নেই। ছিল না কর্তৃত্বও। এর পরও বিদেশি ত্রয়ীর কল্যাণে দারুণ সুযোগ পেয়েছিল। ৩৯ মিনিটে গাম্বিয়ান ল্যান্ডিংয়ের হঠাৎ মাঝমাঠ থেকে নেওয়া শট পোস্ট লেগে ফিরে আসে। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া ওয়েডসনের ফ্রিকিকে ইয়াসিনের হেড গোল না হয়ে পারে না। কিন্তু গোলরক্ষক মাইকেল কাসাসের অবিশ্বাস্য ডাইভে  গোলবঞ্চিত হয় শেখ জামাল। ৭৪ মিনিটে এমেকার স্কয়ার পাসেও আরেকটি চমত্কার সুযোগ আসে তাদের সামনে। গোলের জন্য স্রেফ প্লেসিং করলেই হয়, কিন্তু পোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে হাইতিয়ান ওয়েডসন সজোরে শট মেরেছেন লা সালের গোলরক্ষকের গায়ে। দেশিদের মতো বিদেশিরাও অকার্যকর হয়ে গেলে শেখ জামালের বাঁচার রাস্তা থাকে না। এরপর ৭৭ মিনিটে ইয়াসিন খানের মার্চিং অর্ডারের পর তো আর কোনো আশাই থাকে না। হতাশাই তাদের একমাত্র সঙ্গী।


মন্তব্য