kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সমালোচিত শারাপোভার পাশে নাভ্রাতিলোভা

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সমালোচিত শারাপোভার পাশে নাভ্রাতিলোভা

শোকের প্রতীক কালো। লস অ্যাঞ্জেলেসের সংবাদ সম্মেলনে মারিয়া শারাপোভার কালো পোশাকই যেন বুঝিয়ে দিচ্ছিল তাঁর মনের মধ্যে চলা কালবৈশাখীর রূপ।

শোকে মূর্ছা যাননি, তবে ডোপ টেস্টে ব্যর্থ রাশিয়ান তারকার জীবনে এমন ভয়ংকর দিন সম্ভবত আসেনিও কখনো। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরুর আগে ম্যাচ পাতানোর কেলেঙ্কারি টেনিস বিশ্বে যে ঝড় তুলেছিল, তার তলে তলে যে আরো একটি ঝড়ের পূর্বাভাসও ছিল, সেটা অনুমান করা যায়নি একেবারেই। বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম চলার সময় দেওয়া ডোপ টেস্টে শারাপোভার শরীরে ধরা পড়েছে নিষিদ্ধ পদার্থ ‘মেলডোনিয়াম’। আপাতত সাময়িক নিষিদ্ধ হওয়া ২৮ বছর বয়সী তারকার জন্য হয়তো বড় কোনো দুঃসংবাদই অপেক্ষা করছে সামনে।

২০০৬ সাল থেকে শারাপোভা ‘শারীরিক সমস্যার’ কারণে ব্যবহার করছেন ওষুধটি। যদিও মেলডোনিয়াম সম্পর্কে নাকি তিনি জানতেই না। কি এই মেলডোনিয়াম? অল্প পরিশ্রমে যাদের বুকে ব্যথা হয়, সেই সব রোগীকে দেওয়া হয় ওষুধটি। যদিও অ্যাথলেটরা এটা ব্যবহার করেন তাঁদের সহ্যক্ষমতা ও চাপ কমানোর ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। লাটভিয়ায় তৈরি এই ওষুধ বিশ্বের সবখানেই পাওয়া যায়। দামও খুব একটা বেশি নয়, ডাক্তারের নির্দেশিকা ছাড়াও খুব সহজে পাওয়া যায় ওষুধটি। এত দিন মেলডোনিয়াম ‘সাধারণ’ থাকলেও গত ১ জানুয়ারি থেকে ওয়াডার নিষিদ্ধ পদার্থের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। শারাপোভাকে ২২ ডিসেম্বর ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (ওয়াডা) ই-মেইলে বিষয়টি জানালেও পাঁচবারের গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী জানিয়েছেন, তিনি নাকি সেটি পড়েই দেখেননি!

ধরেই নেওয়া হলো শারাপোভা মেইলটা দেখার সময় পাননি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ১০ বছর ধরে তিনি ওষুধটা ব্যবহার করছিলেন কেন? কারণ ব্যাখ্যায় রাশিয়ান তারকা বলেছেন, ‘অস্বাভাবিক হূত্স্পন্দন ও ডায়াবেটিসের লক্ষণ দেখা দেওয়ার কারণে ব্যবহার করেছি পারিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শে। ’ সেটাই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। ১২ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তদন্ত শেষে কতটা দীর্ঘ হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ঘোষণা যা-ই আসুক, শারাপোভার দীর্ঘদিনের স্পন্সর ‘নাইকি’ কিন্তু ইতিমধ্যে চুক্তি ‘সাময়িক স্থগিত’ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। আমেরিকান ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০১০ সালে ৭০ মিলিয়ন ডলারের আট বছরের নতুন চুক্তি করেছিলেন শারাপোভা। নতুন চুক্তি না করার ঘোষণা দিয়েছে সুইস ঘড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ট্যাগ হিউয়ারও। জার্মান গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পোর্শে অবশ্য ‘তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত’ যেতে চাইছে না। ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হওয়ায় কোর্ট তো বটেই, স্পন্সরশিপেও বড় ধাক্কা খেয়েছেন ফোর্বসের বিচারে গত ১১ বছর ধরে সবচেয়ে ধনী নারী এই অ্যাথলেট।

ধাক্কা লেগেছে ভক্তদের মনেও। তা যতই তিনি দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নিন না কেন! টেনিসের আকাশ থেকে উজ্জ্বল নক্ষত্র পতনের দিনে ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও। দুইবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন জেনিফার ক্যাপ্রিয়াতি ধুয়ে দিয়েছেন শারাপোভাকে, ‘আমার উঁচু বেতনের কোনো চিকিৎসক ছিলেন না, যিনি আমাকে ধোঁকা দেওয়ার রাস্তা খুঁজে দেবেন। কেউ একজন বলছেন হূিপণ্ডের ওষুধ খেয়েছে, যাতে তাঁর হূিপণ্ডের অসুখ তাড়াতাড়ি সেরে ওঠে। এটা কি সত্য? এখানে একটা বিষয়ই আছে, যাতে প্রত্যেকেই লাভবান হয়—সেটা হলো টাকা। ’ ব্রিটিশ অ্যাথলেট কেলি সোথারটন আবার লিখেছেন, ‘আমি নিশ্চিত ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের কোনো অ্যাথলেট (ওষুধটা) ব্যবহার করলে শারাপোভার থেকে আরো অনেক ভালো করত। যদিও এটা কি সম্ভব!’ বেলজিয়ান টেনিস তারকা কিম ক্লাইস্টার্স লিখেছেন, ‘খুবই খারাপ লেগেছে মারিয়া শারাপোভার খবরটা শুনে। ’ দুঃসময়ে অবশ্য শারাপোভাকে সমর্থন দিয়েছেন কিংবদন্তি টেনিস তারকা মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা, ‘প্রত্যেকে নিজের লাগাম টেনে ধরুন, মারিয়া সম্পর্কে। সব বিষয় আমি জানি না, তবে আশা করতে চাই এটা না জেনে করা ভুল, আমার জানা মতে পদার্থটা ২০১৫ সাল পর্যন্ত বৈধ ছিল। ’

এটাই এখন বড় শক্তি শারাপোভার পক্ষে। খসে পড়া নক্ষত্র টেনিস আকাশে আবার জ্বলে ওঠার পথটা কি তাতে খুলবে? বিবিসি


মন্তব্য