একটি সেঞ্চুরিও তো চাই-333863 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


একটি সেঞ্চুরিও তো চাই

নোমান মোহাম্মদ,ধর্মশালা থেকে   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



একটি সেঞ্চুরিও তো চাই

২০০৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের মার্চ—সাড়ে ৯ বছর। সেদিনের খুলনা থেকে এশিয়া কাপ ফাইনালের ঢাকা—১৬টি শহর। শাহরিয়ার নাফীস থেকে মাশরাফি বিন মর্তুজার টস করতে নামা—৫৫টি ম্যাচ। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে একজন সেঞ্চুরিয়ান তো এখনো পেল না বাংলাদেশ!

আজ থেকে ধর্মশালায় শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযানে কি দূর হবে অপ্রাপ্তির সেই হাহাকার?

প্রায় একই আক্ষেপ নিয়ে গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের মঞ্চেও প্রবেশ বাংলাদেশের। ৫০ ওভারের ক্রিকেট-সমরে তিন অঙ্ক জয় করা কোনো ব্যাটিং-যোদ্ধা ছিলেন না, এমন নয়। তত দিনে ২৯ বার বাঙালির মনের অনার্স বোর্ডে উঠে গেছে স্বদেশি ব্যাটসম্যানদের নাম। কিন্তু চার-চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও লাল-সবুজ জার্সিতে যে সেঞ্চুরি ছিল না কারো! পর্দার আড়াল থেকে পরিসংখ্যানের প্রম্পটার প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দিচ্ছিল সেই শূন্যতা। ২০১৫ আসরে অবশেষে সেই শূন্যতা দূর মাহমুদ উল্লাহর ব্যাটে। দীর্ঘ খরার পর প্রলম্বিত বর্ষার মতো টানা দুই ম্যাচে শতরান তাঁর। যে কীর্তিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট রূপকথায় অমরত্ব পান মাহমুদ।

একই অমরত্বের হাতছানি এবার আবার সবার সামনে। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারবেন না কেউ?

আশার সমুদ্রে ঢেউয়ের দোলা দেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের প্রতিপক্ষের নামগুলো। নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড এবং ওমান। আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি তো হতেই পারে যে কারো! তামিম ইকবাল বা সৌম্য সরকারের। সাকিব আল হাসান অথবা সাব্বির রহমানের। মুশফিকুর রহিম কিংবা মাহমুদ উল্লাহর। আবার ওই উথাল-পাথাল ঢেউয়ে আশঙ্কার চোরা স্রোত হয়ে বয়ে যায় ধর্মশালার উইকেট। ধর্মশালার কন্ডিশন। কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যে এমন একটু সতেজ উইকেটে খেলে যে অভ্যস্ত না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা! কাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগের একমাত্র ট্রেনিং সেশনেও যার প্রমাণ।

সাতসকালের এই অনুশীলনে কী প্রবল অস্বস্তি তামিমের! সাকিব গলদঘর্ম ব্যাটে বল ছোঁয়াতে। নেট বোলাররা পর্যন্ত খাবি খাওয়ান সৌম্যকে। মাহমুদ তো উঠে আসা বলে চোটই পান আঙুলে। ব্যতিক্রম কেবল একজন—মুশফিক। কী স্পিন, কী পেস—সবটাতেই সমান স্বচ্ছন্দ্য তিনি। কী জাতীয় দলের সতীর্থ, কী ভিনদেশি নেট বোলার—সবার বিপক্ষেই শটের ফুলঝুরি তাঁর। কালকের নেট ব্যাটিং যদি হয় মানদণ্ড, তাহলে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে সবচেয়ে নিরাপদ বাজি মুশফিকই।

কিন্তু এই ফরম্যাটে তো আর বলে-কয়ে সেঞ্চুরি করা যায় না! আর সেটি বাংলাদেশের চেয়ে ভালো জানে কোন দল!

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ২৩টি পঞ্চাশ পেরোনো ব্যক্তিগত ইনিংসের একটিও স্পর্শ করতে পারেনি জাদুকরি তিন অঙ্ক। সর্বোচ্চ ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকায় তামিমের অপরাজিত ৮৮ রান। পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং সত্ত্বেও সেঞ্চুরির সঙ্গে সখ্য হয় না তাঁর। তুলনায় ওই মিতালির সম্ভাবনা বেশি জাগে সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপে সাব্বিরের ব্যাটে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম উইকেট পড়ার পর ক্রিজে যান প্রথম ওভারে। আর ৫৪ বলে ৮০ রান করে আউট হন যখন, তখনো ইনিংসের চার ওভার বাকি। ওই ২৪ বল টিকে থাকলে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হয়তো পেয়েই যায় বাংলাদেশ!

কে জানে, বিশ্বকাপের জন্যই হয়তো বীরত্বের সেই সৌধ উদ্বোধনের অপেক্ষায় সযতনে মুড়ে রেখেছেন ক্রিকেট-ঈশ্বর!

তবে বাংলাদেশ ক্যাম্পে সেই সম্ভাবনার বিপরীতে শঙ্কাও রয়েছে। দলের ব্যাটিং স্তম্ভের অন্যতম দুজন মুশফিক ও সাকিব যে ফর্মে নেই মোটেও! তিন ফরম্যাট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৭ ইনিংস আগে সর্বশেষ পঞ্চাশ পেরোনো স্কোর সাকিবের। মুশফিকের সেটি ১১ ইনিংস আগে। ধর্মশালার নেটে কাল প্রথমজন না পারলেও দ্বিতীয়জন আশ্বস্ত করেন ঠিকই। তবে অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়ক মাশরাফি বরাবরের মতোই আস্থার হাত রাখেন দুই সতীর্থের সামর্থ্যে, ‘ওদের ফর্ম নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত না। ওরা জানে, দলে ওদের ভূমিকা কী।  সে অনুযায়ী চেষ্টা করছে। ক্রিকেট খেলাটাই এমন, আর টি-টোয়েন্টিটা তো আরো বেশি। শুধু কল্পনা করুন, বাংলাদেশের এই ভালো অবস্থায় ওরা যদি সেরা ফর্মে থাকে—তাহলে আমাদের দল তো অজেয় হয়ে যাবে।’

অজেয় মানে বিশ্বজয় হতে পারে, তবে বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপ জয় না। অজেয় অর্থ, ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতো ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও প্রত্যাশা পেরোনো পারফরম্যান্স।

সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির জন্য একজন সেঞ্চুরিয়ানের টনিক হলে আর কী চাই!

মন্তব্য