কোয়ালিফাই করলে অন্য বাংলাদেশকে-333486 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


কোয়ালিফাই করলে অন্য বাংলাদেশকে দেখবেন

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কোয়ালিফাই করলে অন্য বাংলাদেশকে দেখবেন

প্রশ্ন : এশিয়া কাপে তো প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যাওয়া নৈপুণ্য এরই মধ্যে করেছে বাংলাদেশ। তার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে গেছে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিকে ঘিরে স্বপ্নও। সেই স্বপ্নের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবেন?

তামিম ইকবাল : আমি অত দূর নিয়ে এখনো ভাবছি না। আমি মনে করি আমাদের মূল ভাবনা হওয়া উচিত প্রথম যে তিনটি ম্যাচ আছে, সেগুলো নিয়ে। খুব কঠিন হবে। ওরা এমন টিম আর ফরম্যাটটা এমন, যেকোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে। তবে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে যাওয়ার আগে আমাদের যে জিনিসটা দরকার ছিল সবচেয়ে বেশি, সেটা হয়ে গেছে। একটা ফ্লো দরকার ছিল। এশিয়া কাপে সেটা হয়ে গেছে। আয়ারল্যান্ড-নেদারল্যান্ডস ভালো দল। তবে এখন আমাদের বোলাররা আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে। ব্যাটসম্যানরাও ভালো অবস্থায় আছে। ওই তিনটি ম্যাচ ভালো গেলে পরের গন্তব্য নিয়ে ভাবব। সুপার টেনে যেতে পারলে কী খেলব, তার চেয়ে এখন প্রথম তিনটি ম্যাচ নিয়ে ভাবনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন : কেন মনে হচ্ছে আইসিসির ওই তিন সহযোগীকে নিয়েই ভাবনায় ডুবে থাকতে হবে? বিশেষ করে এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে এত ভালো খেলার পরও।

তামিম : কারণ আমাদের ওপর অনেক চাপ থাকবে। ওই তিনটি ম্যাচে আমাদের জয় ছাড়া অন্য কিছু কেউ মেনে নেবে না। তা ছাড়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা ২০ ওভারের হলেও খেলা ঘুরে যেতে পারে ২ ওভারেই। ওই সময়ে ১৫ করে ৩০টা রান যেমন ম্যাচের ব্যালান্স বদলে দিতে পারে, তেমনি ৪টা উইকেটও শেষ করে দিতে পারে ম্যাচ। আর ২ ওভার যেকোনো দলই ভালো খেলতে পারে। এ কারণেই ওই তিনটি ম্যাচকে বেশি ইম্পরট্যান্ট বলছি।

প্রশ্ন : টি-টোয়েন্টি বিশ্ব আসরের শুরুটা কিন্তু খারাপ করেনি বাংলাদেশ। ২০০৭ সালের আসরে তো ভালোই করেছিল। কিন্তু পরের প্রতিটা আসরেরই প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছে, টি-টোয়েন্টি খেলা নিয়ে কেমন যেন ধন্দে আছে বাংলাদেশ। কেন?

তামিম : দেখুন, এশিয়া কাপের নৈপুণ্য দেখে অনেকের মনে হতে পারে আমরা অনেক উন্নতি করে ফেলেছি। কিন্তু আমি মনে করি এই ফরম্যাটে আমাদের আরো বহুদূর যেতে হবে। এটা ঠিক যে আমরা উন্নতি করছি, তবে অনেক কিছু শেখা বাকিও আছে। বিপিএলটা যদি প্রথম দুই বছর হয়ে বন্ধ না হয়ে যেত, তাহলে এখনকার চেয়ে টি-টোয়েন্টিতে আমাদের উন্নতিটা আরো বেশি হতো।

প্রশ্ন : কোন জায়গাটায় বেশি উন্নতি দরকার বলে মনে করছেন?

তামিম : বড় ঘাটতির জায়গা তো অনেক। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই ঘাটতি রয়েছে। বিপিএলের কথা বলছি, কারণ এ ধরনের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে সোহান (নুরুল হাসান) হয়তো ডেল স্টেইনের দলের বিপক্ষে ৩০ বলে ৫০ রানের একটা ইনিংস খেলল। তাতে হবে কি, আন্তর্জাতিক ম্যাচেও স্টেইনকে বাউন্ডারি মারার আগে দ্বিতীয়বার চিন্তা করবে না সোহান। শুধু প্রতিপক্ষের নামি ক্রিকেটারকে খেলার মানসিক প্রস্তুতির জন্যই নয়, ম্যাচ পরিস্থিতির সঙ্গেও মানিয়ে নিতে সময় লাগছে আমাদের। এ ফরম্যাটে খুব বেশি ম্যাচ আমাদের খেলা হয় না যে।

প্রশ্ন : সাধারণ একটা ধারণা আছে যে পাওয়ার হিটিংয়ের ঘাটতির জন্যই এ ফরম্যাটে অত ভালো দল নয় বাংলাদেশ, আপনারও কি তাই মনে হয়?

তামিম : দেখুন, সেদিন আমাদের কোচ (চন্দিকা হাতুরাসিংহে) একটা কথা বলেছেন, ‘ঠিক আছে, আমাদের ৭ কিংবা ৮ নম্বরে এমন কেউ নেই যে তুলে মারতে পারে। কিন্তু সব দলের তো আর সব কিছু থাকে না। আমাদের শক্তি আমাদের টপ ফাইভ। পাওয়ার হিটিংয়ের কাজটা ওরাই না হয় করে দেবে।’ তো, আমরা অন্যদের থিওরিতে গেলাম না, টপ ফাইভ মিলে লোয়ার অর্ডারের দাবিটা মিটিয়ে দেব। তবে হ্যাঁ, কেউ যদি পাকিস্তান ম্যাচে মাশরাফি ভাইয়ের মতো দুই বাউন্ডারিতে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে, তাহলে তো ভালোই।

প্রশ্ন : সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টির ফাস্ট ফরোয়ার্ড চরিত্রটা বুঝে ওঠাই কি কঠিন মনে হচ্ছে বাংলাদেশের কাছে?

তামিম : তা তো বটেই, সেটা হচ্ছেও কিন্তু অনভ্যস্ততার কারণেই। দেখুন টি-টোয়েন্টি ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান আমার, ম্যাচও সম্ভবত বেশিই খেলেছি। কিন্তু কয়টা? চল্লিশটার (৪৬) মতো হবে। সেই ২০০৭ সালে প্রথমটা খেলার পর এত দিনে এ কয়টা খেলেছি মানে আমি নিজেও অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারিনি। এ কারণেই আমি টি-টোয়েন্টির ফ্যান না। খেলাটা বুঝতে পারলেই না উপভোগ করব। তবে গত দুটা টুর্নামেন্টে ধীরে ধীরে খেলাটা বুঝতে শিখেছি, একটু একটু ভালোও লাগছে। পুরো দলের মন থেকেও টি-টোয়েন্টির জটিলতা কেটে যাচ্ছে। এ ফরম্যাটটা খেলেই শিখতে হবে, স্রেফ প্ল্যান করে শিখে ফেলা যাবে না। আমরা সবাই জানি মোহাম্মদ আমির বল দুদিকে ঘোরাতে পারে। এটাও জানি বাইরে করলে ছেড়ে দিতে হবে, ভেতরে করলে খেলতে হবে। কিন্তু মাঠে গিয়ে ঠিক কাজটা তখনই করতে পারব যখন খেলতে খেলতে নিজেকে তৈরি করার সুযোগ পাব।

প্রশ্ন : এই ফরম্যাটে আপনি বাংলাদেশের টপ স্কোরার। তবু ধারাবাহিক বলা যাবে না। কিন্তু বিপিএল আর পিএসএলে দারুণ ধারাবাহিক ছিলেন আপনি। তামিম এভাবে বদলে গেলেন কী করে?

তামিম : (হাসতে হাসতে) আমার ধারাবাহিকতার অভাব আছে তবু তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের মধ্যে আমার রানই সবচেয়ে বেশি! যা-ই হোক, আগেও বলেছি টি-টোয়েন্টিটা আমি উপভোগ করতাম না একদমই। বুঝতাম না বলেই উপভোগ করতাম না। আর যেটা উপভোগ করি না, সেটায় ভালো করার কোনো কারণ নেই। তাই এ ফরম্যাটে আমার আগের সাফল্যগুলোকে নিজের কাছেই ‘ফ্লুক’ মনে হয়। তো, এ নিয়ে কোচের সঙ্গে অনেক আলাপ করেছি। তাঁকে ধন্যবাদ আমাকে খেলাটা বোঝাতে পারার জন্য। এরপর বিপিএল এলো, মনে হলো কিভাবে ব্যাট করতে হবে, সেটা ধরতে পারছি। যেভাবে ব্যাট করছি তাতে সাফল্য যেমন পেতে পারি, তেমনি ব্যর্থও হতে পারি। তবে একটা ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি যে এভাবেই আমাকে ব্যাটিং করতে হবে। এরপর দুটা টুর্নামেন্টে ভালো করার পর খেলাটাও উপভোগ করা শুরু করেছি।

প্রশ্ন : ক্রিকেটে তো বলের মান বুঝে খেলার একটা ব্যাপার সব সময়ই ছিল। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে কি সে সুযোগ আছে? বিশেষ করে ইম্প্রোভাইজেশন যে ফরম্যাটে সাফল্যের সফলতম রহস্য বলে মনে করা হচ্ছে।

তামিম : আমারটা বলতে পারি। শুরুর দিকে দেখেছেন নিশ্চয় যে টি-টোয়েন্টিতে প্রতিটা বলই বাউন্ডারিতে পাঠাতে চাইতাম। হয়তো দুটা ভালো শট খেলতাম কিন্তু আউট হয়ে যেতাম দ্রুত। কিন্তু শেষ দুটা টুর্নামেন্টে আমি শুরুতে কিছুটা সময় নিয়েছি। তারপর ক্রিকেটীয় শট খেলেই রান করেছি। ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে আমি সফল নাও হতে পারে, তবু নিজের খেলার স্টাইল আর বদলাব না।

প্রশ্ন : টি-টোয়েন্টিতে অ্যাগ্রিকালচার ব্যাটসম্যানদের বেশ চড়া দাম। তো, কপিবুক ব্যাটসম্যানদের নিশ্চয় এ নিয়ে চাপা অনুযোগ আছে। আপনার নিজের কেমন লাগে?

তামিম : একটু খারাপ লাগা তো অস্বাভাবিক নয়। দেখবেন যার টেস্ট গড় ১৫ কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সে এক মিলিয়ন ডলার ফি পাচ্ছে। অবশ্য টি-টোয়েন্টিটা ভালো খেলে বলেই হয়তো ওই খাতিরটা পাচ্ছে। আর ক্রিকেট যেদিকে যাচ্ছে তাতে নন ক্রিকেটিং শট নিয়ে হৈচৈ না করে খেলাটা আমি নিজে কিভাবে আরো ভালো খেলতে পারি, সে চেষ্টা করাই ভালো।

প্রশ্ন : তার মানে নতুন নতুন শট রপ্ত শুরু করে দিয়েছেন।

তামিম : আমি মনে করি না যে চারটা নতুন শট শিখতে হবে। তাহলে নিজের জানা শটগুলো ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। একটা শট মোটামুটি রপ্ত করে ফেলেছি, আরেকটা নিয়ে কাজ করছি। আমার কাছে নিজের সহজাত ক্রিকেট আর গেম প্ল্যানটা সবচেয়ে জরুরি।

প্রশ্ন : সাব্বির রহমানকে কেমন দেখছেন?

তামিম : সাব্বিরের সবটা এখনো ক্রিকেট বিশ্ব দেখেনি। যে প্রতিভা ও শটস খেলার সামর্থ্য ওর আছে, তাতে ওকে নিয়ে বিশ্বের সবগুলো দলকেই বিশেষভাবে ভাবতে হবে। দেখতে চিকন-চাকন হলে কি হবে, ও অনেক জোরে বল মারতে জানে।

প্রশ্ন : এ মুহূর্তে বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি দল মনে হয় কোনটাকে?

তামিম : একটা দলকে সবার চেয়ে বেশি নম্বর দেওয়া কঠিন। উমম...ওয়েস্ট ইন্ডিজ এমন একটা দল কখন কী করে বোঝা মুশকিল, পাওয়ার হিটারের অভাব নেই। অস্ট্রেলিয়াকে আপনি কোনো ফরম্যাটেই উপেক্ষা করতে পারবেন না। এরপর ভারত। টুর্নামেন্টটা উপমহাদেশে হচ্ছে বলে বলছি না। ওরা এশিয়া কাপে যেমন দুর্দান্ত খেলেছে তেমনি অস্ট্রেলিয়াকে ওদের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে। লক্ষ করে থাকবেন, একমাত্র ধোনি ছাড়া ওদের কেউ স্লগ করে না। রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলিরা সবাই ক্রিকেটীয় শট খেলেই বড় রান করে। তাই আমার ফেভারিট ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং অস্ট্রেলিয়া।

প্রশ্ন : দক্ষিণ আফ্রিকাকে কোথাও রাখলেন না!

তামিম : ওরাও ভালো দল। তবে আমার কাছে ওই তিনটি দলকেই সবচেয়ে শক্তিশালী মনে হয়।

প্রশ্ন : সবশেষ প্রশ্ন, ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের চান্স কতটুকু?

তামিম : সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম তিনটি ম্যাচ। যদি কোয়ালিফাই করি, তারপর কেউ জানে না আমরা কোথায় গিয়ে থামব! আমি বলছি না যে বাংলাদেশ ফাইনাল খেলবে কি খেলবে না। শুধু বলব, কোয়ালিফাই করে ফেললে বাংলাদেশকে অচেনা মনে হবে!

মন্তব্য