kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ক্রীড়া সাংবাদিক যখন সুমো কুস্তিগীর

মাসুদ পারভেজ   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ক্রীড়া সাংবাদিক যখন সুমো কুস্তিগীর

শারীরিক গড়ন এমন যে তাঁকে আলাদাভাবে চোখে পড়তেই হয়। রাস্তাঘাটে, শপিং মলে কিংবা বাসস্ট্যান্ডে তাঁর দিকে সবার আগ্রহী চোখ স্থির হয়ে যায়ই যায়।

যদিও পেশাগত জীবনে দারুণ সফল চামিলা কারাভিটার ক্রীড়া সাফল্যও সাধারণ মানুষের বাড়তি মনোযোগ পাওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। তাই বলে নিজের দেশে সেটি না পাওয়া নিয়ে কোনো অভিযোগও নেই তাঁর, ‘আসলে শ্রীলঙ্কায় আমার মতো মানুষ বিরলই। লঙ্কানরা সাধারণত ছোটখাটো গড়নেরই হয়। তাই যেখানেই যাই, এই বিশাল শরীর দিয়ে সবার দৃষ্টি কেড়ে নিতে পারি। ’

এভাবেই দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছিলেন খিতসিরি ডি জয়সারও। ইনি আবার কে? বলতে পারেন ‘শ্রীলঙ্কার মৌসুম আলী’! তাঁকেও চিনছেন না তো? বাংলাদেশে তিনি কোনোমতে খেলোয়াড় ধরে-বেঁধে এনে রাগবি ফেডারেশনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় নিত্য ঘাম ঝরাচ্ছেন। শ্রীলঙ্কায় এই সংগঠকের মতো করেই সুমো ফেডারেশন চালাচ্ছেন ডি জয়সাও। পথে একদিন ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি আর ১৬৫ কেজির চামিলাকে দেখতে পেয়ে তিনি ছাড়বেন কেন! সেই যে পিছু নিয়েছিলেন, চামিলাকে সুমোতে নামিয়েই ছেড়েছেন!

এশিয়া কাপ কাভার করতে ঢাকায় আসা শ্রীলঙ্কার উপালি নিউজপেপারের ক্রীড়া সাংবাদিক চামিলা শোনাচ্ছিলেন সেই গল্পও, ‘একদিন আমি বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ করে একটি গাড়ি এসে থামল। ভেতর থেকে মাথা বের করে ডি জয়সা আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইলেন। নিজেকে সুমো ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট পরিচয় দিয়ে আমাকে এটি খেলার প্রস্তাবও দিলেন। ’ কিন্তু চামিলা চেনা পরিমণ্ডলে সম্ভাব্য টিকা-টিপ্পনীর ভয়েই কুঁকড়ে গেলেন। ‘মাভাশি’ নামের অনেকটা ‘নেংটি’ ধরনের কিছু একটা পেঁচিয়ে খালি গায়ে সুমো লড়াইয়ে নামার লজ্জার কথাই মাথায় এলো প্রথম!

তাই পিছিয়ে গেলেন। এতে সমস্যা বাড়ল আরো! তিনি যত পেছান, জয়সা তত আঁকড়ে ধরেন। কখনো অফিস আবার কখনো বাসায় গিয়ে এমন চাপাচাপি করেন যে চামিলাকে সুমো খেলতে নেমেই পড়তে হয়, ‘আমি স্বেচ্ছায় সুমোতে আসিনি, এসেছি জয়সার পীড়াপীড়িতেই। ’ যেভাবেই হোক, এসেছিলেন বলেই আজ চামিলা গর্ব নিয়েই বলতে পারেন, ‘আমি এখন বিশ্বসেরা আটজনের একজন। আর দক্ষিণ এশিয়ায় এক নম্বর। ’ একটুও বাড়িয়ে বলছেন না। গত বছর আগস্টে জাপানের ওসাকায় হওয়া ওয়ার্ল্ড সুমো চ্যাম্পিয়নশিপের ফল তা-ই বলছে!

ওপেন ক্যাটাগরিতে অংশ নিতে হয়েছে কারণ তাঁর ওজন যে হেভিওয়েট শ্রেণির ১১৫ কেজির চেয়েও অনেক বেশি। তা উন্মুক্ত শ্রেণির প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে এক হাঙ্গেরিয়ানের কাছে হেরে বিদায় নেওয়া চামিলার চোখে এখন নতুন স্বপ্নের উঁকিঝুঁকি। ২০১২ ও ২০১৫ সালে নিজ দেশের সাংবাদিক সংগঠনের বিবেচনায় সেরা ক্রীড়া সাংবাদিক হওয়া এ তরুণ বলছিলেন নতুন সে স্বপ্নের কথাও, ‘২০২০ সালে জাপানের টোকিও অলিম্পিকে সুমো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ওই আসরের জন্য কোয়ালিফাই করে আমি গর্বিত অলিম্পিয়ানও হতে চাই। ’

হতে পারলে হয়তো ভুলতে পারবেন সিরিয়াসলি ক্রিকেট না খেলার দুঃখটাও। মাতুগামা ক্লাবে যখন খেলতেন, তখন এ অলরাউন্ডারের সতীর্থ ছিলেন উপুল থারাঙ্গা ও সাচিত্রা সেনানায়েকের মতো ক্রিকেটাররা। ডিভিশন ‘সি’-র মার্কেন্টাইল ক্রিকেটে তাঁর মাত্র ১৪ বলে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডটিও তো টিকে আছে এখনো। ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার পরও আমজনতার কাছে ভীষণ চেনা মুখে পরিণত হওয়ার সুযোগ আছে। যদি পেশাগত জীবনের মতো সফল হন সুমোতেও।

আর সেজন্য তাঁর আলাদাভাবে চোখে পড়ার মতো শরীরও তো কম বড় সম্বল নয়!


মন্তব্য