kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মুখোমুখি প্রতিদিন

প্রথমে ক্রিকেটেই ভর্তি হতে চেয়েছিলাম

মহিলা হকিতে গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন নড়াইলকে হারিয়ে কাল শিরোপা জিতেছে ঝিনাইদহ জেলা। ম্যাচে একমাত্র গোল করে খেলার ভাগ্য গড়ে দেওয়া অনন্যা বিশ্বাস আত্মপ্রত্যয়ী হকিতেই নিজের ক্যারিয়ার গড়ার। ম্যাচশেষে কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন তেমনটাই

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রথমে ক্রিকেটেই ভর্তি হতে চেয়েছিলাম

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : নড়াইল হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হবে—এটাই বলছিল সবাই, তোমরা তো দান উল্টে দিলে?

অনন্যা বিশ্বাস : হ্যাঁ, কিন্তু আমরা ভালো খেলেই জিতেছি। গত আন্তস্কুল হকিতে এই নড়াইলের কাছে হেরেই আমরা রানার্স-আপ হই।

তাও টাইব্রেকারে গড়িয়েছিল সেই ম্যাচ। তখনই মনের মধ্যে জিদ পুষে রেখেছিলাম জাতীয় হকিতে এসে বদলা নেব। ওরা এখন বুঝুক সেদিন আমরা হেরে কতটা কষ্ট পেয়েছিলাম।

প্রশ্ন : তোমার এই জেদই কি তোমাকে ভালো খেলতে সাহায্য করে?

অনন্যা : হয়তো। এই টুর্নামেন্টে আজই কিন্তু আমি প্রথম গোল করলাম। এর আগের ম্যাচগুলোতে অনেক গোলের সুযোগ নষ্ট করেছি। এতটাই বিরক্তি লাগছিল যে আমাদের স্কুলের ম্যাডামকে গিয়ে বললাম আমার কানটা একটু মলে দিন, কেন এত মিস করছি। ম্যাডামের সেই কানমলা খেয়েই হয়তো আজ গোলটা করতে পেরেছি (হাসি)।

প্রশ্ন : আমাদের দেশে মেয়েরা সেভাবে হকি খেলেই না, খেলার শুরুতে ভয় লাগেনি যদি ব্যথাট্যথা পাও?

অনন্যা : শুরুতে কিছুটা ভয় লেগেছিল। কিন্তু খেলা তো খেলাই। ভয় পেলে চলবে! এখন খেলতেই বেশি ভালো লাগে। একসময় তো শুধু হকি কেন, কোনো খেলাই আমার ভালো লাগত না। আমার বড় ভাই বললেন তোকে বিকেএসপিতে ভর্তি করিয়ে দেব, ক্রিকেট খেলবি। সেই কথা শুনে বিকেএসপিতে এসে আমি পরীক্ষা দেই। কিন্তু ক্রিকেটে সুযোগ পাইনি। এর পরই আন্তস্কুল হকির আমন্ত্রণ এলো। ভাবলাম খেলেই দেখি, এখন তো আমার অনেক ভালো লাগে এই খেলাটা।

প্রশ্ন : তার মানে তুমি ক্রিকেটারও হতে পারতে?

অনন্যা : এখন আমি সব খেলাই খেলি—ক্রিকেট, হকি, ফুটবল... যখন যে খেলা সামনে থাকে।

প্রশ্ন : তোমার মা-বাবার কেমন মনোভাব খেলা নিয়ে?

অনন্যা : আমার মা-বাবার জন্যই তো এভাবে খেলতে পারছি। যখন হকি শুরু হলো, আমার বাড়ি থেকে অনেক দূরে গিয়ে অনুশীলন করতে পারি। পাড়া-প্রতিবেশীরা বলত মেয়েরা এসব করে না। কিন্তু আমার বাবা-মা কখনো মানা করেননি। আর আমিও মনে মনে ভেবেছি অন্যের কথায় আমার চলবে না। আমার নিজের ভবিষ্যত্টা আমার হাতেই।

প্রশ্ন : আজ জেতার পর তোমাদের অনেকেই খুব কাঁদছিল, আনন্দের কান্না নিশ্চয়?

অনন্যা : আনন্দের কান্নাই তো। কত কষ্ট হলো আমাদের এই শিরোপা জিততে! রক্ত পর্যন্ত ঝরাতে হয়েছে। পটুয়াখালীর বিপক্ষে ম্যাচে আমাদের রানী আপু এত জোরে আঘাত পেলেন যে ওনার কপাল থেকে রক্ত ঝরছিল।


মন্তব্য