kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

শুভকামনা

ক্রিকেট উন্মাদনার জোয়ারে ভাসছে ৫৬ হাজার বর্গমাইল। ক্রিকেটের ২২ গজেই যেন মিলবে জীবনের যত না পাওয়ার সমীকরণ। সবার মনে একটাই আশা— জিতবে বাংলাদেশ। একটা সময় বাংলাদেশের জন্য এশিয়া কাপ ছিল দীর্ঘদিন পর পর এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জানালা, আর এখন চার বছরের ভেতর দুটি আসরের ফাইনালে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে সাবেক ক্রিকেটাররা শুভকামনা জানালেন উত্তরসূরিদের, বাতলে দিলেন ভারতকে হারানোর উপায়। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন সামীউর রহমান

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জাহাঙ্গীর শাহ বাদশা

মার্চ মাস, আমাদের অনেক দুঃখের মাস। ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই প্রাণ দিয়েছেন দেশের জন্য, যাতে আজ আমরা আনন্দ করতে পারি।

এই মার্চ মাসে বাংলাদেশের মানুষকে শহীদ জুয়েলের উত্তরসূরিরা যদি একটা আনন্দের উপলক্ষ এনে দিতে পারে, তাহলে এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! দর্শকদের অনুরোধ, চাপ বাড়াবেন না। কেউ শূন্য রানে আউট হয়ে এলেও তালি দিন, যাতে পরের ব্যাটসম্যানটি ভড়কে না যায়। আমরা গ্যালারি থেকে সমর্থন করে যাব, মাঠে খেলোয়াড়রা চাপমুক্তভাবে খেলাটাকে উপভোগ করুক।

 

হাসিবুল হোসেন

বাংলাদেশের পেসাররা যেভাবে বল করছে, তাতে এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই। বেশি চাইলে হিতে বিপরীত হতে পারে। মুস্তাফিজ থাকলে আরো ভালো হতো, কারণ তাকে খেলতে ভারতের ব্যাটসম্যানদের অনেক সমস্যা হয়েছে অতীতে। উইকেট দেখে টস জিতলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ তাহলে ১৪০-এর ওপরে রান করতেই হবে, ১৫০-১৬০ এরকম রান না করলে ভারতকে চাপে ফেলা যাবে না। প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের যেকোনো দুজনকে ভালো খেলতে হবে, কমপক্ষে ৫০ থেকে ৭০ রান করতে হবে।

 

আফতাব আহমেদ

সাব্বির আহমেদ ও সৌম্য সরকার—এই দুজন ব্যাটসম্যান দলে আসার পর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ধরনটাই বদলে গেছে। দুজনেই খুব সাহসী ক্রিকেটার, খুব স্ট্রোক খেলতে ভালোবাসে। তারা যদি দলকে একটা ভালো শুরু এনে দিতে পারে, তাহলে সংগ্রহটা বড় হবে। বাংলাদেশ দল এখন যেভাবে খেলছে, তাতে ভাবতেই ভালো লাগে যে একসময় আমিও বাংলাদেশ দলে খেলেছি। দলের টিম কম্বিনেশন দারুণ, সঙ্গে টানা ভালো খেলার যে আত্মবিশ্বাস এবং বিপুল জনসমর্থন, তাতে আমার মনে হয় বাংলাদেশ দল জয়ী হয়েই মাঠ ছাড়বে।

 

 

নাফিস ইকবাল

বাংলাদেশ এই সময়ে চমত্কার খেলছে, দলের ফিল্ডিংটা খুব ভালো হচ্ছে। মুস্তাফিজকে ছাড়াও পেস বোলিংটা খুব ভালো হচ্ছে। উইকেটটা দেখে মনে হচ্ছে আগে ব্যাটিং করলে ভালো। বাংলাদেশ যদি আগে ব্যাট করে ১৬০-১৭০ রান করতে পারে তাহলে বোলাররা ভারতকে এর নিচে আটকে রাখতে পারবে। টি-টোয়েন্টিতে শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, সে ক্ষেত্রে তামিমকে ভালো করতে হবে। তবে শেষের পাঁচটা ওভারও খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই।

 

 

এনামুল হক

টসটা খুব মুখ্য হয়ে দাঁড়াবে। ভারতকে আগে ব্যাট করতে দিলে অনেক রান করে ফেলতে পারে, আবার পরে বল করলে শিশির একটা প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠতে পারে। তাই উইকেট দেখে কন্ডিশন বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মুস্তাফিজকে খুব মিস করবে বাংলাদেশ, তবে তাসকিন ও আল-আমিনও খুব ভালো করছে। তাসকিনের ভারতের বিপক্ষে অতীতে সাফল্য আছে, তার কাছ থেকে দারুণ একটা স্পেল চাই। তিন ডিপার্টমেন্টেই ভালো করলে ফাইনালটা জেতা অসম্ভব হবে না আমাদের জন্য। গুডলাক বাংলাদেশ।  


মন্তব্য