কোনো কিছুতেই চিন্তিত নয় ভারত-332689 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


কোনো কিছুতেই চিন্তিত নয় ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কোনো কিছুতেই চিন্তিত নয় ভারত

অল্প কিছুক্ষণের জন্য সংবাদ সম্মেলনে এসে এমন এক প্রশ্নের মুখে পড়লেন যে রবি শাস্ত্রীর মনে হলো এর উত্তর দিতে গেলে লম্বা সময়ের প্রয়োজন। কারণ এত এত গল্প যে সেসব তো স্বল্প কথায় বলে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই টি-টোয়েন্টিতে প্রায় হারতেই ভুলে যাওয়া র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর দলটির টিম ডিরেক্টর বিস্তারিত ব্যাখ্যায় গেলেন না। এই ফরম্যাটে ভারতের বদলে যাওয়ার রহস্য তাই খোলাসা হলো না। সেটি না বললেও যে পারফরম্যান্সে আজকের জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল, সেটির পুনরাবৃত্তি আজকের ফাইনালেও দেখতে চান শাস্ত্রী।

বাংলাদেশের বিপক্ষে এশিয়া কাপ ফাইনালের আগের দিন অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক ধোনিই প্রত্যাশিত চরিত্র ছিলেন। কিন্তু এলেন শাস্ত্রী আর এসে বললেন, ‘দল হিসেবে আজকের অবস্থায় আসার পেছনের সব গল্প বলতে গেলে আমাকে এখানে ১০ ঘণ্টা বসে থাকতে হবে। এটুকু বলতে পারি যে একটি ধারাবাহিক অথচ উপভোগ্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আমরা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এক নম্বর হয়েছি। তা হতে গিয়ে যেরকম ক্রিকেট খেলেছি, আশা করছি কালকের (আজ) ফাইনালেও সেরকমই খেলতে পারব।’

সেই ফাইনালের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক বাংলাদেশ হওয়াটাও আবার তাদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ এই ম্যাচে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দর্শক উপচে পড়া গ্যালারি তো মাশরাফি বিন মর্তুজাদের জন্যই গলা ফাটাবে। কিন্তু ছন্দে থাকলে যেটা হয়, কোনো কিছুই সেভাবে বিচলিত করতে পারে না। টানা চার ম্যাচ জিতে ফাইনালে যাওয়া ভারতের টিম ডিরেক্টর শাস্ত্রীকেও বিচলিত করা গেল না তাই, ‘এমন তো নয় যে আমরা হইচইয়ের সঙ্গে পরিচিত নই। মাঠের ১০০ ভাগ লোকও যদি আমাদের বিপক্ষে থাকে, তাতে কী যায় আসে?’ 

উইকেট যেমনই হোক, তাতেও কিছু যায় আসে না ভারতের। আকর্ষক ফাইনালের জন্য ব্যাটিং উপযোগী উইকেট হলে ভালো হয় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবেও এরকমই মনোভাব শাস্ত্রীর, ‘‘উইকেট তো আর আমাদের হাতে নেই। টুর্নামেন্টের শুরুতে আমাকে বলা হয়েছিল যে ‘গ্রিন টপ’ উইকেটই নাকি পেতে চলেছি আমরা। আমি বলেছিলাম তবে তা-ই হোক। কাজেই কাল (আজ) যে উইকেটই দেওয়া হোক, আমরা খেলতে তৈরি।’’ আর উইকেট অনুকূল না হলে সেটি দুই দলের জন্যই প্রতিকূল হবে বলেই আপত্তি নেই শাস্ত্রীর, ‘কন্ডিশন যা-ই হোক না কেন, আমাদের কাজ হলো মাঠে নেমে খেলা। আর মাঠে নামলেই বুঝে যাবেন যে আপনিই খেলছেন না, আরেকটি দলও খেলছে। দুই দলকেই তো একই উইকেটে খেলতে হবে। সুতরাং এটা ফেয়ার প্লে’ই।’

আর টি-টোয়েন্টি খেলার ধর্মটা এমন যে কয়েকটি বল কিংবা কিছু মারদাঙ্গা শটেই ম্যাচের ভাগ্য ঘুরে যেতে পারে। ফাইনালের মতো ম্যাচের স্নায়ুচাপ সামলে নেওয়ার ব্যাপারও খুব গুরুত্বপূর্ণ এখন। যদিও এ বিষয়ে ভারতের ১৯৮৩-র বিশ্বকাপ ক্রিকেট জয়ী দলের অন্যতম সদস্য বলছিলেন, ‘আমাদের ছেলেরা অভিজ্ঞ। ওরা এটিকে আরেকটি ম্যাচ হিসেবেই নেবে। কেন ফাইনাল হিসেবে নিতে যাবে? এই টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলো যেভাবে নিয়েছিল, সেভাবেই নেবে। প্রতিটা ম্যাচই ওরা নকআউট ধরে খেলেছে। ফাইনালটিও তাই ধরে খেলবে।’

সেই ফাইনালের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে দেখছেন এভাবে, ‘ওদের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটিতে আমরা বেশ চাপেই ছিলাম। এরপর শেষ ১০ ওভারে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। সত্যিই খুব কঠিন ম্যাচ ছিল সেটি।’ ফলাফলেও নিশ্চয়ই প্রথম ম্যাচের পুনরাবৃত্তি চাইবেন শাস্ত্রী।

মন্তব্য