আস্থা দলীয় ঐকতানে-332682 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


আস্থা দলীয় ঐকতানে

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আস্থা দলীয় ঐকতানে

মুত্তিয়া মুরালিধরন একবার বাংলাদেশের হূদয় ভাঙার গল্প লিখেছিলেন। তাও আবার সেটি বল হাতে হলে হয়তো অত দুঃখ থাকত না। কিন্তু স্পিন জাদুকর ২০০৯ সালে এই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশকে শিরোপার তীর থেকে ফিরিয়েছিলেন ব্যাট হাতে। এরপর ২০১২-র এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানের হারে আরেকবার লেখা হয়েছিল মন ভাঙার গল্প।

এবার আরেকটি ফাইনাল আগের দুইবারের কষ্টের কথা যেমন মনে করিয়ে দিচ্ছে, তেমনি আশাবাদীও তো কম করে তুলছে না। কারণ আগের দুইবার ফাইনালের মতো বড় ম্যাচের জটিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ছিল না। সেই দুই ফাইনালের অভিজ্ঞতার আলোকে অন্তত এখনকার দলের ক্রিকেটাররা জানেন যে আবার ওরকম পরিস্থিতি হলে কী করতে হবে। সেই ভরসা থেকেই অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলে দিতে পারলেন, ‘ওরকম পরিস্থিতি হলে এবার হয়তো আমরা আরো ভালো করব। তবে বলতে পারব না যে চার বছর আগের ওই ফাইনালে শিরোপার অত কাছে গিয়েছিলাম বলেই এবার আমরা চ্যাম্পিয়ন হব। ম্যাচ ক্লোজ হলে আগের তুলনায় ভালো কিছু করার কথাই শুধু বলতে পারি।’

আর ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে কঠিন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে এর চাপ সয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মাশরাফির মন্ত্রটা সম্ভবত এ রকমই যে, ‘আমরা শক্তি, আমরা বল, আমরা ছাত্রদল’! একাই ম্যাচ ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে জানা কারো চেয়ে যে সম্মিলিত পারফরম্যান্সের ফুল ফোটানোতেই বেশি আস্থা বাংলাদেশের সীমিত ওভারের অধিনায়কের, ‘ফাইনালে কিন্তু ভারত পরিষ্কার ফেভারিট। এটা নিয়ে প্রশ্নের কোনো অবকাশই নেই। ওদের বিপক্ষে ভালো করতে হলে দল হিসেবেই করতে হবে আমাদের। কারণ টি-টোয়েন্টিতে আমরা এখনো সেরকম ক্রিকেটার গড়ে তুলতে পারিনি, যারা একাই ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে। গত দুটো ম্যাচও আমরা দল হিসেবে খেলেই জিতেছি। এই মুহূর্তে আমাদের দলীয় একতা দারুণ। ভারতের বিপক্ষে সেটিই ধরে রাখতে চাই।’

তবে দেশের মাঠে খেলা হওয়াটা যে দলগত পারফরম্যান্সের নিশ্চয়তা নয়, সেটিও বলে রাখতে ভোলেননি তিনি, ‘নিজেদের মাঠে খেলা হওয়াটা অবশ্যই আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ। নিজেদের দর্শক, চেনা মাঠ—সবই আমাদের পক্ষে। তাই বলে এটাই তো শেষ কথা নয়। সব কিছু পক্ষে থাকলেই যে দিনটি আমাদের হবে, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।’ বরং তাঁর দলের তারুণ্যই মাশরাফিকে ফাইনালের আগে সবচেয়ে বেশি মানসিক শক্তি জোগাচ্ছে, ‘শক্তির জায়গা বলতে আমাদের বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার আছে। তারা যে শুধুই সম্ভাবনাময়, তা নয়। সেই সম্ভাবনাটা তারা কাজেও লাগাতে পারছে।’ 

এই শক্তি দিয়ে আরেক ‘শক্তি’র ঋণও শোধ করার তাগিদ আছে মাশরাফির, ‘দর্শক আমাদের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় শক্তি সব সময়ই ছিল, এখনো তা-ই আছে। দর্শক না থাকলে আমরা এতটা অনুপ্রাণিত হতাম না। আমাদের ক্রিকেটের এ পর্যন্ত আসার পেছনে জনসাধারণের অনেক অবদান ও ত্যাগ। ফাইনালটি তাই আমাদের জন্য ভালো কিছু করে সবাইকে খুশি করার দারুণ সুযোগও।’ ত্যাগ আছে মাশরাফি এবং তাঁর দলের ক্রিকেটারদেরও। ক্রিকেটের জন্য লম্বা সময় ধরে পরিবার-পরিজন ছেড়ে থাকতে হয়। এবার তো এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেই আবার পরদিন সকালে ছুটতে হচ্ছে ভারতে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি খেলতে। ধর্মশালায় পৌঁছেই বিশ্রাম নেওয়ারও ফুরসত খুব একটা নেই।

মাশরাফি নিজেও বলছেন যে একটি দিন সময় হাতে পেলে খুব ভালো হতো। তা যখন পাওয়া যাচ্ছে না, তখন ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচির ভালো দিকটি আবিষ্কারেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘তরুণদের জন্য ভালো দিক যে ক্যারিয়ারের শুরুতেই ওরা এত বড় ম্যাচ খেলছে। ফলে ওরা বড় ম্যাচের জন্য নিজেদের মানসিকভাবে গড়ে তুলতে পারবে। এভাবেই ওদের তৈরি হতে হবে। কারণ পেশাদার ক্রিকেটারদের জীবনটা এরকমই হয়। এর মধ্যেও আনন্দ আছে। সেটিও নিতে হবে। ফাইনালে না উঠলে হয়তো এই স্বাদটা আমরা পেতামও না। এখন আমার মনে হয় সবাই সময়টা উপভোগই করছে।’

শিরোপা দিয়ে আগের দুইবারের ফাইনাল অভিজ্ঞতা ভুলতে পারলে সময়টা নিশ্চিতভাবেই আরো উপভোগ্যও হয়ে উঠবে।

মন্তব্য