নিজের তৈরি ‘ওষুধ’ খেতেন ক্রো!-332344 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


নিজের তৈরি ‘ওষুধ’ খেতেন ক্রো!

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নিজের তৈরি ‘ওষুধ’ খেতেন ক্রো!

আধুনিক ক্রিকেটের সেরা উদ্ভাবক মার্টিন ক্রো। স্পিন দিয়ে ওয়ানডেতে বোলিং উদ্বোধন করিয়ে চমকে দিয়েছিলেন এই সাবেক কিউই অধিনায়ক। ’৯২ বিশ্বকাপে মার্ক গ্রেটব্যাচকে দিয়ে পিঞ্চ হিটিং করিয়ে বদলে দিয়েছেন ওয়ানডের ধারাই। অবসরের পর উদ্ভাবন করেছিলেন ‘ক্রিকেট ম্যাক্স’ নামের তিন ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেট। গত পরশু সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা এই কিউই কিংবদন্তির জীবন প্রদীপ নিভে গেছে ক্যান্সার নামের নীরব ঘাতকের কাছে হার মেনে।

ক্রিকেটের ২২ গজের মতো মার্টিন ক্রো নাকি নিজের জীবনেও চালিয়েছেন পরীক্ষা! গতকাল ‘দ্য গার্ডিয়ানে’ ক্রোর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন তাঁরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু মাইক সেলভি। নিজের কলামে ইংল্যান্ডের সাবেক এই ক্রিকেটারের দাবি, ‘গত বছর বিশ্বকাপের সময় ক্রোর সঙ্গে দেখা হয়েছিল আমার। তখন বাঁচা নিয়ে আশা ছেড়ে দিয়েছিল ও। তাই কষ্টকর কেমোথেরাপি না নিয়ে নিজেই ওষুধ তৈরি করে সেবন করত। সেটা হচ্ছে তরল গাঁজা। এটা সেবন করে দিনে ঘুমাত ১৫ ঘণ্টা। সেই ১৫ ঘণ্টাই ছিল তাঁর জন্য শান্তির।’

২০১২ সালে লিমফোমা বাসা বেঁধেছিল ক্রোর শরীরে। আট মাস পর সুস্থ হলেও সেটা আরো ভয়ংকর হয়ে ফিরে আসে ২০১৪ সালে। এরপর কেমোথেরাপি নিয়ে আরো কাহিল হয়ে পড়েন নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই অধিনায়ক। তাই বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন নিজেই। কষ্টের সেই দিনগুলো স্মরণ করিয়ে সেলভি লিখেছেন, ‘ক্রিকেট ক্যারিয়ারে সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল ক্রো। ওর মতো উদ্ভাবনী শক্তি অন্যদের মধ্যে দেখিনি আমি। লিমফোমা দ্বিতীয়বার শরীরে বাসা বাঁধার পর বেঁচে থাকার ৫ শতাংশ সম্ভাবনাও দেখত না ক্রো। যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে নিজেই উদ্ভাবন করেন তরল গাঁজা নামের ওষুধ! দিনের ১৫ ঘণ্টাই ঘুমিয়ে শান্তিতে কাটাত ও।’

’৯২ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চোট পেয়ে মার্টিন ক্রো নেতৃত্ব দিতে পারেননি পাকিস্তানের রান তাড়ার সময়। অনেকের বিশ্বাস ২৫০ রানের বেশি করার পরও পাকিস্তানের কাছে নিউজিল্যান্ডের হারার কারণ সেটাই। কখনো বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলতে না পারার আফসোস গতবার ব্রেন্ডন ম্যাককালামের হাত ধরে মিটিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ক্রোর প্রতি সেই ম্যাককালামের শ্রদ্ধাঞ্জলি, ‘ভালো আর আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে সব সময় আমাদের উৎসাহ জুগিয়ে গেছেন তিনি। নিজেদের খেলার মান আরো উঁচুতে নিয়ে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন সব সময়, যা অনেক বড় পাওয়া হয়ে আছে আমাদের।’ দ্য গার্ডিয়ান

মন্তব্য