kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘প্রস্তুতি ম্যাচে’ জয় পাকিস্তানের!

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘প্রস্তুতি ম্যাচে’ জয় পাকিস্তানের!

যে সময়ে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা বাংলাদেশের, সেই সময়ে কিনা ঢাকায় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলল পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কা! আসলেই তাই। এই দুই দলকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে না গেলে তো আজ ধর্মশালায়ই থাকতে হতো মাশরাফি বিন মর্তুজার দলকে এবং হংকংয়ের বিপক্ষে নির্ধারিত প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতেও নেমে পড়ত।

কিন্তু দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ নির্ধারিত সেই সূচি বদলে দেওয়ার পর কেবলই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হওয়া এশিয়া কাপের শেষ গ্রুপ ম্যাচটি ফাইনালের দর্শক বনে যাওয়া পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্র জন্য হয়ে উঠেছিল ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির প্রস্তুতি ম্যাচই।

অন্তত ম্যাচটিকে এভাবে দেখেই তাদের পক্ষে আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব ছিল। সম্ভবত দুই দলই ম্যাচটিকে সেভাবে দেখার চেষ্টা করেছেও। তাতে বলা যায় যে প্রস্তুতিটা জমাটও হয়েছে। কারণ আগের তিন ম্যাচেই ব্যাটিংয়ে ছন্দহীন দল দুটিকে এবার দেখা গেছে চেনা চেহারায়ই। এমনকি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষেও ব্যাটিং ভুগিয়েছে তাদের। শেষ ম্যাচে গিয়ে দুই দলের ব্যাটসম্যানরা প্রতিপক্ষের বোলারদেরও ভোগাতে পারলেন। তাতে একেবারেই গুরুত্বহীন ম্যাচটি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দর্শকদের কিছুটা মনোরঞ্জনও করতে পারল।

এই ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া লঙ্কানরা টুর্নামেন্টে নিজেদের সর্বোচ্চ ইনিংসটিও কালই পেল। কাল যে রান করল, তা এমনকি করতে পারেনি আরব আমিরাতেও বিপক্ষেও। টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সহযোগী সদস্য দেশের বিপক্ষে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান তোলা লঙ্কানরা ব্যাটিং বিভীষিকা দিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল। ভারতের বিপক্ষে যে ১৮ ওভারে মাত্র ৮২ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশের ১৪৭ রান তাড়া করতে নেমেও ১২৪ রানের বেশি করতে পারেনি। কাল পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই শ্রীলঙ্কাই ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে তুলে ফেলল ১৫০ রান। যদিও পাকিস্তান উমর আকমলের ৩৭ বলে চার বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় সাজানো ৪৮ রানের ইনিংস দিয়ে সেই রান ৪ বল বাকি থাকতেই টপকে গেল। ‘প্রস্তুতি ম্যাচে’ তাদের জয় ৬ উইকেটের।

লঙ্কানদের ক্ষেত্রে শুরুটা যাকে বলে উড়ন্তই। ১৪.১ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ১১০ রান জমা করে ফেলেন দুই ওপেনার দীনেশ চান্দিমাল ও তিলকরত্নে দিলশান। এরপর ১৫ রানের মধ্যে ঝটপট চার-চারটি উইকেট হারিয়ে না ফেললে লঙ্কানদের সংগ্রহ হতে পারত আরো বেশি। সেটি না হলেও তাদের জন্য স্বস্তির কথা যে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির আগে রানের দেখা পেয়েছেন দিলশান। ৫৬ বলে ১০ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় তিনি খেলেছেন ৭৫ রানের হার না মানা ইনিংস। সেই সঙ্গে টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি করা চান্দিমালের ব্যাটে ভর দিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচও ব্যাটিংয়ের দিক থেকে ভালোই গেল লঙ্কানদের। তবে উমরের ব্যাটে ম্যাচটি সার্বিকভাবে ভালো গেল পাকিস্তানেরই।

ফাইনালে যেতে না পারায় ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির প্রস্তুতি যে তারা শুরু করতে পারল জয় দিয়েই।


মন্তব্য