kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভারত বলেই তামিমের স্পেশাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভারত বলেই তামিমের স্পেশাল

১৬ বছরের সেই চাপল্য নেই। তবে জহির খানের ১৪০ কিলোমিটার গতির বল সোজা সাইট স্ক্রিনে আছড়ে ফেলার প্রসঙ্গ উঠলে এখনো হাসেন তামিম ইকবাল খান।

টেস্টে ভারতের বিপক্ষে দেড় শ রানের ইনিংসের সঙ্গে গড়টাও পঞ্চাশ পেরোনো, ৫৩.৯৩। ওয়ানডেতেও ক্যারিয়ার গড়ের চেয়ে ভারতের বিপক্ষে  তামিমের ব্যাটিং গড়টা বেশি। এমনি শুধু জানিয়ে রাখার জন্য, তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রান বাঁহাতি এ ওপেনারের। অগত্যা কাল মিরপুরের ইনডোরে অনুশীলনের পর টিমের পক্ষ থেকে মুখপাত্র হিসেবে ‘বরাদ্দ’ হওয়া তামিমকে স্থানীয়দের মতো লুফে নিলেন ভারতীয় সাংবাদিকরাও।

প্রথম প্রশ্নটাই যথারীতি ভারতকে পেলে তামিমের জ্বলে ওঠার কারণ খোঁজার চেষ্টায় তিনি। তামিমের এখন ২৭ বছরের পোড় খাওয়া ব্যক্তিত্ব, অত সহজে মনের আগল খুলে দিয়ে বাড়তি চাপ নেবেন কেন, ‘ভারতকে পেলেই জ্বলে উঠি, ব্যাপারটা তেমন না। ভারত শক্তিশালী দল। তাদের বিপক্ষে সব প্রতিপক্ষের মনেই ভিন্ন ধরনের অনুভূতি থাকে। তবে এবারের এশিয়া কাপে ওদের মতো আমরাও ভালো ক্রিকেট খেলছি। তাই ফাইনালে যেকোনো কিছুই হতে পারে। যে দল ভালো ক্রিকেট খেলবে, জিতবে তারাই। ’ তার মানে সেই ফিফটি-ফিফটিই আত্মবিশ্বাস হয়ে গেঁথে আছে তামিমের মনে।

তবু তামিমের কাছে কি আর ‘স্পেশাল’ কিছুর দাবি তোলা বন্ধ হয়ে যায়! দেশে ফেরার পর কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহ আলাদা করে ডেকে বলেছেন, ‘তুমি ফেরায় খুব নির্ভার লাগছে। ’ পুরো দলেও স্বস্তির হাওয়া নিয়ে এসেছেন তামিম। একে তো রানে সবার সেরা, তার ওপর বিপিএল এবং সিপিএলে দুর্দান্ত ফর্ম দিয়ে নিজের প্রাইসট্যাগটা আরো বাড়িয়ে নিয়েছেন তিনি। তাই কালকের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে আরেকটা তামিমীয় ইনিংসের প্রত্যাশা সবার। যদিও প্রশ্নটা ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেললেন না তিনি, ‘আগে কি করেছি, তার সবই এখন অতীত। রবিবার শুরু  হবে নতুন একটি দিন। আমাদের শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমার যে পরিকল্পনা রয়েছে, সে মতে খেলে চেষ্টা করব যেন দল উপকৃত হয়। ’ তবে ফর্মের তুঙ্গে থাকাটা যে আত্মবিশ্বাসী করে রেখেছে, সেটি অস্বীকার করেননি তামিম, ‘তা তো বটেই। মানসিকভাবেও ভালো অবস্থায় থাকা যায়। আমি চেষ্টা করব ভালো ফর্মটা যেন জাতীয় দলের খেলাতেও ধরে রাখতে পারি। ’ ফর্মে থাকলেও ব্যক্তিগত কারণে দিন দশেক ছুটি কাটানোয় ম্যাচ প্র্যাকটিসে কিছুটা ঘাটতি থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে গত কদিনের অনুশীলন এবং পাকিস্তান ম্যাচে ছুটির অনভ্যস্ততা কেটে গেছে তামিমের, ‘১০-১২ দিন পর খেলতে নামাটা ব্যাটসম্যানের জন্য একটু কঠিনই। তবে একটা ভালো ব্যাপার হয়েছে যে ফাইনালের আগে ২-৩টা প্র্যাকটিস সেশন পেয়েছি, একটা ম্যাচও খেলেছি। ’

কিন্তু একজন তামিমের হাতেই তো আর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চাবিকাঠি নেই, সেটা মনেও করিয়ে দিয়েছেন তিনি, ‘জিততে হলে তিন বিভাগেই আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে। প্রথম ম্যাচের কথা ভাবুন, খারাপ অবস্থা থেকেও ওরা ম্যাচটা জিতেছিল। ওদের সেই স্কিল আছে। তাই আমাদের ভুল করা যাবে না। ’ বাড়িয়ে বলেননি তামিম। কত ম্যাচই তো মুঠো থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ভারত। অথচ ভারতের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকে জয়ের রেকর্ড নেই বাংলাদেশের। ২০০৭ বিশ্বকাপে ত্রিনিদাদের সেই ম্যাচ এবং সবশেষ গত জুন-জুলাইয়ে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের ম্যাচ দুটিও শুরু থেকে নিয়ন্ত্রণ করেছে বাংলাদেশ। দুই দলের শক্তির মূল ব্যবধানটা এ জায়গাতে। এক দল পারে হারের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে নিতে। অন্য দল ভড়কে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায় হতাশায়। এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচের কথাই ভাবুন। ১০ ওভার পর্যন্ত ছড়ি ঘোরানো মাশরাফি বিন মর্তুজাদের ম্যাচের পরের অংশে কেমন অসহায় দেখিয়েছে!

রোহিত শর্মার ক্যাচ পড়া এবং ওই ওভারে জোড়া বাউন্ডারি আর এক ছক্কায় ম্যাচের রং পুরোপুরি বদলে যাওয়াটা ব্যাংককে বসে দেখেছেন তামিম। তবে তারও আগে থেকেই তিনি জানেন, ‘এই ফরম্যাটের খেলা ২ ওভারেই গতিপথ পালটে যেতে পারে। ১৫ রানের দুটি ওভারে ৩০ রান যোগ হলেই ম্যাচের ভারসাম্য বদলে যায়। আবার দুই ওভারে দুটি করে চারটি উইকেট তুলে নিলেই ম্যাচ শেষ!’ এখানে ঘুরে দাঁড়ানো কিংবা প্রতি-আক্রমণের কোনো রেসিপি জানা নেই বাংলাদেশের, যা জানে এ ফরম্যাটের প্রতিষ্ঠিত দলগুলো। ভারতই যেমন ৫৩/৩ থেকেও হারিয়েছিল বাংলাদেশকে।

সামর্থ্যের এ ব্যবধানটা রেখেও জয়ের পাল্লা একই সমতায় স্বীকার করেন তামিম, ‘টি-টোয়েন্টিতে আমরা এখনই জায়ান্ট হয়ে যাইনি। তবে কিছুটা উন্নতি তো অবশ্যই করেছি। এভাবে এগোতে থাকলে ভবিষ্যতে আমরা দারুণ কিছু করব। ’ যদিও দেশের মানুষের কাছে টি-টোয়েন্টির ‘জায়ান্ট’ হয়ে গেছেন তিনি। কোচ যেমন তামিমের আগমনকেই সুখবর বলছেন, তেমনি ফাইনালে তিনিই ম্যাচের গতিপথ ঠিক করে দেবেন বলে বিশ্বাস অনেকের। কিন্তু আরেকবার চাপের চাদর সরিয়ে দিলেন তামিম, ‘আমি সেটা মনে করি না। আমি নই, দলের সবাই মূল খেলোয়াড়। আমার কাজ আরেক ওপেনারকে নিয়ে দলকে ভালো একটা শুরু দেওয়া। ’

আর তাতে ভর করে দল জিতলেই খুশি তামিম ইকবাল। অবশ্য একই ছকে ভারতকেও রেখেছেন তিনি, ‘যে দল কাজটা করতে পারে; ভারত কিংবা বাংলাদেশ, জিতবে তারাই। ’


মন্তব্য