kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শচীনভক্ত খাদিজাতুল কুবরা

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শচীনভক্ত খাদিজাতুল কুবরা

নামের সঙ্গে বিষধর সাপের একটা মিল আছে, তাই খাদিজাতুল কুবরার সঙ্গে এ নিয়ে সতীর্থরাও মজা করেন বেশ। উইকেট পেলেই নাকি পাশ থেকে দলের কেউ বলেন, ‘কুবরা, তুই তো কোপ দিলি!’ উত্তরে বগুড়ার এই মেয়েও মজা করে বলেন, ‘আরো কোপ দেব।

’ তাঁর বল অবশ্য সাপের মতোই ফণা তোলে। অফস্পিন করেন খাদিজা, নিরীহ-দর্শন বলেও লুকিয়ে থাকে বিষের ছোবল। তাতেই তো ক্রিজ ছাড়তে হয় বিপক্ষের ব্যাটারদের। ২০১১ সালে মেয়েদের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল খাদিজার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর প্রথম শিকার আয়ারল্যান্ডের কিম গার্থ, বোল্ড হয়েছিলেন খাদিজার বলে। তারপর একে একে ১৪টি এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ মহিলা দলের হয়ে মাঠে নেমেছেন খাদিজা। এক দিনের ম্যাচে তাঁর সেরা বোলিং ৮ রানে ৩ উইকেট, ২০১২ সালে ঢাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েদের দলের বিপক্ষে তাঁর এই সাফল্য। সেই ম্যাচটা ২ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। কিছুদিন আগে থাইল্যান্ডে হয়ে যাওয়া মেয়েদের টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরের বাছাই পর্বে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন খাদিজা। বাছাই পর্বে সেটাই ছিল সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।

বালিকাবেলা থেকেই বাড়ির পাশের মাঠে ক্রিকেট খেলতেন খাদিজা। বাবা-চাচারাই ছিলেন সতীর্থ। একসময় বগুড়ার মুসলিম স্যার নামের স্থানীয় এক কোচের নজরে আসেন খাদিজা। স্পিন বোলিংয়ের তালিম তিনিই দিয়েছেন। ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসতেন, তাই তো ছোটবেলায় ক্রিকেটে মজে গিয়ে এখন খেলাটাকেই ধ্যান-জ্ঞান বানিয়ে ফেলেছেন। টিভিতে খেলা দেখতে খুব ভালোবাসতেন, এখন তাঁর খেলাই বাড়ির লোক দেখে টিভির পর্দায়। দেশে প্রিয় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, ভালো লাগে শচীন টেন্ডুলকারের ব্যাটিং দেখতে। মাত্রই একুশে পা দেওয়া খাদিজা বাংলাদেশে মেয়েদের ক্রিকেটকে অনেক দূর এগিয়ে যেতে দেখতে চান।


মন্তব্য