kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এই শাস্তিতে বোধোদয়ের সুযোগ কম

সনৎ বাবলা    

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এই শাস্তিতে বোধোদয়ের সুযোগ কম

গোলাম সারওয়ার টিপুুর হালের ফুটবলারদের সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগ নেই। তবে পত্র-পত্রিকা পড়ে এবং ফুটবলের গল্প শুনে যেটুকু বোঝেন তার ভিত্তিতেই সাবেক এই ফুটবল কোচ সন্দেহ পোষণ করেছেন, ‘যাদের জাতীয় দলে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তারা আসলে জাতীয় দল কী জিনিস সেটা বোঝে কিনা, আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে।

’ এই সন্দেহকে যে খুবই সত্যি তা নিষিদ্ধ ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যেই জাহিদ হোসেন বুঝিয়ে দিয়েছেন ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে, ‘ফিলিং কুল। ’ মানে এক বছর জাতীয় দল থেকে নিষিদ্ধের খবরে তিনি শান্ত। চাপমুক্ত। কারণ তাঁর কাছে জাতীয় দল হেলাফেলার, আসল হলো ক্লাব ফুটবল।

স্পষ্ট হয়ে গেল, জাতীয় দলে খেলা এই ফুটবলারদের কাছে বড় ইস্যু নয়। আগেকার ফুটবলারদের মতো তাঁরা স্বপ্ন দেখেন না জাতীয় দল নিয়ে। স্বাভাবিকভাবে এই দলের মর্যাদাবোধ নিয়েও তাঁদের বিশেষ চিন্তা নেই। তাই হারেও তাঁদের মাথা নত হয় না, মুখ গোমড়া হয় না। পরের ম্যাচে ভালো খেলার জেদ চাপে না। কী এক অদ্ভুত প্রজন্মের হাতে উঠেছে দেশের ফুটবল! নিষিদ্ধ হলেও খুশি হয়!

সাফ ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ব্যর্থতার পর গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পরবর্তী দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গত পরশু চার ফুটবলারকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে জাতীয় দল থেকে। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে মামুনুল ইসলাম ও জাহিদ হোসেনকে এক বছরের জন্য এবং ইয়াসিন খান ও সোহেল রানা ছয় মাস নিষিদ্ধ থাকবেন। গোলাম সারওয়ার টিপু এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য সাকিবের মতো আইকন ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দল থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল আল-আমিনকে। ফুটবলেও এ রকম কঠোরতা আগে দেখানো উচিত ছিল। এখানে এমন কোনো ফুটবলার নেই যে সে দলে না থাকলে খেলার ওপর প্রভাব পড়বে। ’ তিনি বরং বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, বিদেশি কোচ, এত প্র্যাকটিস ম্যাচ এবং ফাইভ স্টার হোটেলের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরও মাঠের খেলায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন না দেখে। তুলনা করলে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখনকার জাতীয় ফুটবল দল অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা পায়। বিনিময়ে মাঠের পারফরম্যান্স তো নেই-ই, তার ওপর ফুটবলারদের উচ্ছৃঙ্খলতা হয় বড় খবর। জাতীয় দলের সাবেক তারকা মতিউর মুন্নাও শৃঙ্খলার ওপর জোর দিচ্ছেন, ‘অন্যায় করলে শাস্তি অবশ্যই পেতে হবে। তবে শৃঙ্খলা যখন ভঙ্গ করেছে তখনই শাস্তি দেওয়া উচিত ছিল। ’ ২০০৩ সালে তিনি নিজেও নিষিদ্ধ হয়েছিলেন আবাহনী-মুক্তিযোদ্ধা ম্যাচের পর। অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটান পরে সাসপেনশন কমিয়ে তাঁকে দলে ফিরিয়েছিলেন সাফ ফুটবলের স্বার্থে। এই সাবেক ফুটবলার মনে করেন, ‘শুধু ফুটবলারদের ওপর দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু অফিশিয়ালদের ব্যর্থতাও দেখতে হবে। ’

বাফুফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর হোসেন মালু অবশ্য এই শাস্তিটাকে ‘আই ওয়াশ’ মনে করেন। ‘এটা কোনো শাস্তি হলো না, ওই চার খেলোয়াড় ক্লাব ফুটবলে খেলবে। আমার মনে হচ্ছে, ক্লাবগুলোর জন্য কিছু করতে পারেনি। তা ছাড়া ম্যানেজমেন্টের শাস্তি হবে না কেন’—এই প্রশ্নগুলো তুলেছেন মালু। এই এমন জিজ্ঞাসা অনেকেরই। ২০১১ সালে জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে পালিয়ে মানিকগঞ্জে খেপ খেলতে যাওয়ার অপরাধে জাহিদ হাসান ও মিঠুন চৌধুরীকে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা এবং ঘরোয়া ফুটবলে পাঁচ ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এরপর জাতীয় দলের ম্যাচে শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য এক লাখ টাকা জরিমানা ও জাহিদ হোসেনকে ঘরোয়া ফুটবলে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় দল কমিটির প্রধান কাজী নাবিল আহমেদ এড়িয়ে গেছেন ক্লাব ফুটবলের ইস্যুটা তাদের নয় বলে। ক্লাব ফুটবলের ইস্যুটা এড়িয়ে যাওয়ায় কারণেই জাহিদ হোসেন বলছেন ‘ফিলিং কুল’। কারণ এই শাস্তিতে তাঁদের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। তাঁর বা তাঁদের ভয় ছিল ক্লাব ফুটবলে নিষিদ্ধ হওয়া নিয়ে। জাতীয় দলে নিষিদ্ধ করে সেই ভয় তাড়িয়ে নির্ভয়ে ক্লাব ফুটবল খেলার সুযোগ করে দিয়েছে বাফুফে।


মন্তব্য