ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে পাকিস্তান-331974 | খেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে পাকিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক    

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে পাকিস্তান

উইকেট পাওয়ার পর যে ভঙ্গিমায় উদ্যাপন করেন, শহীদ আফ্রিদির ঠিক সেরকম এক প্রতিকৃতিতেই আগুন জ্বলছে। এমন একটি ছবি গত পরশু রাত থেকেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটের দুনিয়ায়। সেই ছবির নিচে এমন ক্যাপশনও জুড়ে দেওয়া হচ্ছিল যে বাংলাদেশের কাছে হারের জন্যই নাকি লাহোরের রাস্তায় ক্ষুব্ধ ভক্তরা কুশপুত্তলিকা পোড়াচ্ছিলেন পাকিস্তান অধিনায়কের! যদিও এশিয়া কাপ কাভার করতে ঢাকায় আসা পাকিস্তানের জিও টিভির সাংবাদিক অসমর্থিত সূত্রের সেই খবর উড়িয়েই দিলেন, ‘একদম ফালতু কথা।’

ওই সাংবাদিক হয়তো ঠিকই বলেছেন। এবার পাকিস্তানি ক্রিকেটপ্রেমীরা কুশপুত্তলিকা আর পোড়াননি, দাফন করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে! সত্যি তাই। ভারতীয় অনলাইন ‘ইন্ডিয়া টাইমস’-এ পোস্ট করা ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে, ক্ষুব্ধ পাকিস্তানিরা ‘মৃত’ পাকিস্তান দলের জানাজা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাস্তায়। ‘এআরওয়াই নিউজ’-এর ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই দৃশ্যে পাকিস্তানি ক্রিকেটপ্রেমীরা ‘আজ জানাজা হবে’ বলে দিচ্ছিলেন স্লোগানও। শোয়েব আকতার, জাভেদ মিয়াঁদাদ, মোহাম্মদ ইউসুফের মতো সাবেকরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্সে। ইউসুফের ক্ষোভটা অধিনায়ক আফ্রিদির ওপরই বেশি, ‘দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হয়েও আফ্রিদির পারফরম্যান্স ভালো নয়। অধিনায়ক হিসেবে অনেক চাপে আছে ও।’ শোয়েব তো পাকিস্তানের ফাইনালের নকশাও এঁকে রেখেছিলেন! কষ্ট তাই তাঁর একটু বেশিই, ‘এশিয়া কাপ থেকে এভাবে বিদায় নেওয়াটা খুব হতাশার। ভেবেছিলাম বাংলাদেশকে হারাতে দল অনেক বেশি উজ্জীবিত থাকবে। এরপর শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনাল খেলব ভারতের সঙ্গে।’

২৮ ফেব্রুয়ারি চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হারের লজ্জায় ডোবার পর সমালোচনায় বিদ্ধ আফ্রিদির প্রতিকৃতিও আক্রান্ত হয়েছে। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টির প্রথম বিশ্ব আসরের ফাইনালেও সেই ভারতের কাছে হারের পরও আফ্রিদিসহ আরো অনেক পাকিস্তানি ক্রিকেটারের হয়েছিল একই পরিণতি। কাজেই এবার ঘটনা সত্যি ঘটে থাকলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু অন্তত ছিল না।

অবশ্য পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এমন সব ব্যর্থতায় কিছু গুজব রটে যাওয়াটাও যেন নিয়মেই পরিণত হয়ে গেছে। এশিয়া কাপের ফাইনালের যেতে না পারায় এমনও রটে গিয়েছিল যে ভারতে আর কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হতে যাওয়া ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব হারাচ্ছেন আফ্রিদি। অবসর নেওয়া নিয়ে যিনি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নাটক কম করেননি। অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন বহুবার। আবার অবসর ভেঙে ফিরে আসার ঘটনাও কম নয়। এই অলরাউন্ডারের ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি শেষেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে পুরোপুরি বিদায় জানানোর কথা ছিল। কিন্তু ঢাকায় এশিয়া কাপ খেলতে আসার কয়েক দিন আগে আবার সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলার আভাস দিয়েছেন।

তবে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের যা পারফরম্যান্স, তাতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা নিয়েই ঝড়টা বেশি যাচ্ছে আফ্রিদির ওপর দিয়ে। তাঁর জন্য আশার কথা, বিশ্বকাপের আগেই নেতৃত্ব হারানোর সম্ভাবনা অন্তত নেই। গতকাল বিকেলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) জরুরি ভিত্তিতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি শাহরিয়ার খান এখন হুট করে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার পক্ষে মত দেননি। তবে এশিয়া কাপের দলে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন এনেই বিশ্বকাপে দল পাঠানোর কথাও বলে দিয়েছেন তিনি। তাঁদের এশিয়া কাপ ব্যর্থতা ঘিরে এত কিছু ঘটে যাচ্ছে যে এর উত্তাপ গায়ে না মেখে থাকাও কঠিন। অবশ্য বিশ্বকাপের আগে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপের শেষ ম্যাচটি খেলার আনুষ্ঠানিকতাও আছে। এর আগের দিনটি বিশ্রামেই কাটল আফ্রিদির দলের। সন্ধ্যায় হোটেল লা মেরিডিয়ানে ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাই কমিশনের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও সদলবলেই উপস্থিত ছিলেন তাঁরা।

আর এমন সময়ে সংবর্ধনা দেওয়া হলো, যখন দলটি পারফরম্যান্সের জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত। সাবেক অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদ তো আফ্রিদির সমালোচনায় রীতিমতো উচ্চকিত। পাকিস্তানের হয়ে খেলার যোগ্যতা তিনি আরো কয়েক বছর আগেই হারিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এ ব্যাটসম্যান। আর দলের কোচ আরেক সাবেক অধিনায়ক ওয়াকার ইউনুসও কম বিরক্ত ছিলেন না দলের পারফরম্যান্স নিয়ে, ‘আমরা মোটেও ভালো খেলিনি। চেষ্টা করেছি তবে সেটি যথেষ্ট ছিল না। বিশেষ করে ব্যাটিংটা খুব বাজে করেছি। এটা ছিল ১৬০-১৭০ রান করার উইকেট। কিন্তু প্রথম ১০ ওভারেই বাজে ব্যাটিং করলাম আমরা। দ্রুত বেশ কিছু উইকেট হারিয়ে ফেলাতেই এই দশা হলো আমাদের।’

এমন দশা হলে ক্রিকেটারদের প্রতিকৃতি কখনো কখনো সত্যিই পোড়ে নয়তো পোড়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে!

মন্তব্য